Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

দুপচাঁচিয়ার লাশবাহক মুক্তারের গল্প


আগামী নিউজ | দেওয়ান পলাশ, দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০২১, ০৫:২৬ পিএম
দুপচাঁচিয়ার লাশবাহক মুক্তারের গল্প

ছবি: আগামী নিউজ

বগুড়া: পাঁচ বছর বয়সেই পিতা শুকুর আলী কে হারায় মুক্তার হোসেন। মায়ের সাজানো গোছানো সংসার ভেঙে যায়। স্বামীহারা মা তিন পুত্র  আর এক কন্যা সন্তান নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করেন। স্বামীগৃহে টিকতে না পেরে সন্তানদের নিয়ে মুক্তার হোসেনের নানাবাড়ী চলতে আসতে বাধ্য হয় মা।

বগুড়ার জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার কাথোহালী গ্রাম থেকে মুক্তার হোসেনের মা একই উপজেলার নানাবাড়ি আশুঞ্জা গ্রামে বসত করতে শুরু করে। অভাবের তাড়নায় সন্তানেরাও ছুটে যেতে থাকে জীবিকা অর্জনের পথে।

ছেলেবেলা থেকেই মুক্তার হোসেন  খাবারের লোভে নিকটস্থ  চৌমূহনী বাজারে  সময় কাটাতে শুরু করে। সেখানেই পথের ধারে রাত্রিযাপন করত। অনেকদিন পর পর বাড়ি ফিরত মুক্তার হোসেন।

একদিন হঠাৎ মালবাহী ট্রাকে উঠে পড়ে মুক্তার হোসেন । সে জানে না তার গন্তব্য কোথায়। পরে জানতে পারে সে পৌঁছে গেছে কুষ্টিয়া শহরে। সেখানে আশ্রয় হয় এক ব্যবসায়ীর কাছে। ১৪ বছর কেটে যায় ওই শহরেই। ২১ বছর বয়সে আবার ফিরে আসে মায়ের কাছে। মুক্তার হোসেনের মা ভেবেছিল তার ছেলে হারিয়ে গেছে চিরদিনের মত। হঠাৎ আগমনে মা আবেগে আত্মহারা হয়ে উঠে।

ফিরে এসে জীবিকা অন্বেষণ মুক্তার হোসেনের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। কোন কাজে যেন স্থায়ী হতে পারে না সে। জীবন চলার পথে পরিচয় হয় লাশবাহক আইনুল হোসেনের সাথে। অবশেষে তার সাথেই সহযোগি হিসাবে কাজ করতে শুরু করে মইনুল। আইনুল হোসেন শারিরীক অপারগতায় লাশ বহনের কাজ ছেড়ে দিলে লাশ বহনের কাজ পরিপূর্ণভাবে শুরু করে মুক্তার হোসেন।

মুক্তার হোসেন আগামী নিউজ কে জানায়, খুন, আত্মহত্যাসহ বিভিন্ন অস্বাভাবিকভাবে  মৃত ব্যক্তিদের লাশ বহন করে থানায় নিয়ে যাওয়া এবং ময়না তদন্তের প্রয়োজনে জেলা শহরের হাসপাতালের মর্গে পৌঁছানোর কাজ তার জীবিকার জন্য অন্যতম পেশা হয়ে উঠেছে। এছাড়া চৌমূহনী বাজারে ভ্রাম্যমান চা দোকানি হিসাবেও কাজ করে মুক্তার হোসেন।

মুক্তার হোসেন আরও জানায়, লাশ বহনের জন্য তার নিজের কোন গাড়ী নাই। এজন্য তাকে গাড়ী ভাড়া নিতে হয়। অনেক সময় গাড়ী ভাড়া নিতে বেগ পেতে হয় তার।

মুক্তার হোসেনের স্ত্রী সাজেদা বানু জানায়, তারা অন্যের জায়গায় কোনরকমে ঘর বানিয়ে বসত করছেন। বিদ্যূৎ সংযোগ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট অফিসে জায়গার দলিলের ফটোকপি দিয়ে আবেদন করতে হয়। কিন্তু জায়গার মালিক কোন কাগজপত্র দিতে চান না। ফলে বিদ্যূৎসংযোগ নিতে না পারায় জীবনের অন্ধকারের সাথে রাতের অন্ধকার মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়।

গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন হেলাল বলেন, মুক্তার হোসেন জীবনের সাথে প্রবল লড়াই করে সমাজে টিকে আছে। মুক্তার হোসেনের লাশবাহক পেশা জীবন চলার পথে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।

আগামীনিউজ/ হাসান