Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

শতবর্ষী রমনা লোকাল ট্রেন বন্ধ, সুবিধা বঞ্চিত ৯ উপজেলার জনসাধারণ 


আগামী নিউজ | আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২১, ০৩:৪৬ পিএম
শতবর্ষী রমনা লোকাল ট্রেন বন্ধ, সুবিধা বঞ্চিত ৯ উপজেলার জনসাধারণ 

ছবি: আগামী নিউজ

কুড়িগ্রাম: রাজারহাট-কুড়িগ্রাম রুটে  প্রায় দুই বছর ধরে রমনা লোকাল ট্রেনটি বন্ধ থাকলেও চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। প্রায় শতবর্ষ থেকে চলে আসা রমনা লোকাল ট্রেনটি বন্ধ হওয়ায় স্বল্প খরচে নিরাপদ ভ্রমনের সুযোগ বঞ্চিত হচ্ছেন কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলার প্রায় ২০লক্ষ মানুষ।

জানা গেছে,কুড়িগ্রামের চিলমারী রমনা থেকে রাজারহাট হয়ে লালমনির হাট জেলা সদরের তিস্তা রেল ষ্টেশনের দূরত্ব ৫৭কিলোমিটার। এরমধ্যে ৪৩কিলোমিটার রেলপথ পড়েছে কুড়িগ্রামের জেলায়। ১৯২৮সালের ২আগষ্ট রমনা চিলমারী থেকে রেল যোগাযোগ শুরু হয়। যাত্রীদের সুবিধার্থে ওই সময় ৪৩কিলোমিটারের মধ্যে ৮টি রেল স্টেশন স্থাপন করা হয়। এরপর রমনা-পারবর্তীপুরে সকাল-সন্ধ্যায় ২টি এবং রমনা-লালমনির হাট রেল সড়কে দুপুর ও রাতে ২টি সহ মোট ৪টি ট্রেন চলাচল শুরু করে। ২০০২সালে রমনা-পারবর্তীপুর গামী একটি এবং রমনা-লালমনিরহাট রুটের দু‘টি সহ মোট ৩টি ট্রেন বন্ধ করে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ। তারপর থেকে শুধুমাত্র একটি রমনা লোকাল ট্রেন পারবতীপুর থেকে রমনা এবং রমনা থেকে তিস্তা মোট ৪বার যাতায়াত করতো। 

তবে গত ২০২০সনের ৮মার্চ দুপুরে অন্যান্য দিনের মতো কুড়িগ্রামের চিলমারী রমনা থেকে রাজারহাট হয়ে পারবর্তীপুর অভিমূখে ছেড়ে যাওয়ার পর ১বছর ৮মাসেও ফিরে আসেনি রমনা লোকাল ট্রেনটি। পরে জানা যায়,কোভিড-১৯ সংক্রমন রোধে অন্যান্য ট্রেন গুলোর মতো রমনা ট্রেন যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে সারাদেশে বন্ধ থাকা অন্যান্য ট্রেনগুলো চালু হলেও অজ্ঞাত কারনে আজ অবধি চালু হয়নি রমনা লোকাল ট্রেন। এই ট্রেনটি চালু থাকাকালীন সময়ে স্বল্প খরচে,সহজে এবং নিরাপদে কুড়িগ্রামের চিলমারী থেকে রাজারহাট উপজেলার উপর দিয়ে রংপুর হয়ে পার্বতীপুর পর্যন্ত জন সাধারণ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতো। এছাড়া ট্রেনে অল্প খরচে পান-সুপারীর চালান সহ বিভিন্ন পন্য দ্রব্য অল্প খরচে নিরাপদে একস্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম ছিল রমনা লোকাল ট্রেন। ফলে বর্তমানে সাধারণ ব্যবসায়ী সহ কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলার প্রায় ২০লক্ষ মানুষ সুবিধা বঞ্চিত রয়েছেন।  

রাজারহাট থেকে রমনা লোকাল ট্রেনে কুড়িগ্রাম,উলিপুর ও চিলমারীর নিয়মিত যাত্রি ছিলেন এমন ব্যক্তি রিয়াজুল,নুর মোহাম্মদ নুরু ও মাইদুল জানান,ট্রেনটি চালু থাকাকালীন অল্প খরচে নিরাপদে এই ট্রেনে গিয়ে কাজ সেরে দুপুরে ফিরতি ট্রেনে বাড়ি আসা যেত,এখন আমরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত ।

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ছাত্র আরমান,জামিল,মুকুল চন্দ্র বলেন,আগে সকালের রমনা লোকাল ট্রেনে কুড়িগ্রাম গিয়ে কলেজের ক্লাশ শেষে আবার দুপুরের ট্রেনে বাড়ি ফেরা যেত,এতে করে অল্প খরচে হতো। ট্রেনটি বন্ধ থাকাতে তাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে বলে জানান।

ব্যবসায়ী মঞ্জুরুল ইসলাম জানান,আমার মতো অনেক ব্যবসায়ী সুপারী সহ অন্যান্য মালামাল বুকিং দিয়ে তিস্তা,কাউনিয়া,রংপুর,পারবর্তীপুর সহ বিভিন্ন স্থানে অল্প খরচে পরিবহন করতো,আমরাও প্রায়ই ব্যবসায়িক কাজে ওই ট্রেনে যাতায়াত করতাম। এখন ট্রেনটি বন্ধ থাকায় ভীষন বিপদে আছি।

লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ জানান,আমরা চেষ্টায় আছি ট্রেনটি পূণঃরায় চালু করার,তবে কবে থেকে চালু হবে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

আগামী নিউজ/ হাসান