Dr. Neem
Dr. Neem Hakim
তথ্যসেবা ও নেটওয়ার্কে ভোগান্তি

আলোর মাঝে অন্ধকার বুড়িঘাট ইউনিয়ন


আগামী নিউজ | নিউটন চাকমা, রাঙামাটি প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২১, ০৯:৫০ পিএম
আলোর মাঝে অন্ধকার বুড়িঘাট ইউনিয়ন

ছবি: আগামী নিউজ

রাঙ্গামাটি: জেলার নানিয়ারচর উপজেলায় দীপংকর তালুকদারের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ধাপে-ধাপ পদক্ষেপ গ্রহনে উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ইত্যাদিসহ উপজেলা সদরে দিন দিন উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেলেও বদলায়নি অন্যতম ইউনিয়ন বুড়িঘাট এলাকার ইউনিয়নটি। এখনো এই  ইউনিয়নের বাসিন্দারা মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ সেবায় আওতায় এলেও নেটওয়ার্কের দুর্বলতার কারনে কথা বলাসহ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের নানামুখী সমস্যা সম্মুখীন। এলাকার নেই কোন ইউনিয়ন তথ্যসেবা সেন্টার ও  ডিজিটাল সেন্টার। 

এলাকাবাসীরা অভিযোগ করে জানান, সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড ও তথ্যসেবা অনলাইনে বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমগুলো থেকে স্কুল, কলেজ ও সচেতন ব্যক্তিরা এসবই বঞ্চিত রয়েছেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি, গ্রামকে শহরে পরিণত করা। সেই প্রেক্ষিতে রাঙ্গামাটি জেলার প্রতিটি উপজেলা গুলোকে সদর হতে ইউনিয়ন পর্যায়ে যোগাযোগের ব্যবস্থাসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য ব্যবস্থাসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে এখনো অনুন্নত ও শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা পৌছাঁয়নি। যেজন্য ঐসব এলাকা সাধারণ জনগণ বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত। তম্মধ্যে মোবাইল নেটওয়ার্ক, রাস্তাঘাট ও স্বাস্থ্য সেবা। তারমধ্যে নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নটি এখনো পিছিয়ে পড়ে এসব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। পাশাপাশি কাউখালী উপজেলার পোড়া আদাম, নোভাঙ্গা, ডলুছড়ি ও বর্মাছড়ি এলাকাটি।

এদিকে আরও জানা গেছে, অবহেলিত ও অনুন্নত উপজেলার মধ্যে বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়ন, বরকলের বড় হরিণা, বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়ন, জুড়াছড়ির দুমদুম্যা ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে এখনো উন্নয়ের ছোঁয়া লাগেনি।

অন্যদিকে নানিয়ারচর উপজেলার সদরে সেতু স্থাপনের মাধ্যমে উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে দিয়েছে পুরো নানিয়ারচর সদর এলাকাকে। যা এক সময়ে নানিয়ারচর উপজেলাটি ছিল অত্যন্ত দুর্গম এলাকার জনপদ। উপজেলা সদরটি উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নটি উন্নয়নের ছোঁয়ায় পৌছায়নি।  

বুড়িঘাট ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা সদরে দুর্গম ও দূরদর্শী হওয়ায় আসা-যাওয়া অনেকটা ব্যয়বহুল। বুড়িঘাট এলাকাটি জনবহুল  ইউনিয়ন।অথচ মুঠোফোন সেবা ও মডেমের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ  থাকার পরেও সেখানকার স্থানীয়রা জন্মনিবন্ধন, ভিজিডি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিকাশ কিংবা নগদ সেবা ও স্কুল শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ভর্তি তথ্য নিবন্ধন করার সুযোগ-সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তাছাড়া বুড়িঘাট ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা ডিজিটাল কেন্দ্রটি সদর উপজেলা সদরে হওয়ায় এলাকাবাসিরা এই সেবা থেকে চরম ভোগান্তি পড়তে হচ্ছে বুড়িঘাটের স্থানীয় বাসিন্দারা।

আবুল কালাম ও চন্দ্র জয় চাকমা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তির একাউন্ট  বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ভাতা, জন্মনিবন্ধন, ভিজিডি, বয়স্ক ভাতা, ট্রেড লাইসেন্স, স্কুল, কলেজ শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন  ক্লাস, উপবৃত্তি, বিকাশ কিংবা নগদ খোলা ইত্যাদি সেবা পাচ্ছেন না। সুতরাং বুড়িঘাটে তথ্যসেবা ও ডিজিটাল সেন্টার বাড়িয়ে এলাকার মান্নোয়নের জন্য রাঙামাটি জেলা প্রশাসক ও নানিয়ারচর উপজেলার ইউএনওর সুদৃষ্টি নজরে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা।   

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি মেম্বার মালেক বলেন, বুড়িঘাট ইউনিয়ন থেকে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও  রাস্তার মাধ্যমে মোটরবাইকে উপজেলায় যাতায়াত করতে প্রায় কয়েক ঘন্টা লেগে যায়। বুড়িঘাট ইউনিয়ন এর সাথে সদর উপজেলার কোন বাস যোগাযোগ না থাকায় মোটরসাইকেল গ্রাহককে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কার্য-সম্পাদন করতে হয়। এতে ইউনিয়নের জনগণকে এসব সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বুড়িঘাট ইউপি চেয়ারম্যান প্রমোদ খীসার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যেহেতু ইউনিয়নবাসীদের ডিজিটালের সকল ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম চাহিদায় সহযোগীতার জন্য আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেহেতেু বুড়িঘাটে ছোট আকারে একটি সাব  ডিজিটাল সেন্টার ও তথ্যসেবা স্থাপন করা হলে এলাকাবাসীদের সুবিধার্থে এবং সকল শ্রেণীর মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বুড়িঘাট এলাকার সেবার মানও বাড়বে এবং জনগন উপকৃত হবে। সেজন্য কর্তৃপক্ষের নিকট এ বিষয়টি আমলে নিয়ে ইউনিয়নবাসির উপকারে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

আগামী নিউজ/ হাসান