Agaminews
Dr. Neem
Dr. Neem Hakim
আগামী নিউজে সংবাদ প্রকাশ

নাটোরে টিকার অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি


আগামী নিউজ | আব্দুল মজিদ, নাটোর প্রতিনিধিঃ  প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২১, ০৯:১৯ পিএম
নাটোরে টিকার অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে  তদন্ত কমিটি

ছবিঃ আগামী নিউজ

নাটোরঃ মাল্টিমিডিয়া অনলাইন নিউজ পোর্টাল আগামী নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রতন কুমার সাহার বিরুদ্ধে উপজেলাধীন ৫ টি ইউনিয়নে করোনা ভ্যকসিনের কার্যক্রম পরিচালনা না করেও বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে গঠিত তদন্ত কমিটি। ৩ সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিটি বিষয়টির তদন্ত শেষে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোন আদেশ আসেনি।

উল্লেখ্য গত ১৯ জুলাই আগামী নিউজে “নাটোরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সিভিল সার্জন ডাক্তার মিজানুর রহমান বুধবার (৮ আগষ্ট)  দুপুর পর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বাগাতিপাড়া উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনা ভ্যকসিনের কার্যক্রম পরিচালনা না করেও বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ২৭ জুলাই নাটোর সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট(সার্জারী) ডাঃ আরশেদ আলীকে সভাপতি, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ রাসেলকে সদস্য সচিব এবং বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আসাদুজ্জামানকে সদস্য করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

গত ১ আগষ্ট ওই তদন্ত কমিটি তদন্ত সম্পন্ন করে ৫ আগষ্ট প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচী না হওয়া স্বত্বেও ব্যায়ের বিল দাখিল করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে যা বিধিসম্মত হয়নি । এক প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন মিজানুর রহমান আরো বলেন, কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। তবে এব্যাপারে এখনও কোন আদেশ আসেনি।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৩১মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা প্রতিরোধ ভ্যকসিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল কস্ট এর বরাদ্দকৃত অর্থের বাজেট ঘোষণা করেন। এমএনসিএন্ডএএইচ এর লাইন ডাইরেক্টর ডাক্তার মোহাম্মদ শামসুুল হক সে অনুযায়ী জেলার অন্যান্য উপজেলার ইউনিয়ন সংখ্যা অনুযায়ী বরাদ্দ ঘোষণার পাশাপাশি বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডের জন্যও সর্বমোট প্রায় ১৭লক্ষ ৪৯হাজার টাকা বরাদ্দ দেন। বিবরণীতে বলা হয়, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ১টি করে মোট ১২টি টিমে টিকাদানকারী হিসেবে প্রশিক্ষণ শেষে ২৪ জন কাজ করবেন। প্রতি টিমে ৪জন করে  মোট ৪৮জন সেচ্ছাসেবী থাকবেন। খরচের বিবরণীতে সংশ্লিষ্ট সকলের আপ্যায়ন, ডিস্ট্রিবিউট পয়েন্ট পর্যন্ত ভ্যকসিন ও লজিস্টিক পরিবহন ব্যয়, ভিজিট ব্যয়, স্বাস্থ্য বিধান সামগ্রী ব্যয়, অনিয়মিত শ্রমীকদের খরচ এবং অংশ গ্রহনকারীদের সম্মানীভাতা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। সে অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ পাঠালেও ভ্যকসিনের অভাবে জেলার কোথাও ইউনিয়ন পর্যায়ের এসকল টিকাদান ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে জেলা থেকে শুধুমাত্র উপজেলা পর্যায়ে ভ্যকসিন আনা-নেয়া সহ অন্যান্য কিছু খরচ হলেও সঙ্গত কারণেই মোট বরাদ্দের একটা বড় অংশ জেলার অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সরকারকে ফেরত পাঠায়। কিন্তু বাগাতিপাড়া উপাজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা সকল কার্যক্রমরে ভুয়া ভাউচার তৈরী করে সেগুলো স্বাস্থ্য বিভাগে অর্পণ পূর্বক বরাদ্দের সমস্ত টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে আগামী নিউজ সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা  নিয়ম মেনে সকল কাজ সম্পন্ন করে বিল উত্তোলন করার দাবী করেন।