Agaminews
 অমর একুশে
Dr. Neem Hakim

বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির অস্তিত্বের লড়াই


আগামী নিউজ | নাহিদ আল মালেক, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১, ১১:১৭ এএম
বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির অস্তিত্বের লড়াই

সংগৃহীত

বগুড়াঃ পঞ্চমধাপে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার দেশের বৃহত্তম পৌরসভা বগুড়ার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রচার প্রচারণায় সরব ৪ মেয়র প্রার্থীসহ ১৮৪জন প্রার্থী। বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা যেমন বিএনপির অস্তিত্বের লড়াই তেমনি রয়েছে আওয়ামী লীগের জয়ের পতাকা উড়ানোর লড়াই।

১৮৭৬ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত প্রথম শ্রেণির বগুড়া পৌরসভার বর্তমান আয়তন ৬৯.৫৬ বর্গকিলোমিটার। ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে প্রতিষ্ঠিত দেশের বৃহত্তম ও অন্যতম এ প্রাচীন পৌরসভার আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ইভিএম (ইলেকট্রনিক্স ভোটিং মেশিন) এর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে ৪জন, ৭টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৫০ জন নারী এবং ২১টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে দুই নারীসহ ১৩০জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীরা হলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঠিকাদার আবু ওবায়দুল হাসান ববি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও স্থানীয়  দৈনিক বগুড়া পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশক রেজাউল করিম বাদশা, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশিষ্ট পরিবহন মালিক নেতা জগ প্রতীকের আব্দুল মান্নান আকন্দ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকের মাওলানা আব্দুল মতীন।

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকদের মাঝে নির্বাচনী উত্তেজনা তত বাড়ছে। দিন-রাত প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী নানা প্রতিশ্রুতি দেবার মাধ্যমে ভোট প্রার্থনা করছেন। তবে এবার বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো মেয়র প্রার্থী ৪জনই নির্বাচনে নতুন মুখ। আর ৪৩ বছর পর এমন একজন মেয়র নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন যিনি আইনজীবি নন।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবু ওবায়দুল হাসান ববি জানান, শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে মেয়র নির্বাচিত হলে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নয়নের চেষ্টা করবো।

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি বগুড়ার উন্নয়নে বিএনপি ছাড়া অন্য কোন সরকার এগিয়ে আসেনি। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে নাগরিক সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা করবো।
এদিকে জগ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আব্দুল মান্নান আকন্দ ফেসবুক লাইভ ও ব্যতিক্রমী প্রচারণায় জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চমক সৃষ্টি করেছেন। প্রচারণায় রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল মতীনও।

এদিকে নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বগুড়ার সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ জানান, বগুড়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ডের ১১৩টি ভোট কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট নেয়া হবে। ৮৩০টি  বুথে ভোট নেয়া হবে। নির্বাচনে সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ২লাখ ৭৫হাজার ৮৭০জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯০৬জন আর নারী ভোটার ১ লাখ ৪০ হাজার ৯৬৪ জন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত বগুড়া পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী এ্যাড. মাহবুবার রহমান ১লাখ ৭হাজার ৩৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ্যাড. রেজাউল করিম মুন্টু পান ৪৯ হাজার ৪১৭ ভোট। ২০১১ সালের বগুড়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী এ্যাড. মাহবুবার রহমান ৯৬ হাজার ৩৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এ্যাড. রেজাউল করিম মুন্টু পান ৫৯ হাজার ৩৫৫ ভোট।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বগুড়া পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন বিএনপি নেতা এ্যাড. জহুরুল ইসলাম। তিনি টানা চারবার বগুড়া পৌরসভার মেয়র হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৯৯ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় বগুড়া পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাড. রেজাউল করিম মুন্টু। ২০০৪ সালের নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা এ্যাড. মাহবুবার রহমান। তিনি পরপর তিনবার বগুড়া পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

আগামীনিউজ/এএস