Agaminews
Dr. Neem Hakim

এক ভবনেই ভেস্তে যাচ্ছে বান্দরবানের আড়াই কোটি টাকার প্রকল্প


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২১, ০৭:০১ পিএম
এক ভবনেই ভেস্তে যাচ্ছে বান্দরবানের আড়াই কোটি টাকার প্রকল্প

ছবিঃ আগামী নিউজ

বান্দরবানঃ ব্যক্তিমালিকানাধীন এক ভবনেই ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ প্রকল্প। উন্নয়নের জন্য খাল সংস্কারে পাহাড় কেটে পাকা ড্রেনেজ নির্মাণ করেও কোন সুফল পাবেনা পৌরবাসী। ঘটনাটি বান্দরবান পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কালাঘাটা এলাকায়।

জানা গেছে, পৌরসভার বাৎসরিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় পৌরসভার বড়ুয়ার টেক থেকে কালাঘাটা হয়ে সাঙ্গু নদীতে পানি নিষ্কাষণের জন্য বান্দরবান পৌরসভা থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে খাল সংস্কারে ড্রেনেজ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদার ইউটি মং (তবে নামে ইউটি মং হলেও তার নিবন্ধিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজটি করছে সৌরভ দাশ শেখর)। অন্যদিকে খাল প্রসস্থ করার আগে থেকেই ড্রেনেজের উপর কালাঘাটার বড়ুয়ারটেক এলাকায় ড্রেনেজের পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে নিজস্ব আলিশান ভবন তৈরী করছেন ননী গোপাল দাশ নামে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। তবে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হবে জেনেও চুপ রয়েছে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিরা। বিষয়টি এমন যে প্রকল্প নির্মাণ হলেই হলো পানি নিষ্কাশন হলো কি'না দেখবে না পৌরসভা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,  পৌরসভার কালাঘাটার বড়ুয়ারটেক এলাকায় ড্রেনেজের পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে নিজস্ব ভবন তৈরী করছেন ননী গোপাল দাশ। পাঁচ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে তিনি নির্মাণ করছেন আলিশান ভবন। তার নির্মানাধীন ভবন ঠিক ড্রেনেজের উপর পড়েছে। তবে সাবেক সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া ননী গোপাল দাশের দাবি, এতে পানি প্রবাহের বাধার সৃষ্টি হবে না। পানি প্রবাহকে স্বাভাবিক রেখেই তিনি ভবন নির্মাণ করছেন। পৌরসভা থেকে তিনি অনুমতিও নিয়েছেন। 

ননী গোপাল দাশ বলেন, আমি আমার ভবন টি পৌরসভার অনুমতি নিয়ে সম্পূর্ন বৈধ ভাবে তৈরী করছি। পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী আমাকে এখানে ভবন নির্মাণে সরাসরি অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদন না পেলে আমি এই বাড়ী নিমার্ণ করতাম না।

তবে পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী জানান, আমি অনুমতি দিয়েছি কি'না আমার জানা নেই। ভবন যত বহুতলই হোক না কেন পানি প্রবাহে বাঁধার সৃষ্টি হলে তা অবশ্যই ভেঙ্গে ফেলা হবে।

পৌরসভার একমাত্র পানি নিষ্কাশন খালটির নির্মাণাধীন ড্রেনটির উপরে যে ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে তা সহসাই পানি প্রবাহের বাধার সৃষ্টি করবে বলে জানান স্থানীয়রা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, এই ভবনের ফলে এত টাকার প্রকল্পের কাজ ভেস্তে যাবে। 

এ বিষয়ে বান্দরবান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম জাহাঙ্গীরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, এটা দেখভালের দায়িত্বে পৌরসভার। তবে কোন ভাবেই পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হয় এমন কোন কার্যকলাপ চলতে দেয়া যাবে না।

জানতে চাইলে বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌছিফ আহমেদ জানান,  এ বিষয়ে আমি অবগত নই তবে অবশ্যই ড্রেনের  পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয় এমন কোন কিছু করতে দেয়া হবে  না। আমি খোঁজ নিয়ে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 

তবে এ বিষয়ে জানতে বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

আগামী নিউজ/এএইচ