Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

জৈব : রাসায়নিক তর্ক নয়, প্রয়োজন নিরাপদ খাদ্যের


আগামী নিউজ | আগামী নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২২, ০৩:১০ পিএম
জৈব : রাসায়নিক তর্ক নয়, প্রয়োজন নিরাপদ খাদ্যের

ঢাকাঃ ২০০৬ থেকে জৈব সার উৎপাদনের সাথে জড়িত আছি। ২০১১ তে এসে উপকারী ব্যাকটেরিয়া, ট্রাইকোডার্মা, জৈব কীট ও বালাইনাশক ব্যবহার শিখেছি।

কাজ করতে গিয়ে সামান্য যতটুকু বুঝেছি তা হলো, কৃষির তিনটি (৩) শত্রু আছে।

১. পোকা ২. ছত্রাক ৩. ব্যাকটেরিয়া

এই তিন শত্রুকে দমন করতে শতশত ঔষধ ও বিষ ব্যবহার হচ্ছে। অথচ মাত্র তিনটি জৈব সলিউশনে ফসলকে বাঁচানো সম্ভব। যদি কেউ নিজে তৈরী করে তাহলে ম্যাক্সিমাম হাতের নাগালেই পাওয়া সম্ভব। তৈরীর ঝামেলায় না গিয়ে কিনতে চাইলেও তা দামে কম।(সচরাচর না পাওয়ার কিছু কারণ আছে)

ভেষজ, ফুড সাপ্লিমেন্ট, ফাংশনাল ফুড, হোমিওপ্যাথি ঔষধে যেমন আমাদের কনফিডেন্স নেই, ঠিক তেমনি জৈব সলিউশনেও কনফিডেন্স নেই। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন, উল্টাপাল্টা ভেষজ বা হোমিও খেলে হিতে বিপরীত হয়। ঠিক জৈব সলিউশনের বেলায়ও তাই।

দেশী, বিদেশী, উফশী, হাইব্রিড ফসলের জন্য আলাদা চরিত্রের সার প্রয়োজন হলেও মূল ১৪ টি উপাদান সকল ফসলের জন্য প্রযোজ্য। এই ১৪ টার মধ্যে আলো, পানি,‌ বাতাস বাদ দিয়ে বাকি ১১ টি উপাদান কোন না কোন ভাবে তাকে দিতেই হবে। যেমন পোলাও আর পান্তা‌ ভাত আলাদা হলেও দুটোর জন্যই চালের প্রয়োজন হয়।

রাসায়নিক কীটনাশক দিয়েও ফসল নিরাপদ করা সম্ভব, যদি উইথড্রল পিরিয়ড মেইনটেইন করা যায়। তবে সবজির ক্ষেত্রে তা অনেক সময় প্রায় অসম্ভব। কেননা রাসায়নিক কীটনাশক ৭ থেকে ২৮ দিনের উইথড্রল পিরিয়ড থাকে। আমরা সবাই জানি, কোন সবজি এতদিন জমিতে বা গাছে রাখা যায় না।

আমি কিছু জমি সবজি চাষের আওতায় এনেছি। অনেকখানি জায়গা বালি দিয়ে ভরাট করা, যেখানে পূর্বে কখনোই কোন ফসল চাষ করা হয়নি। সেখানের কিছু অংশে ছিল কাশবন। অনেকেই পরামর্শ দিয়েছিলেন গ্লাইফোসেট দিয়ে দমন করতে। অবশ্যই উনারা আমার হিতাকাংক্ষী। লেবার খরচ বাঁচাতে গ্লাইফোসেট এখনো সেরা। তবে আমি তা করিনি। কাশবন লেবার দিয়ে উপ্রে ফেলেছি। বালিতে গর্ত করে মাটি, গোবর, কম্পোস্ট পোল্ট্রি লিটার, জৈব সার, ট্রাইকোডার্মা দিয়ে চাষ করছি। মাটি এনেছি এমন জায়গা থেকে, যেখানে জীবনে কখনোই চাষ হয়নি। সেটা হলো প্রায় ৮ ফিট উঁচু টিলা কাটার নিচের অংশ। কিছু অংশ আছে লাল মাটি, যা বিগত ৩/৪ বছর ব্যবহার হয়নি। সম্পূর্ণ প্রজেক্টের মাটিতে জৈব সার ও NPKS ব্যবহার করেছি। 

পোকা ও রোগবালাইয়ের জন্য ১০০% জৈব সলিউশন ব্যবহার করবো ইনশাআল্লাহ। কোন প্রকার রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করবো না। বিগত ১২ বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, রোগ ও পোকার জন্য জৈব সলিউশন যথেষ্ট। কোন প্রকার রাসায়নিক বিষ বা হরমোনের প্রয়োজন হয় না।

ফসল দৃশ্যমান হলে ভোক্তা সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেবো। যেন বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি খেতে আগ্রহী ভোক্তাগণ নিজ চোখে দেখে পরখ করে যেতে পারে। আমি আশাবাদী, ফসল দেখে ও চেখে আসল পার্থক্য অনুধাবন করতে পারবে। 

উৎপাদিত ক্যামিকেল মুক্ত নিরাপদ পণ্য সমূহ:

-সিজনাল সবজি, পেয়ারা, বরই, পেঁপে,‌ মুরগী। 

কষ্ট করে এতদুর পড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ, আর এজন্যই আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি একবার ঘুরে যাবার জন্য।

এসএস