Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

ক্ষমা করবেন চৌধুরী খালেকুজ্জামান


আগামী নিউজ | মহিউদ্দিন মখদুমী প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২২, ১১:১৫ পিএম
ক্ষমা করবেন চৌধুরী খালেকুজ্জামান

আমরা এরকই চৌধুরী খালেকুজ্জামান স্যার। আমরা অল্প জ্ঞানেই অহংকারী। আমরা ভাসা ভাসা ইতিহাস জানি। নিজেরা পড়ি না কিন্তু পড়তে বলি। স্তুতি গাই। নাম জাহিরের জন্য ছাইপাই লিখি। বই বের করি। ব্যক্তিগত পাঠাগারে হাজার হাজার বই উইপোকা কাটে। সাদা কাঁচের ভিতর চক্চক্ করে। বছরে একদিন ও চোখ বুলিয়ে দেখা হয়ে উঠে না। তবে সাহিত্য আসরে ঠিকই কথার ফুলঝুঁড়ি আওড়াই। নেতৃত্বের প্রতিযোগীতায় নামি। সাহিত্য সংগঠনের ভিতর দলাদলি করি। গ্রুপিং করি। আমরা এরকই চৌধুরী খালেকুজ্জামান স্যার।

তোমাদের জানার দিগন্ত বাড়াতে হবে। জ্ঞানের দিগন্ত বিকশিত করতে হবে। আপনার বলা কথা গুলো ভেতরে বাহিরে অনুরণন তোলে ঠিকই কিন্তু আমরা এড়িয়ে যাই বাস্তবতার জন্য। আমাদের কাছে জ্ঞানের চেয়ে পেটের ক্ষুধার মূল্য অনেক বেশী। আমাদের কাছে ইতিহাস ঐতিহ্য ধারণ করার চেয়ে বাড়ী গাড়ী ব্যাংক ব্যালেন্স বৃদ্ধির লড়াইটাই বড়। আমাদের কাছে দিন শেষে টাকার অংক আঙুলে গণণা করাই বাস্তবতা। এই সব বই টই পড়ার সময় কোথায়? প্রকৃতিতে বসন্ত এসেছে নিমফুলের সৌরভ উপলব্ধির সময় আমাদের নেই। লকলক করে বেড়ে উঠা কচি সবুজ পাতার নৃত্যের দৃশ্য চোখ এড়িয়ে যায় অথবা বাসন্তী পূর্নিমার নিরব মায়াবী আলো আমাদের গভীর ঘুমের কাছে লজ্জ্বা পেয়ে হাসে। আমরা এরকই চৌধুরী খালেকুজ্জামান স্যার।

আমাদের জীবন এখন পলিথিন ব্যাগের মতো সহজলভ্য। সেখানে যৌনতার উল্লাস আছে, দারিদ্রতা আছে। আছে, কামনা বাসনা রোগ শোক প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির আনন্দ। এইসব অনিবার্য সত্যকে মেনে নিয়ে কল্পনার গোপন জগতে শান্তি খোঁজা মনে প্রফুল্লতা আনে। জ্ঞানের জন্য চাই কল্পনা প্রতিভা। গভীর কল্পনার মধ্যে যেতে পারলে প্রতিভার কাছাকাছি যাওয়া যায়। যে যত বেশী কল্পনা করতে পারবে তার ততবেশী জানার দিগন্ত প্রসারিত হবে। জানার আগ্রহ বাড়বে। এই জানার আগ্রহ তাকে জ্ঞান অর্জনে বাধ্য করাবে। আমরা কল্পনায় টাকা দেখে শান্তি খুঁজি। কল্পনায় বাড়তি টাকা অর্জনের অবৈধপথ খুঁজি। কল্পনায় গিয়ে মনে মনে বলি- আমার যদি--------। আমরা এরকই চৌধুরী খালেকুজ্জামান স্যার।

আপনার ৩৪৫ পৃষ্টার আবহমান-২ ধ্রুবতারা উপন্যাসটি রংপুর বই মেলা থেকে কিনে নেয়ার পর মনে হয়েছিল রাতে পাঠ শুরু করব। সন্ধ্যায় বাড়ীতে ফিরে তরসইছিল না। শুরু করে দিলাম। শত পৃষ্টা পাঠ করে মনে হলো এটি ইতিহাস কথন উপন্যাস। এটি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার রংপুরের টইটুম্বর বাস্তবতা। আপনার লেখায় যেন দেখতে পাচ্ছিলাম. সেই সময়কার প্রকৃতি ও পরিবেশ। নিজেকে কখনো আপনার সৃষ্ট চরিত্র আনিস, কখনো আব্বাস কখনো কবির মনে হয়েছে। পাঠ করছিলাম আর বুদ হয়ে যাচ্ছিলাম শব্দের ভেতর। 

পাঠ বিরতি দিয়ে রাতের খাবার শেষে লিখতে বসলাম। আমাদের পলিথিন জীবন আপনার চিন্তার নান্দনিক দিগন্ত স্পর্শ করতে পারেনি। আপনার জ্ঞানের সমৃদ্ধতা অনুভবেও নিতে পারিনি আমরা। আপনার মেধা, বুননের দক্ষতা, ধীচিন্তা শক্তি, প্রজ্ঞা ও প্রবল জীবনীশক্তি আছে, কাছে গিয়েও ছুঁতে পারিনি আমরা। আপনার ৩৪৫ পৃষ্টার আবহমান-২ ধ্রুবতারা উপন্যাসটি রংপুরের মানুষের জন্য সম্পদ। যেখানে  হাজার হাজার কুমারী শব্দের জীবন্ত গাঁথুনি আছে। যা পাঠ করলে শত বছর পরেও শিহরিত হয়ে উঠবে পাঠকের শরীর। আমাদের ক্ষমা করবেন চৌধুরী খালেকুজ্জামান স্যার। কারণ আমাদের সাধারণ চোখ অসাধারণ আপনাকে চিনতে পারেনি। আমরা এরকই। মধু শেষে মধুর মূল্য বুঝি। 
আত্ন-কথন-৩৫
সাংবাদিক ও লেখক
২৫-০৩-২০২২