Agaminews
 অমর একুশে
Dr. Neem Hakim

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ: অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ


আগামী নিউজ | প্রফেসর ড. এম এম আকাশ প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১, ০১:১৯ পিএম
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশ: অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ

ছবি: আগামী নিউজ

ঢাকাঃ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয় তখন অনেকেই দেশটিকে “A test case for Development” বলে অভিহিত করেছিলেন [দেখুন Just Faaland and Jack R. Parkinsons (১৯৭৬), “Bangladesh The test case for Development”, London C. Hust and Co, 203 pp]। এই অভিধার তাৎপর্যটি ছিল বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে ছুড়ে দেয়া উন্নত দেশের একটি চ্যালেঞ্জের মতো। যারা তখন এটা বলতেন তারা ভাবতেন যে বাংলাদেশে উন্নয়নের পথে এমন কতকগুলি বাধা রয়েছে যা ডিঙিয়ে বাংলাদেশের  উন্নত হওয়াটা হবে খুবই অসম্ভব একটি ব্যাপার।

প্রথমতঃ বাংলাদেশে তখন লোকসংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি আর দেশটির আয়তন ছিল মাত্র ৫৪০০০ বর্গ মাইল। এত অল্প জায়গায় এত বেশি লোক পৃথিবীতে তখন খুব একটা ছিল না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যা ব্যুরোর (বিবিএস) উপাত্ত অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫৭ লাখ। এটি বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ। এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ১১১৬ জন, যা সারা পৃথিবীতে সর্বোচ্চ (কিছু দ্বীপ ও নগর রাষ্ট্র বাদে)।

১৯৪৭-৭১ পর্যন্ত দেশটির ওপর এক ধরনের আধা ঔপনিবেশিক শোষণ (Semi Colonial Exploitation) চালানো হয়েছিল। ফলে দেশের ভেতরে শিল্পায়ণ মাত্রা ছিল কম। অবকাঠামো ছিল দুর্বল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ছিল অবিকশিত। এসব উন্নতির ছিঁটেফোটা যেটুকু ছিল তার সবটাই প্রায় ছিল পশ্চিম পাকিস্তানীদের দখলে। সারা পাকিস্তানে তখন ব্যাংক-বীমা-শিল্প-কারখানা ইত্যাদি সম্পদের সিংহভাগ ছিল কথিত ২২ পরিবারের দখলে এবং তাদের মধ্যে একটি পরিবার ছিলেন বাঙালি (এ. কে. খানের পরিবার)। এছাড়া প্রশাসন যন্ত্রে, আর্মিতে রাজনৈতিক বিভিন্ন উচ্চ পদে, সর্বত্র ছিল পশ্চিম পাকিস্তানীদের প্রাধান্য। সুতরাং পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত আধা-ঔপনিবেশিক শোষণ-নির্যাতন-বৈষম্যের শিকার একটি প্রদেশ হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম প্রতিবাদের রব উঠে ১৯৫২ সালে, পাকিস্তান সৃষ্টির মাত্র ৫ বছর পর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। এর পরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠে ৬ দফা স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন, ১১ দফা জনগণের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ। এসব সংগ্রামের মূলে ছিল বাঙালি জাতির জাতীয় স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা। 

১৯৭১ সালে ৯ মাস এক রক্ষক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জিত হলো ঠিকই কিন্তু দেশের সারা অঙ্গজুড়ে রয়ে গেল ঔপনিবেশিক শোষণের ক্ষতচিহ্ন। পাকিস্তানীরা মুক্তিযুদ্ধের সময় “পোড়া মাটি নীতি” (Scorched Earth Operation) অনুসরণ করেছিল। অর্থাৎ তারা ভেবেছিল, তারা যদি পরাজিত হয়ে এ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় তাহলে তারা যাবার আগে সব জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়ে যাবে। আর এ নীতি তারা অক্ষরে অক্ষরে কার্যকরী করেছিলেন। প্রায় ত্রিশ লাখ মানুষকে হত্যা করে, এক কোটি লোককে উদ্বাস্তুতে পরিণত করে, ফসল ও কারখানা ধ্বংস করে দিয়ে, সমস্ত যোগাযোগব্যবস্থা লণ্ডভণ্ড করে দেয় তারা। সবাই ভেবেছিল বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে দুদিনও টিকতে পারবে না। দেশে দুর্ভিক্ষ হবে। অর্থনীতি আর উঠে দাঁড়াতে পারবে না। পাকিস্তানীরাও তাই আশা করেছিল এবং তাই পরাজয়ের পূর্ব মুহূর্তে তারা বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের রায় ফরমান আলী ও জামাতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত বদর বাহিনীর নীলনকশা অনুযায়ী হত্যা করে যায়। তারা ভেবেছিল, সেভাবেই বাংলাদেশকে তারা নেতৃত্বশূন্য করে দিতে পারবে এবং বাংলাদেশ স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যাবে। আর এসব বাস্তব পাহাড়সম অসুবিধা ও চ্যালেঞ্জগুলির জন্যই অনেক পাশ্চাত্য পণ্ডিতেরা তখন বলেছিলেন যে, এতদ্সত্ত্বেও যদি বাংলাদেশ উঠে দাঁড়াতে পারে, উন্নত দেশে পরিণত হতে পারে, তাহলে বুঝতে হবে যে পৃথিবীর যে কোনও অনুন্নত দেশই একদিন না একদিন উন্নত হবে পারবে। 

আজ শক্রর ‘মুখে ছাই’ দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দাবি করতে পারে যে, বাংলাদেশ ধ্বংস হয়ে যায় নি, মাথা তুলে সে বিশ্বের মাঝে বুক ফুলিয়ে উন্নত দেশ হওয়ার দিকেই এগিয়ে যাবে। 

বাংলাদেশের অর্জনসমূহ

আমরা এখন পৃথিবীতে যে ১১টি দেশকে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য “উদীয়মান এগারো” (Emerging Eleven) বলে অভিহিত করতে দেখছি, সেগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও একটি। 

আমরা গত কয়েক বছর ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের আশেপাশে ধরে রেখেছি। আমাদের দেশে দারিদ্র্যের হার ১৯৭৪ সালে ছিল ৭৫ শতাংশ (অর্থাৎ শতকরা ৭৫টি পরিবারেরই বেঁচে থাকার মত খাবার কেনার সামর্থ্য ছিল না)। আজ সেই হার ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও করোনার কারণে তা হয়তো আবার কিছুটা বেড়ে যেয়ে থাকতে পারে (কারো কারো মতে দ্বিগুণ হয়ে গেছে)। আমরা ১৯৭১ সালে ছিলাম কৃষিপ্রধান দেশ। গত অর্থবছরে (২০১৯-২০২০) জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। কিন্তু সে লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বিবিএসের তথ্যমতে, জিডিপির পরিমাণ ছিল ২৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে কম কৃষি খাতের। কৃষির সব উপখাত মিলে জিডিপিতে অবদান এখন ১৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল সেবা খাতের। মোট জিডিপিতে এ খাতের অবদান ছিল ৫১ দশমিক ৩০ শতাংশ। সেবা খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবদান খুচরা ও পাইকারি ব্যবসার। ফলে জিডিপিতে কৃষি খাতের চেয়ে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ের অবদান এখন বেশি। শিল্প খাতের অবদানও কিছুটা বেড়েছে। জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান এখন ৩৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা তার আগের ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ছিল ৩৫ শতাংশ।

আমরা আজ কাঠামোগতভাবে আধুনিক শিল্পায়িত দেশে পরিণত হতে চলেছি। কিন্তু প্রায় ১৬ কোটি লোককে আজ আমাদের কৃষকরা কম জমিতে দ্বিগুণ-ত্রিগুণ উৎপাদন বৃদ্ধি করে খাইয়ে পরিয়ে রেখেছেন- এটা মোটেও কম কোনও অর্জন নয়! আমাদের দেশে লক্ষ্যণীয়ভাবে নারীরা কাজে-কর্মে এগিয়ে এসেছেন এবং তার ফলে অনেক পরিবারেই এখন দুজন উপার্জনকারী সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দারিদ্র্যের চাপও অনেক কমেছে। 

আমাদের দেশে প্রায় একশত ভাগ শিশু এখন প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। শিশু মৃত্যুর হার, মাতৃমৃত্যুর হার, গড় আয়ুষ্কাল ইত্যাদি মানব উন্নয়ন সূচকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ প্রতিবেশী দেশের চেয়ে এগিয়ে আছে। নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন স্বয়ং এ কথা আজ বলছেন। 

আমাদের পোশাক শিল্প, ঔষধ শিল্প, সিমেন্ট শিল্প, মাছ, সবজি, ফুল, ইত্যাদি পণ্যগুলি সারা দুনিয়ায় এখন রপ্তানি হচ্ছে। আমাদের দেশের বিদেশে কর্মরত নাগরিকরা যে রেমিট্যান্স প্রতি বছর পাঠায় তা দিয়ে আমরা আমাদের বিশাল বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার গড়ে তুলেছি। বিদেশিরা অর্থ সাহায্য না দিলেও আমরা এখন নিজেদের টাকাতেই নিজেদের পদ্মা ব্রিজসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে সক্ষম। আমাদেরকে তথাকথিত “বিদেশি দাতা দেশগুলি” (Foreign Donor Countries) আজ আর পরিহাস করে “তলাবিহীন ঝুড়ি” (Bottomless Basket) আখ্যা দিতে পারে না। 

ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ বর্তমানে ২০১৫ সালের এম.ডি. জি-র (মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল) অধিকাংশ লক্ষ্য অর্জনসহ নিম্নআয়ের দেশ হতে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশের শ্রেণিভুক্ত হয়েছে। যষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার লক্ষ্যগুলি বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশের (এল. ডি. সি.) কাতার থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয় সকল মানদণ্ড পূরণ করতে পারবে। ফলে বাংলাদেশ যে একদিন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে সে কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। 

আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জসমূহ

কিন্তু মধ্যম আয়ের দেশে কোনো দুর্ঘটনা ছাড়া উত্তরণ ঘটাতে হলে আমাদের দুটো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হবে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং অর্থনৈতিক মুক্তি। সে উদ্দেশ্যেই ৫০ বছর আগে বাইরের শোষণ-বৈষম্য-নির্যাতন থেকে আমরা প্রথমে স্বাধীন হয়েছিলাম, আজ দেশের ভেতরের শোষণ-বৈষম্য–নির্যাতন থেকে আমাদের জনগণকে মুক্ত করতে হবে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের স্বপ্নও তাই ছিল। তাই রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক অধিকার ও অর্থনৈতিক অধিকার উভয়ই আমাদের অর্জন করতে হবে। যদিও এই দুটো লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন ঐতিহাসিকভাবে খুবই-খুবই কঠিন একটি কাজ। আমাদের এ কাজ সমাপন করার জন্য হতে হবে গুহার ভেতরে আহত রাজা রবার্ট ব্রুসের দেখা সেই মাকড়সাটির মত, যে জাল বেয়ে শতবার পড়ে যাওয়ার পরেও শতবার উপরে ওঠার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিল। 

বঙ্গবন্ধুও দুঃখী মানুষদের মুক্তির জন্য দারিদ্র্যমুক্ত-ক্ষুধামুক্ত শোষণহীন-সমাজতান্ত্রিক-গণতান্ত্রিক দেশের মহৎ স্বপ্নটি দেখেছিলেন, যা তাঁর আত্মজীবনীতে, ১৯৭০ সালের নির্বাচনী ভাষণে, তাঁর স্বহস্ত স্বাক্ষরিত ১৯৭২ সালের সংবিধানে এবং স্বাধীনতা উত্তর নানা বক্তব্য-বিবৃতিতে নানাভাবে বিধৃত আছে। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর আগেই আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও খন্দকার মোশতাকের ছত্রছায়ায় দক্ষিণপন্থিরা ও নব্য-ধনীরা (Novueau Rich) শক্তিশালী হয়ে উঠে এবং সপরিবারে তাঁর মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের পর এই গোষ্ঠীটিই সবকিছুর অন্যতম Beneficiary-তে রূপান্তরিত হয়। একথাও সত্য যে, বঙ্গবন্ধুও তাঁর দলীয় শ্রেণিগত সীমাবদ্ধতার জন্য সমাজতন্ত্রের দিকে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হতে পারেন নি। বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন করে শেষ মুহূর্তে তিনি তাঁর মতো করে একটি শেষ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তা আঁতুড়ঘরেই মৃত্যুবরণ করে। বঙ্গবন্ধু শাহাদাৎবরণ না করে বেঁচে থাকলে কী হতো বা হতে পারতো সে আলোচনা আজ বৃথা এবং নিতান্তই একটি অনুমানমূলক অমীমাংসেয় Hypothetical আলোচনা। 

কিন্তু স্বাধীনতার ঊষালগ্নে দেখা বঙ্গবন্ধুর দারিদ্র্যমুক্ত-ক্ষুধামুক্ত শোষণহীন-সমাজতান্ত্রিক-গণতান্ত্রিক দেশের মহৎ স্বপ্নটি, তাঁর দল আজ মূলতঃ ছেড়ে দিলেও, সাধারণ মানুষ—দেশবাসী জনগণ ও তাঁর দলের ভেতরে ও বাইরে এখনো থেকে যাওয়া তাঁর লক্ষ লক্ষ অনুসারী-ভক্তরা নিশ্চয়ই আজো সে স্বপ্ন ছাড়েন নি। সে স্বপ্নগুলি বাস্তবায়নের সঠিক পথটি না বের করা পর্যন্ত সকল শহীদের প্রতি আমাদের ঋণ পূর্ণভাবে পরিশোধিত হবে না। আসুন, স্বীয় কর্তব্য সমাপ্ত করার জন্য ব্রুসের মত অধ্যাবসায় ও মনোযোগ দিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আবার আমরা সেই “হারানো সিঁড়ির চাবিটি” খুঁজে বের করি। আসুন, আমরা শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধ করি। বিশ্বের বুকে আমাদের প্রিয় স্বদেশ শোষণ-লুণ্ঠনহীন-দুর্নীতিহীন গণতান্ত্রিক উন্নত স্বচ্ছ এক দেশ হিসেবে আবার মাথা উঁচু করে উঠে দাঁড়াক। 

লেখক : চেয়ারম্যান, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আগামীনিউজ/প্রভাত