Agaminews
Dr. Neem Hakim

ভোটাধিকারের জন্য-নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারের সংগ্রাম


আগামী নিউজ | রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২১, ০৫:২৪ পিএম
ভোটাধিকারের জন্য-নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারের সংগ্রাম

ছবি: আগামী নিউজ

ঢাকাঃ দেশের নানা সংকটের মধ্যেও সরকার ‘উচ্চস্বরে’ তাদের ক্ষমতায় থাকার এক যুগ পালন করতে ভোলেনি। দেশের সংবিধানে স্পষ্ট করে বলা আছে ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।’ জাতীয় সংসদকে সংবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন-ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী ‘প্রত্যক্ষ নির্বাচনের’ মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচনের কথাও বলা আছে। অর্থাৎ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মধ্য দিয়ে সরকার নির্বাচিত হওয়ার কথা। দেশের একজন সাধারণ মানুষ তিনি তো ভোটের অধিকারের অপেক্ষায় থাকেন। অন্য অনেক কিছু বঞ্চিত মানুষের কাছে ভোটাধিকার প্রয়োগ হয় গৌরবেরও।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পার করতে চললেও আজও আমরা মানুষের সেই ভোটাধিকারের নিশ্চয়তা অর্জন করতে পারিনি, দিতে পারিনি। বিভিন্ন সময় নানাভাবে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। এক সময় ভোটও হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় থাকাকে ‘আইনসঙ্গত’ করা হয়েছে।

কিন্তু সব সময় মানুষ ইচ্ছামত তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। বিগত দিনের সব নির্বাচন হিসেবে রেখে গত দুইটি নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখা যায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৪ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ভোটের কোনো পরিবেশ ছিল না।

ক্রিয়াশীল অধিকাংশ দল এই ভোটে অংশ নেয়নি। আর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট? অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে অধিকাংশ জায়গায় দিনের ভোট ‘আগের রাতে’ সম্পন্ন হওয়ার নতুন রেকর্ড দেখল দেশবাসী, বিশ্ববাসী। অথচ গঠিত হয়ে গেল সরকার। এই নির্বাচন ও পরবর্তী নির্বাচনী ঘটনাবলীতে মানুষ, চলতি নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।

তাই এ সময়েও জনগণকে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও নিজেদের পছন্দমত সরকার গঠনের অধিকারের কথাও ‘উচ্চস্বরে’ বলার কাজকে অগ্রসর করে নিতে হচ্ছে। দুই. ‘রাজনৈতিক গণতন্ত্রের’ অন্যতম উপাদান হলো নির্বাচন। নির্বাচন অবাধ নিরপেক্ষ না হলে প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রেও বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে না। সর্বত্র জনগণের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশ ও মানুষকে এগিয়ে নেওয়া হয় বাধাগ্রস্ত। এজন্য অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং এর জন্য একটি উপযুক্ত নির্বাচনি ব্যবস্থা ও তার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি কর্তব্য।

মনে রাখা দরকার শাসকরা নির্বাচনের কথা এলে নিজেদের সুবিধামত সর্বোচ্চ ‘ভোট দেওয়া’র কথাকে আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। ভোট দেওয়ার অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকৃত ইচ্ছা ও মতামতের প্রতিফলনের সাথে সাথে ভোটে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিটি নাগরিকের সমসুযোগ পাওয়াসহ পূর্বপর অধিকারের কথাও আমাদের সামনে আনতে হবে। নির্বাচনী গণতন্ত্রকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিতে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে কণ্ঠ সোচ্চার করতে হবে। আমরা দেখে আসছি, ক্ষমতাসীনরা নিজেদের দলীয় স্বার্থে নির্বাচন ও নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করতে মোটেই দ্বিধা করে না। নানা ধরনের ‘কুযুক্তি’ দিয়ে একে জায়েজ করার চেষ্টা করে।

এরা নির্বাচনকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে, ‘টাকার খেলা’, ‘পেশিশক্তির প্রতিযোগিতা’, ‘সাম্প্রদায়িক ও আঞ্চলিক প্রচার-প্রচারণায় আবদ্ধ করা’ ও ‘প্রশাসনিক কারসাজি’র খেলায় পরিণত করেছে। এর জন্য নতুন নতুন কৌশল(!) কাজে লাগাচ্ছে। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য জনগণের উপর নয় দেশি-বিদেশি নানা শক্তির উপর নির্ভরশীলতা শাসকগোষ্ঠীর কাছে প্রধান হয়ে উঠেছে। এই অবস্থা থেকে নির্বাচন ও নির্বাচনী ব্যবস্থাকে মুক্ত করতে না পারলে, সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, মধ্যবিত্ত, স্বল্পবিত্তদের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব হবে না। আর নির্বাচনের নামে কোটিপতিদের ‘অর্থ-প্রশাসনিক কারসাজি-পেশি প্রদর্শন-সাম্প্রদায়িকতা আর আঞ্চলিকতার’ উৎসবের প্রদর্শনী চলতে থাকবে।

ভোট ব্যবস্থা যাবে আরও নির্বাসনে। তিন. বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) অবাধ-নিরপেক্ষ, অর্থবহ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করে চলেছে। একটু পেছন ফিরলে দেখা যাবে, ২০০৭ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ‘নির্বাচনী আইন সংস্কারের’ জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পরবর্তীতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে আলোচনা-মতবিনিময় করে। সিপিবি ঐ সময়েও শুধু নির্বাচনী আইনের সংস্কার নয়, ‘নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারের’ জন্য কতক প্রস্তাব দিয়েছিল। এ বিষয়ে আলোচনা অব্যহত রাখতে অনুরোধ করেছিল। ঐ সময়ের নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে সংলাপ নিয়ে ২০০৮ সালে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ঐ প্রতিবেদনে যেসব প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলো উল্লেখ করা হয়।

একই সাথে বলা হয়, ‘সংবিধান সংশোধনের মত বিষয়গুলোতে কমিশনের পক্ষে হাত দেওয়া সম্ভব নয়।’ তবে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব, নারী আসন বৃদ্ধি, রিকল বা প্রতিনিধি প্রত্যাহার করার ব্যবস্থা প্রবর্তন, পার্বত্য এলাকায় ভোটার তালিকা প্রণয়ন, স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়ার সাথে নিবন্ধন বাতিলের বিষয় না রাখাসহ কিছু বিষয়ে সিপিবি’র বক্তব্য ঐ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করে। দুঃখজনক হলো, এক যুগ পেরিয়ে গেলেও পরবর্তী নির্বাচন কমিশনগুলো ও সরকার এসব প্রস্তাব নিয়ে কোনো আলোচনার আগ্রহও দেখায়নি। একটু দেখা যাক, নির্বাচন কমিশনের প্রতিবেদনে লিপিবদ্ধ করা ঐ প্রস্তাবে কি বলা হয়েছিল : “সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব: সিপিবি এই মর্মে মতামত দিয়েছে যে, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা একটি আপেক্ষিক ব্যাপার। শ্রেণি বিভক্ত ও বৈষম্যপূর্ণ একটি সমাজে পরিপূর্ণ অবাধ ও নিরপেক্ষ অথবা ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ আশা করা যায় না। এই মৌলিক বিবেচনার পরেও, নির্বাচনকে আপেক্ষিকভাবে হলেও অন্তত সেটুকু অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে হবে যাতে চলতি জনমতের প্রতিফলন ঘটে।

নির্বাচনের ন্যূনতম গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হলে অন্তত এটুকু অত্যাবশ্যক। কিন্তু সেটুকু নিশ্চিত করতে হলে, বিদ্যমান নির্বাচন ব্যবস্থাকে আমূল ঢেলে সাজাতে হবে। নির্বাচন কমিশন যেসব সংস্কার প্রস্তাব হাজির করেছে তা এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য যথেষ্ট নয়, যদিও সাধারণভাবে ইতিবাচক এবং অনেক প্রস্তাবই মৌলিক সংস্কারের লক্ষ্যকে এগিতে নিতে সহায়ক হবে। গোটা নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর ক্ষেত্রে অন্যতম করণীয় হচ্ছে, ‘সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা’ প্রবর্তন করা।

নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোকে অবলম্বন করে ‘সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা’ প্রবর্তনের জন্য উপযুক্ত আইন ও বিধান প্রণয়ন করার পক্ষে তারা মত দিয়েছে: ক) জাতীয় সংসদ হবে জাতীয় নীতি-নির্ধারণ, আইন প্রণয়ন এবং কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের কাজ-কর্ম তদারক করার সংস্থা। নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ স্থানীয় উন্নয়ন কাজ, প্রশাসনিক কাজ অথবা এ ধরনের স্থানীয় অন্য কোনো কাজের সাথে জড়িত থাকবেন না; স্থানীয় পর্যায়ের সকল বিষয় সেই এলাকার নির্বাচিত স্বশাসিত স্থানীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। এই ব্যবস্থার ফলে রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও প্রশাসনের গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকারের প্রকৃত ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ গভীরতর করা সহজতর হবে।

এই লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। খ) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবর্তিত ‘সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ ব্যবস্থা অনুযায়ী নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদের নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত কাজ-কর্ম সম্পর্কে প্রস্তাবনা-পরিকল্পনা-কর্মসূচি-নীতি বর্ণনা করে রাজনৈতিক দলগুলো দেশবাসীর সামনে নিজ নিজ ইশতেহার উপস্থিত করবে। দেশবাসী এসব ইশতেহারের মধ্যে থেকে যে দলের ইশতেহারে তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন দেখতে পাবে, সেই দলের মার্কায় ভোট দেবে।

যে দল যত শতাংশ ভোট পাবে, সেই দল জাতীয় সংসদে সেই সংখ্যক প্রতিনিধি পাঠাবে। অর্থাৎ মোট আসন যদি ৩০০ হয়, তাহলে কোনো দল ৫০% ভোট পেলে ১৫০টি আসন পাবে। ঐকমত্যের প্রয়োজনে নতুন ‘সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব’ ব্যবস্থাও আংশিকভাবে (অর্ধেক আসনে) অব্যাহত রাখা যেতে পারে। সকলের মতামতের ভিত্তিতে এই অনুপাত কম-বেশিও করা যেতে পারে। গ) ইশতেহার ঘোষণার পাশাপাশি প্রতিটি রাজনৈতিক দল সংসদে আসন লাভের জন্য নির্বাচনের আগেই তাদের দলের অগ্রাধিকারক্রম অনুসারে প্রতিনিধিদের তালিকা দেশবাসীকে জানিয়ে দেবে। নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট অনুসারে যে কয়টি আসন সেই দলের প্রাপ্য, তালিকার ক্রমানুসারে সেই কয়জন ব্যক্তি সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচত বলে গণ্য হবেন।

এক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীদের পৃথক দু’টি তালিকা করতে হবে। সংসদে নারী ও পুরুষ সদস্যদের সংখ্যার একটি নির্দিষ্ট অনুপাতের বিধান করা হবে এবং নির্ধারিত সেই অনুপাত মোতাবেক দু’টি তালিকা থেকে নাম নিয়ে তাদেরকে নির্বাচিত বলে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ যদি কোনোদলের প্রাপ্য আসন সংখ্যা ৫০ হয় এবং বিধান থাকে যে সংসদে পুরুষ ও নারী সংখ্যানুপাত সমান সমান হবে, তাহলে দুই তালিকা থেকে অগ্রাধিকারক্রম অনুযায়ী ২৫ জন করে ব্যক্তি নির্বাচিত বলে গণ্য হবেন। ঘ) এই ব্যবস্থায় সংসদ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির কাজে দলীয় প্রধানের বা নেতৃত্বের কোটারির স্বেচ্ছাচারিতার আশঙ্কা রোধ করার জন্য দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চা বিধিবদ্ধভাবে বাধ্যতামূলক করা হবে। স্বাধীন নির্বাচন কমিশনকে তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেয়া হবে।

নারী আসন বৃদ্ধি: সিপিবি নারী আসন বৃদ্ধি ও সরাসরি নির্বাচন ব্যবস্থা প্রবর্তনের মতামত প্রদান করে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ১০০ তে উন্নীত ও সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ার ব্যবস্থা করার পক্ষে মত প্রকাশ করেছে। রিকল ও বা প্রতিনিধি প্রত্যাহার করার ব্যবস্থা প্রবর্তন: সিপিবি সংসদ থেকে প্রতিনিধি প্রত্যাহার করার ব্যবস্থা প্রবর্তনের পক্ষে মত প্রকাশ করেছে। এ ব্যবস্থায় যে কোনো সংসদ সদস্যকে প্রত্যাহার করার জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ৫০ শতাংশের অধিক ভোটার লিখিতভাবে আবেদন করলে সেই সদস্যকে প্রত্যাহার করে উক্ত আসনে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান চালু করতে হবে। পার্বত্য এলাকায় ভোটার তালিকা প্রণয়ন: সিপিবি পাবর্ত্য শান্তি চুক্তি অনুযায়ী তিনটি পার্বত্য জেলার ভোটার তালিকা প্রণয়নের জন্য বিশেষ বিধান করার প্রস্তাব করেছে। ” ‘সিপিবি স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অযোগ্য করা ও এসব রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন না দেয়ার সুপারিশ করেছে। সিপিবি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সাথে নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি না রাখার সুপারিশ করেছে।’ এছাড়া ২০০৮ সালে ‘না’ ভোটের প্রস্তাব গ্রহণ করলেও পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়। নির্বাচনে ব্যয় কমিয়ে আনার কথা প্রস্তাবে থাকলেও তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

শুধু ঐ সময় নয় ১৯৯৬ এর নির্বাচনের পূর্বে তৎকালীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, ১১ দলের পক্ষ থেকে এবং পরবর্তীতে ২০১৭ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে, ২০১৮ সালে সিপিবি-বাসদ এবং পরবর্তীতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের এসব প্রস্তাবও দেওয়া হয়। চার. চলতি ধারার শাসকরা নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নেবেন না, এটাই স্বাভাবিক। আর নির্বাচন কমিশন? সরকারের আজ্ঞাবাহি প্রতিষ্ঠান থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। আর বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থাহীনতা থেকে এদের পদত্যাগের দাবি অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের। এ অবস্থা থেকে তাই ভোটে দাঁড়ানো ও ভোট দেওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থাসহ নির্বাচন ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে আন্দোলন জোরদার করা জরুরি কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুধু জাতীয় সংসদ নয়, স্থানীয় শাসন (খড়পধষ এড়াবৎহসবহঃ) কে শক্তিশালী করা এবং সাংসদকে এসব সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত রাখতে হবে। প্রয়োজনে এজন্য আইন সুনির্দিষ্ট ও এর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনকে ‘টাকার খেলা, পেশিশক্তি, সাম্প্রদায়িক, আঞ্চলিকতা-প্রশাসনিক কারসাজি’ মুক্ত করতে হবে। নির্বাচনের প্রচার প্রচারণার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে, সমসুযোগ দিতে হবে। তার আগে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন যেন কাজ করে, এমন নির্বাচন কমিশন গঠন ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। আমরা লড়াই করছি, সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য। বর্তমান সময়ে ‘গণতন্ত্রহীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, লুটপাটতন্ত্র আর সাম্রাজ্যবাদের’ হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে।

এজন্য চলতি রাজনীতিতে দ্বি-দলীয় ধারার বিপরীতে বাম গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল শক্তির নীতিনিষ্ঠ বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। সর্বত্র সাধারণ মানুষের বিশেষত শ্রমজীবী মানুষের কাছে যেয়ে তার স্বার্থের দাবিতে তাকে সংগঠিত করার কাজের পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কারে আমাদের বিকল্প প্রস্তাবনা তুলে ধরার কাজটিও ধৈর্যের সাথে করতে হবে। জনমত গঠন করতে হবে। দাবি আদায়ে আন্দোলন সংগঠিত করবে হবে। জনগণের সচেতন, সংগঠিত শক্তি সমাবেশই পারে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারে শাসকগোষ্ঠীকে বাধ্য করে অন্তত ভোটাধিকারের নিশ্চয়তা দিতে।

লেখক: রাজনীতিবীদ ও সম্পাদক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)

আগামীনিউজ/প্রআ