Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

র‍্যাব-পুলিশের শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয় একই সাথে অর্জনও দেখা দরকার


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৮, ২০২১, ০৬:৫৭ পিএম
র‍্যাব-পুলিশের শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘন নয় একই সাথে অর্জনও দেখা দরকার

ছবি: আগামী নিউজ

ঢাকা: র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ‘র‍্যাব’ বাংলাদেশ পুলিশেরই অপরাধ ও সন্ত্রাসবিরোধী ‘এলিট ইউনিট’ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের জনগণের আস্থাশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত র‍্যাবের সদস্য হিসেবে সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীসহ পুলিশ, আনসার, বর্ডার গার্ড (বিজিবি) নিযুক্ত করা হয়। একই বছর ১৪ এপ্রিল থেকে কার্যক্রম শুরু করে র‍্যাব শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের আইনশৃঙ্খলাসহ আমাদের নিরাপত্তার সামগ্রিক দায়িত্বে প্রশংসনীয় অনেক অবদান রেখেছে। সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের মাধ্যমেই উগ্র জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে দেশের সাধারণ মানুষের অকুন্ঠ সমর্থন আর হৃদয়ের অতল থেকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসা পেয়েছে  র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। মাদক নির্মূলে শুন্য সহিষ্ণুতার নীতি গ্রহণ করে পেয়েছে সাফল্য। নিজেদের পরিণত করেছেন দেশবাসীর আস্থার প্রতীকে।

চাঞ্চল্যকর মামলা গুলো বিজ্ঞ আদালত  ইদানিং পুলিশ কে না দিয়ে র‍্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দিচ্ছেন। নিশ্চয়ই বিঞ্জ আলাদত যোগ্য মনে করেই বড় বড় মামলার তদন্তরের দায়িত্বভার র‍্যাবকে দেন। এক সময় সুন্দরবনে কেউ নৌকা-ট্রলার যোগে বেড়াতে গেলে বা মাছ ধরতে গেলে জলদস্যুরা তাদের কে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করতো। কিন্তু র‍্যাবের নিরালস চেষ্টায় সুন্দরবন এখন বনদস্যু ও জলদস্যু মুক্ত হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। শুধু তাই নয় র‍্যাব কয়েক হাজার জলদস্যু ও বনদস্যুদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দিয়ে তাদের কে পুনর্বাসিত করার জন্য নানা ভাবে আর্থিক সহযোগীতা করে যাচ্ছে।

র‍্যাবের প্রত্যেক বিভাগের ইউনিট প্রধানরা  করোনা কালে কর্মহীন মানুষকে বস্তাভর্ত্তি (চাল-ডাল-আটা-তেল-লবন-সাবান) দিয়ে মানবতায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন যেটা বিভিন্ন গনমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছিলো। 

এছাড়া ফরেনসিক বিভাগ তাদের তদন্ত প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করে। দেশজুড়ে র‍্যাবের ১২টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ৫টিরই অবস্থান রাজধানীতে। মূলত র‍্যাব দেশের সব এলাকা থেকে অপরাধীদের তথ্য সংগ্রহ করে। প্রাপ্ত তথ্য তাদের ইন্টেলিজেন্স উইং নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ও নিশ্চিত করার পর দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। র‍্যাবের দায়িত্ব ও কর্তব্য দিন দিন আরও বাড়ছে। কারণ ধর্মীয় জঙ্গিবাদ দমনে র্যাববের সাফল্যের পাশেই রয়েছে নতুন নতুন সন্ত্রাসী তৎপরতা। আন্তর্জাতিক জঙ্গিদের সঙ্গে দেশীয় জঙ্গিদের সম্পর্কের বিষয়ে সাইবার-ক্রাইম সংঘটিত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, স্থান ও ব্যাটলিয়নসমূহের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের নিয়মিত টহল ডিউটি রয়েছে। এই টহল আরও বিস্তৃত করার সময় এসেছে। কারণ তাদের ওপর সরকারসহ সাধারণ জনগণের আস্থা রয়েছে। এমনকি সন্ত্রাসী গ্রেফতারের অভিযানে গোলাগুলির মধ্যে পড়ে গত ১৭ বছরে অনেক র‍্যাব সদস্য নিহত এবং পাঁচশরও বেশি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই। বিধিমালা পাস হওয়ার পর ২০১৬ সাল থেকে মামলা তদন্তে নামে এই সংস্থা। তদন্ত শুরুর অল্প দিনের মধ্যেই আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর অনেক রহস্যের উদঘাটনও করে। ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি পুলিশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল করেছে পুলিশের বিশেষায়িত এ সংস্থা।

দেশের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণেও ‘অপরিহার্য’ পুলিশের এই সংস্থাটি। কিন্তু এলিট ফোর্স র‍্যাবের দীর্ঘ অর্জিত ইমেজ ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ করতে শুরু হয়েছে নানামুখী ষড়যন্ত্র। ইতোমধ্যেই সেই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের নকশায় র‍্যাবের বর্তমান ও সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বানোয়াট এক অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। ১০ ডিসেম্বর (২০২১) তারা আসলে মানবাধিকারের কথা বলতে গিয়ে ‘র‍্যাব’কে টার্গেট করেছে। মনে রাখা দরকার যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র‍্যাব নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বিশ্ববাসীকে ভুল বার্তা দিতে চেয়েছিল। অথচ এই সংস্থাটির ব্যর্থতার পাল্লার চেয়ে সাফল্যের দৃষ্টান্ত বেশি। এজন্য র‍্যাব একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা।

মার্কিনিদের মানবাধিকারের বুলিকে ফুৎকারে উড়িয়ে রীতিমতোন তাদের ধুয়ে দিচ্ছেন নেটিজেনরা। তারা বলছেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পুলিশ নির্বিচারে সাধারণ মানুষ এবং শিশুদের হত্যা করছে।

জাতিগত বৈষম্য, ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা, এবং পররাষ্ট্রনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে আমেরিকায় মানবাধিকার লঙ্ঘন স্পষ্ট। দেশটির পুলিশের হাতে আফ্রিকান-আমেরিকানদের হত্যা এবং আটক করার ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘন ওপেন সিক্রেট। এমন দেশটির মুখে মানবাধিকারের ‘ছবক’ একেবারেই বেমানান। ইতোপূর্বে চীনও মানবাধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভন্ডামির অভিযোগ তুলেছিল।

বস্তুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ও জনসেবার জন্য স্বাধীনতা পুরস্কারসহ নানা স্বীকৃতি পেয়েছে ‘র‍্যাব’। র‍্যাবের কর্মকর্তারা পেয়েছেন নানান পদক। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। এজন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যার জন্ম তার জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। দেশটি বারবার মানবাধিকার রক্ষায় তার অঙ্গীকার পুনবর্যক্ত করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করতে আইনের শাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের উন্নতিতে এদেশ অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। শেখ হাসিনা সরকার মানবাধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সব সমালোচনা মোকাবিলা করে সরকার এক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। মানবাধিকারের উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রগতি তারা বিবেচনা করবে- এটাই দেশের মানুষের প্রত্যাশা।

আগামীনিউজ/ হাসান

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের আরো খবর