Agaminews
Dr. Neem
Dr. Neem Hakim
জনজীবনে স্বস্তি

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাজশাহী


আগামী নিউজ | আমানুল্লাহ আমান, রাজশাহী প্রতিনিধি: প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২১, ১২:১৩ এএম
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাজশাহী

ছবিঃ আগামী নিউজ

রাজশাহীঃ উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ শহর রাজশাহীতে দীর্ঘদিন লকডাউন ও কঠোরতম বিধিনিষেধ শেষে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে জনসাধারণের মাঝে। লকডাউন শিথিল হলেও করোনা সংক্রমণ উর্ধ্বমূখী থাকায় চিন্তার ভাঁজ ছিল কর্মকর্তাদের কপালে। তবে এবার করোনা ভাইরাসও নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে। কমতে শুরু করেছে মৃতের সংখ্যা। চাপও কমেছে হাসপাতালে। জনজীবনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে শুরু করায় কৃষিনির্ভর ব্যক্তিরা অর্থনীতিতে আশার আলো দেখছেন। ইতোমধ্যে বাজিমাত করেছেন পানচাষীরা। যদিও লকডাউন শিথিল হওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা রয়েছে অনেকের মাঝে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘন্টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ৯ জন। এদের মধ্যে করোনা পজেটিভ ছিলেন ৪ জন। আর বাকি ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনা উপসর্গে। মৃতদের মধ্যে রাজশাহীর চারজন, নাটোর ও নওগাঁর দুইজন করে চারজন এবং বাকি একজন মেহেরপুর জেলার বাসিন্দা। তবে এর আগের দুই দিনে মৃত্যু হয় ১০ জন করে রোগীর। এ নিয়ে আগস্ট মাসের ১৮ দিনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৪৪ জনে। সর্বশেষ একদিনে করোনা ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩২ জন। রামেকের করোনা ইউনিটে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ২৬১। এদের মধ্যে ১৪৭ জন করোনা পজেটিভ রোগী। হাসপাতালটির করোনা ইউনিটে বর্তমানে ৫১৩টি বেডে প্রস্তুত রাখা হয়েছে কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য। বেড সংখ্যার তুলনার রোগী অনেক কম আগস্ট মাসের শুরু থেকেই। অথচ জুলাইয়ে বেশ চাপ সামলাতে হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দিকে আসায় কিছুটা স্বস্তিতে কর্মকর্তারা। স্বাভাবিক অবস্থা ফিরেছে জনজীবনে। বুধবার (১৮ আগস্ট) নগরীতে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সকল রুটে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে গণপরিবহণ। বাস-ট্রেনে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা। নগরীতে রিকশা-অটোরিকশা চলাচল ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া স্বাভাবিকভাবে খোলা রয়েছে সকল বিপণী বিতান। এরমধ্যে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট ও নিউ মার্কেটে বেশি ভিড় ছিল ক্রেতাদের। কেনাকাটার পাশাপাশি বিনোদন পিপাসুরা দর্শনীয় স্থানের মধ্যে পদ্মা গার্ডেন, লালন শাহ মুক্ত মঞ্চ, টি বাঁধ ও আইবাঁধে ঘুরতেও যান বৃষ্টি উপেক্ষা করে। এদিন কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দামও ছিল স্থিতিশীল। যদিও কাঁচা মরিচের দাম বৃদ্ধির ফলে অভিযোগ ছিল সাধারণ ক্রেতাদের।

উপজেলা পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লকডাউনের ফলে থমকে থাকা কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি সচল হতে শুরু করেছে। বিভিন্ন সবজি মাঠ থেকে বিভিন্ন জায়গায় বাধা ছাড়াই পাঠাতে পারছেন চাষিরা। বিশেষ করে পান চাষিরা বাজিমাত করতে চলেছেন। জেলার পবা, মোহনপুর,  দুর্গাপুর ও বাগমারা উপজেলায় প্রচুর পান চাষ হয়। পান নির্ভর পরিবারগুলো স্বস্তি ফিরেছে লকডাউন শিথিল হওয়ায়। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে রাজশাহীতে ৪৪৯৯.২৩ হেক্টর জমির পানবরজ ৭৬১৫১.৮২৫ মেট্রিক টন পান উৎপাদন হয়েছে। বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৫৬১ কোটি ৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকার পান। অথচ আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে জেলায় ৭২৩৩০.৩৪ পান উৎপাদন হয় ৪৩১১ হেক্টর জমিতে। এ বছর জেলায় পান চাষ করেছেন ৭২ হাজার ৭৬৪ জন কৃষক।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কে জে এম আব্দুল আউয়াল বলেন, কৃষিনির্ভর রাজশাহীর মানুষেরা আশার আলো দেখছেন। পানে যেরকম বাজিমাত করছেন, অন্যন্য ফসলেও লাভবান হতে কৃষি অফিস থেকে সব ধরণের সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে। তবে রাজশাহীর পান যেহেতু দেশের বিভিন্ন জেলা এবং বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে রপ্তানি হয়, সেহেতু পানচাষেই বাড়তি নজর রয়েছে।

করোনা থেকে উত্তরণের আশা প্রকাশ করে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার শামীম ইয়াজদানী বলেন, শীঘ্রই করোনামুক্ত হতে চলেছে রাজশাহী। দীর্ঘদিন লকডাউনের সুফল পাওয়া যাচ্ছে এখন। হাসপাতালে কমতে শুরু করেছে দৈনিক মৃত্যু ও ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহীর ওপর দিয়ে এখন পাবনা ও নাটোর জেলায় ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। সেখান থেকে ঢাকার দিকে চলে যাবে। তখনই পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত হবে এ বিভাগ।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বলেন, কিছুদিন বেশ ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করলেও বর্তমানে কমতে শুরু করেছে করোনার প্রকোপ। তবে প্রথম থেকেই মানুষের জীবনমানের প্রতি নজর রেখে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে প্রশাসনকে। তিনি বলেন, এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক, তবে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে সুদিন ফিরবে শীঘ্রই। জেলা প্রশাসন থেকে সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি জনসাধারণকে মানাতে এখনো মাঠে কাজ করছে জেলা প্রশাসনের মোবাইল টিম।