Agaminews
Dr. Neem Hakim

বিদেশ ফেরত কর্মীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নেয়া জরুরি


আগামী নিউজ | ম. শাফিউল আল ইমরান প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২০, ১০:২৮ এএম
বিদেশ ফেরত কর্মীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নেয়া জরুরি

ছবি সংগৃহীত

ঢাকা: করোনাভাইরাসের প্রভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের যেসব শ্রমিক কাজ করেন কেউ চাকরি হারিয়েছেন, কেউ নতুন করে কাজের নবায়ন করতে পারছেন না। আবার অনেকেই ঠিকভাবে বেতন পাচ্ছেন না। তাদের একটা অংশ কাজ না থাকার কারণে দেশে ফিরে এসেছেন। এর ফলে, ওইসব শ্রমজীবী মানুষরা তাদের আয়ের যে সিংহভাগ দেশে পাঠাতেন তা সম্ভব হয়ে উঠছে না। 

এমন অবস্থায় আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তাদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো। ফেরত আসা শ্রমিকরা দেশে ফিরে এসে অলস বসে থাকার কারণে বিকল্প কর্মসংস্থানের কথা বলছেন। অভিবাসন সংশ্লিষ্টরাও ফেরত আসা কর্মীদের পাশে সরকারকে থাকার কথা বলছেন। 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য মতে, বিশ্বের ১৬৯টি দেশে বাংলাদেশের ১ কোটি ২০ লাখের মতো শ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি দেশে থাকে। সরকারের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কর্মীদের প্রায় ৮০ ভাগই আছেন মধ্যপ্রাচ্যের আট দেশে। দেশগুলোর মধ্য সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও ওমান এই পাঁচ দেশ বাংলাদেশের শীর্ষ ১০টি প্রবাসী আয়ের দেশের মধ্যে পড়ে। বাহরাইন, লেবানন আর জর্ডান থেকেও অনেক কর্মীকে ফিরতে হবে। হিসেব করে দেখা যায়, প্রবাসী আয়ের অর্ধেকের বেশি তারাই পাঠান।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যর তেল-নির্ভর অর্থনীতি এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। এই দেশগুলোয় গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে লকডাউন চলায় তাদের অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে পড়ছে । অনেক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে চাকরি থেকে ছাঁটাই করার ফলে কর্মীরা দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন। সেইসাথে যেসব শ্রমিক লকডাউনের পরে বা আগে দেশে ফিরে এসেছেন  তারা আবার চাকরি ফেরত পাবেন কিনা, আবার যাদের চাকরি আছে তারা টিকে থাকতে পারবেন কিনা সেটা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, প্রবাসী শেষ দু-মাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে মাত্র ৮৪ কোটি ডলারে এসে থেমেছে। অর্থনীতি বাঁচাতে এমনিতেই হিমিশম খাচ্ছে সব খাতই। বাংলাদেশের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে পাঁচ–সাত লাখ কর্মী ফেরার আশঙ্কা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, সংখ্যাটা ১০ লাখের ঘরে হতে পারে।

সরকার কয়েক দফায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকার সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে ধনী শিল্পমালিক থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষও আছেন। আছেন চিকিৎসক–স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু প্রাবাসীরা নেই। অথচ প্রবাসীদের অবদানের কথা বলতে বলতে মন্ত্রী–নেতারা মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। যে প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চলনশক্তি, যারা বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান, তাদের জন্য কোনো সহায়তা কর্মসূচি নেই! সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আশ্বাস আসলেও সেটা চাহিদার তুলনায় নেহায়ত অপ্রুতুল। 

অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা রামরুর চেয়ারম্যান তাসনিম সিদ্দিকি মনে করেন, তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় যে সংকট তৈরি হয়েছে, রিসিভিং কান্ট্রিগুলো অভিবাসী শ্রমিক কমিয়ে সেই খরচ কমানোর চেষ্টা করবে। সেক্ষেত্রে ফেরত আসা মানুষ গুলোর কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়বে। 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার আগামীতে ২০০ কোটি টাকার একটি ফান্ড গঠন করে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার চেষ্টা করবে।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে নতুন কাজের সংস্থানের চেয়ে কাজ হারানো কর্মীদের জন্য কী অপেক্ষা করছে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, এই পরিস্থিতিতে সব সেন্ডিং কান্ট্রির উপর একটা চাপ পড়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি কিভাবে সমঝোতার মাধ্যমে রিসিভিং কান্ট্রিগুলোতে অধিক সংখ্যক কর্মী রাখা যায়। 

তিনি আরো বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ(জিসিসি) ভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের যে রাষ্ট্রদূতরা আছেন তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আমরা সর্বেচ্চ চেষ্টা করছি, যারা কোনো কারণে যেতে পারেনি, ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে তাদেরকে যেনো নেওয়া হয়। তিনি যোগ করেন, জিসিসিভুক্ত দেশগুলো থেকে আমরা আশ্বাস পেয়েছি। তারা করোনার সংকটেও আমাদের কর্মীদের পাশে থাকবেন। 

এছাড়া সচিব উল্লেখ করেন, যাদেরকে ফেরত আসতে হবে তাদের কম সুদে ঋণ ও পাঁচ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া ইতিমধ্যে করোনা সহায়তায় প্রবাসীদের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। 

আগামীনিউজ/ইমরান/মিজান

Dr. Neem

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের আরো খবর