Agaminews
Dr. Neem Hakim
Dr. Neem Hakim
করোনা

মেলা ও আলোকসজ্জা ছাড়াই কাত্যায়নী পূজা


আগামী নিউজ | মোখলেছুর রহমান, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০২০, ০৭:৪৯ পিএম
মেলা ও আলোকসজ্জা ছাড়াই কাত্যায়নী পূজা

ছবি: আগামী নিউজ

মাগুরাঃ এবছর অনেকটাই অনাড়াম্বরে শুরু হয়েছে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ মাগুরার ঐতিহ্যবাহী কাত্যায়নী পূজা। পূজা উপলক্ষে প্রতিবছর যেখানে লাখো মানুষের ঢল নামে, সেখানে এবার বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে জমকালো আয়োজনের পরিবর্তে সীমিত পরিসরে উদযাপিত হচ্ছে। অনেকটা সাদামাটাভাবে আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে পালন করছে স্থানীয় সনাতণ ধর্মালম্বীরা। প্রতি বছর এ পূজা উপলক্ষে নানা ধরণের আলোকসজ্জার পাশাপাশি মাসব্যাপী মেলার আয়োজন থাকে, তা এবার হচ্ছে না।

শুক্রবার ষষ্ঠীপূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে এ পূজা। ২৪ নভেম্বর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। মাগুরা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্র জানা গেছে, এ বছর মাগুরা জেলায় মোট ৯৪টি মন্ডপে কাত্যায়নী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পৌর এলাকায় ১৬টি, সদর উপজেলায় ৩১টি, শ্রীপুরে ১৩টি, মহম্মদপুরে ১১টি ও শালিখায় ২৩টি মন্ডপে

কাত্যায়নী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামের নিতাই গৌর গোপাল সেবাশ্রমের পূজা বিষয়ক সম্পাদক তরুণ ভৌমিক  জানান, এবারের আয়োজন কেবলমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। প্রতিবছর যেখানে ব্যাপক আলোকসজ্জা, মিউজিক সিস্টেম ও মেলা বসে এবার তার কিছুই হচ্ছে না। এই মন্ডপে অন্য বছর যেখানে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে থাকে, এবার সেখানে সব মিলিয়ে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মধ্যে থাকছে।

করোনার প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে মন্ডপ গুলোর প্রতিমার নকশায়ও। শহরের ছানা বাবুর বটতলা পূজা মন্ডপের প্রতিমা শিল্পী উজ্জ্বল কুমার গুরু জানান, এবারের নকশায় তিনি করোনা ভাইরাসের একটি অবয়ব যোগ করেছেন। যেখানে কাত্যায়নী দেবী অসুরের পাশাপাশি করোনা ভাইরাসকে বধ করে পৃথিবীর মানুষকে বিপদ মুক্ত করবেন।


শহরের নতুন বাজার স্মৃতি সংঘ পূজা মন্ডপের সাধারণ সম্পাদক প্রণয় ঘোষ বলেন, ‘কাত্যায়নী পূজা মাগুরা জেলার ঐতিহ্য। প্রতিবছর এ উৎসব উপলক্ষে দেশ বিদেশ থেকে লাখো মানুষের ঢল নামে। তবে এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে আত্মীয় স্বজনদের পূজা দেখতে না আসার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করছি’।

জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানান, প্রশাসন ও জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে এবার পূজায় মেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা মন্ডপে প্রতিমা দর্শন শেষে রাত ৯ টার মধ্যে স্থান ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া, অন্যবারের মতো আলোকসজ্জা ও সাউন্ড সিস্টেম সীমিত আকারে পরিবেশনের জন্য প্রতিটি পূজা মন্ডপ পরিচালনা কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’।

মাগুরা পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান জানান, প্রতিবারের মতো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পুলিশের টহল থাকবে। করোনা পরিস্থিতিতে সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করে ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূজার আনুষ্ঠানিকত শেষ করে সে বিষয়ে পুলিশ তৎপর থাকবে। পাচঁ দিনব্যাপী এ পূজায় প্রতিটি মন্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরাও কাজ করবেন।                                                    

আগামীনিউজ/এএস