Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

বঙ্গবন্ধুর খুনির কবর সংসদ চত্বরে থাকতে পারে না : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী


আগামী নিউজ | ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১, ০৬:০৬ পিএম
বঙ্গবন্ধুর খুনির কবর সংসদ চত্বরে থাকতে পারে না : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা: বঙ্গবন্ধুর খুনি, স্বাধীনতা বিরোধীদের কবর মহান জাতীয় সংসদ চত্বরে থাকতে পারে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা: সমস্যা ও প্রতিকার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। বাংলার মানুষ মুক্তি পেয়েছে। তাঁর কবর থাকবে টুঙ্গিপাড়ায় আর পাকিস্তানীদের দোসর যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, ৩০ লাখ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে। তাদের কবর জাতীয় সংসদসহ গৌরবোজ্জ্বল জায়গায় থাকতে পারে না। এগুলো আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও স্বাধীনতার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তখনই বাস্তবায়ন করতে পারব যখন এসব কুলাঙ্গারদের কবর জাতীয় মর্যাদাপূর্ণ স্থান থেকে অপসারণ করতে পারবো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর জীবদ্দশায় দেশ ও মানুষের জন্য কি করে গেছেন। আর পাকিস্তান দীর্ঘ ২৫ বছর এবং বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর পরবর্তী ২১ বছর জিয়াসহ শাসকরা দেশে কি করেছে সেটা সবারই জানা আছে। তারা দেশের ক্ষতি করা ছাড়া কিছুই করতে পারেনি।

মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান জাতির পিতার খুনি একথা ধ্রুব সত্য। তাকে খুনি প্রমাণ করার জন্য সব ধরনের দলিলাদি রয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব নিশ্চিত করার কথা ছিলো জিয়াউর রহমানের। কিন্তু তিনি তা না করে হত্যার সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে পরিকল্পিতভাবে জাতির পিতাকে হত্যা করে।

জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা অবান্তর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার অধিকার বাঙালি জাতি একমাত্র বঙ্গবন্ধুকেই দিয়েছে। আর কেউ স্বাধীনতার ঘোষক হতে পারে না, সুযোগও নেই। মুখে ঘোষণা করলেই স্বাধীনতার ঘোষক হওয়া যায় না।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিভিন্ন উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করায় জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা স্বীকৃতি দিচ্ছে। বিভিন্ন সম্মাননায় তাঁকে ভূষিত করছে যা জাতি হিসেবে আমাদেরকে গৌরবান্বিত করে। 

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের প্রত্যেকটি খালের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। খালের দুই পাড়ে বাঁধ দিয়ে ওয়াকওয়ে তৈরি করা হবে। একইসঙ্গে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকা খালগুলো শিগগির সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। 

সেমিনারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং উপ-কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর। 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার কাজী খায়রুল বাশার। এসময় উপ-কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, জোন ভিত্তিক ইউটিলিটির দাম নির্ধারণ করতে হবে। কেননা, গুলশানে থাকা ব্যক্তি এবং যাত্রাবাড়ী থাকা ব্যক্তির জীবন যাপন এক রকম নয়। সে হিসেবে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির দাম নির্ধারণ করতে হবে। 

ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, কল্যাণপুরে ১৭৩ একর জমির মধ্যে ১৭০ একর জমি অবৈধ দখলে। শিগগির অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। আর সেখানে ইকোপার্ক, ইয়ুথ ক্যাম্পসহ হাতিরঝিলের মতো লেক তৈরী হবে। আর বৃষ্টির পানি নামানোর জন্য এই লেক ব্যবহার করা হবে।

অবৈধ দখলদারদের হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, খাল দখল করে অবৈধভাবে ভবন তৈরী করেছেন। আপনারা নিজ ইচ্ছায় ভবন সরিয়ে নিন। না হয় আমরা সব ভেঙ্গে ফেলবো। শিগগির আমরা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করবো।

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের দায়িত্ব নেন। দেশকে উন্নত করতে নানান পরিকল্পনা গ্রহন করেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠি।

পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্বভার গ্রহণের পর দেশকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধশালী দেশে রূপান্তরিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে জলাবদ্ধতা ঢাকা শহরের অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা। সেই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে বর্তমান সরকার।