Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

শুভ জন্মদিন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল


আগামী নিউজ | সাহিত্য ডেস্ক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৩, ২০২১, ০৯:২৩ এএম
শুভ জন্মদিন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ফাইল ছবি

ঢাকাঃ জনপ্রিয় লেখক ও শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল। শিশু-কিশোরসহ সব প্রজন্মের পাঠকের কাছে সমান জনপ্রিয় এই বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির পথিকৃত। ২৩ ডিসেম্বর তার জন্মদিন। এ বছর তিনি ৭০তম জন্মদিন পালন করবেন।

১৯৫২ সালের এই দিনে জাফর ইকবাল সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা শহীদ ফয়জুর রহমান ও মা আয়েশা খাতুন। ১৯৭৬ সালে ‘কপোট্রনিক সুখদুঃখ’ বই লেখার মধ্য দিয়ে তিনি পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা দেশবাসীকে উদ্দীপ্ত করে।

প্রয়াত জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ তার বড় ভাই এবং রম্য ম্যাগাজিন উন্মাদের সম্পাদক ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব তার ছোট ভাই।

জাফর ইকবাল ১৯৬৮ সালে বগুড়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৭০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। তিনি ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।

১৯৭৬ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। তাঁর বিষয় ছিল – Parity violation in Hydrogen Atom। সেখানে পিএইচডি করার পর বিখ্যাত ক্যালটেক থেকে তাঁর ডক্টরেট-উত্তর গবেষণা সম্পন্ন করেন।

ড. জাফর ইকবাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন যথাক্রমে ১৯৭৫ ও ১৯৭৬ সালে। ১৯৭৫ সালে অনার্স-এ দুই নম্বরের ব্যবধানে প্রথম শ্রেণিতে ২য় স্থান অধিকার করেন।

তিনি ১৯৮২ তে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি সম্পন্ন করে ১৯৮২ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজিতে সাফল্যের সাথে ডক্টরেটোত্তর গবেষণা সম্পন্ন করেন।

১৯৮৮ তে তিনি বিখ্যাত বেল কমিউনিকেশনস রিসার্চ (বেলকোর) এ গবেষক হিসাবে যোগদান করেন এবং ১৯৯৪ পর্যন্ত সেখানেই কাজ করেন। ওই বছরেই তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে যোগদান করেন।

তার উল্লেখযোগ্য রচনাবলী হচ্ছে- উপন্যাস : আকাশ বাড়িয়ে দাও (১৯৮৭), বিবর্ণ তুষার (১৯৯৩), দুঃস্বপ্নের দ্বিতীয় প্রহর (১৯৯৪), কাচসমুদ্র(১৯৯৯), সবুজ ভেলভেট (২০০৩), ক্যাম্প (২০০৪), মহব্বত আলীর একদিন (২০০৬) ছোট গল্প : একজন দুর্বল মানুষ (১৯৯২), ক্যাম্প, ছেলেমানুষী (১৯৯৩), নুরূল ও তার নোটবই (১৯৯৬), মধ্যরাত্রিতে তিন দূর্ভাগা তরুণ (২০০৪ )।

ব্যক্তিগত জীবন তিনি বেশ কিছু পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। বাংলা একাডেমি পুরস্কার (২০০৪), শ্রেষ্ঠ নাট্যকার হিসেবে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার (২০০৫), কাজী মাহবুবুল্লা জেবুন্নেছা পদক (২০০২), খালেদা চৌধুরী সাহিত্য পদক (বাংলা ১৪১০), শেলটেক সাহিত্য পদক (২০০৩), ইউরো শিশুসাহিত্য পদক (২০০৪), মোহা. মুদাব্বর-হুসনে আরা সাহিত্য পদক (২০০৫), মার্কেন্টাইল ব্যাংক সম্মাননা পদক (২০০৫), আমেরিকা এল্যাইমনি এ্যসোসিয়েশন পদক (২০০৫), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ্যালাইমনি এ্যাসোসিয়েশন পদক (২০০৫)।

তার লেখা কয়েকটি কিশোর উপন্যাস থেকে জনপ্রিয় চলচ্চিত্র এবং নাটকও নির্মিত হয়েছে।

একুশে পরিবারের পক্ষ থেকে এই স্বনামধন্য ব্যাক্তিত্বের প্রতি রইল অনেক অনেক শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন।

আগামীনিউজ/নাসির