Agaminews
Dr. Neem Hakim
Dr. Neem Hakim
জিনে সামান্য রদবদল৷ তার ফলেই পশুজগতে বিশাল পরিবর্তন হতে চলেছে

মাংসের মান বাড়াতে পশুদের জিন বদল


আগামী নিউজ | লাইফস্টাইল ডেস্ক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০, ০১:৫৩ পিএম
মাংসের মান বাড়াতে পশুদের জিন বদল

ঢাকাঃ পরিবর্তিত জিনের ফলে শূকর, ছাগল, গরু এমন স্পার্ম তৈরি করবে, যা রোগের সঙ্গে লড়বে, মাংসের গুণগত মানও অনেক ভালো হবে৷ এর ফলে যেসব পশুকে খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হয়, তাদের ক্ষেত্রে বিশাল পরিবর্তন হবে৷

জিনের পরিবর্তনকারী প্রযুক্তিটির নাম ক্রিসপর-ক্যাস ৯৷ অ্যামেরিকা ও যুক্তরাজ্যে গবেষকরা এটা বানিয়েছেন৷ সহজ কথায় বললে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন শুক্রাণু তৈরি করা যাবে, যা গরু, ছাগল, শূকরদের অনেকটাই নিরোগ করবে এবং মাংসের গুণগত মান বাড়াবে৷ ফলে পশুপালকরা স্বাস্থ্যবান পশু পালন করতে পারবেন এবং তাদের লাভ হবে৷

ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির রিপ্রোডাকটিভ বায়োলজিস্ট জন ওটলি বলেছেন, এই প্রযুক্তির সাহায্যে খাদ্য উৎপাদনে দক্ষতা বাড়বে৷ বিশ্বে খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে যে সমস্যা আছে, সেটাও কমবে৷ নতুন প্রজাতির প্রাণীরা কম পানি পান করবে, কম খাবার খাবে, তাদের অনেক কম অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে৷

তবে এর আগেও পশুদের জিনে পরিবর্তন ঘটানো নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে৷ এই নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক হওয়া স্বাভাবিক৷ কারণ, অনেক সমালোচকই জিনে কোনো ধরনের পরিবর্তনের বিরোধী৷ তারা মনে করেন, এর ফলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করা হবে৷ তার ফল ভয়ঙ্কর হতে পারে৷

কোভিড ১৯ এর উৎপত্তি কিভাবে তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি বিজ্ঞানীরা৷ কিন্তু এর আগে সোয়াইন ফ্লু আর বার্ড ফ্লুতে শুকর আর মুরগি খামারে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমেছিল৷ বৃহদাকারে প্রাণীজ মাংস উৎপাদন শিল্পের সঙ্গে মহামরির ঝুঁকি বাড়ার একটি সম্পর্কের সন্দেহ অনেক আগে থেকেই তৈরি হয়েছে৷ এমন অবস্থায় এই ধরনের শিল্প নিয়ে নতুন করে ভাবনারও সময় এসেছে৷

কিন্তু গবেষকরা বলছেন, তারা জিনে এমন পরিবর্তন করছেন, যেটা খুব স্বাভাবিকভাবে হচ্ছে৷ এর ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার প্রশ্নই নেই৷ তবে বর্তমানে এ নিয়ে বিশ্বজুড়েই বিধিনিষেধ আছে৷ ফুড চেইনের ক্ষেত্রে জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে সারোগেট পিতা তৈরি করা যায় না৷ তাদের বাচ্চাদেরও জিনগত পরিবর্তন ঘটানো যায় না৷

ওটলির টিম নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেটা করছে, তা হলো, সারোগেট পিতারা নিজেরা সন্তান উৎপাদন করতে পারবে না৷ কিন্তু তাদের শুক্রাণু প্রতিস্থাপন করে গরু, শূকর, ছাগলের বাচ্চা করা যাবে৷ তারা এই কাজে সফলও হয়েছেন৷

যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসলিন ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ব্রুস হোয়াইটল বলেছেন, বোঝা যাচ্ছে, প্রযুক্তি নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই৷ এটা ব্যবহার করা যেতে পারে৷ এখন দেখতে হবে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা আমাদের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাবার জোগাতে পারি কি না৷ 

আগামীনিউজ/এমকে