Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

ডেসটিনির ক্রাউন রেজাসহ ৪৬ জনের কারাদণ্ড, ২৩০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড


আগামী নিউজ | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ১২, ২০২২, ০৫:৩৩ পিএম
ডেসটিনির ক্রাউন রেজাসহ ৪৬ জনের কারাদণ্ড, ২৩০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড

ঢাকাঃ ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ৪ হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা পাচারের মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিনসহ ৪৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি, তাদের ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে রফিকুল আমিনকে ১২ বছর কারাদণ্ড, ২০০ কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ডেসটিনির প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান এম হারুন-অর-রশীদকে ৪ বছর কারাদণ্ড, সাড়ে ৩ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাস কারাদণ্ড; চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনকে ১০ বছর কারাদণ্ড, দেড় কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড; উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোফরানুল হক, পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন ও সাঈদ-উর-রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড, ১৮০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেনকে ৯ বছর কারাদণ্ড, ৩০ কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ২ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এএইচএম আতাউর রহমান এবং  এস এম আহসানুল কবির বিপ্লবকে ৮ বছর করে কারাদণ্ড, ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ইরফান আহমেদ সানীকে ৯ বছরের সাজা ১৫০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ২ দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফারাহ দীবা, ইঞ্জিনিয়ার শেখ তৈয়বুর রহমান, নেপাল চন্দ্র বিশ্বাসকে ৮ বছর করে কারাদণ্ড, ৪০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড দিতে ব্যর্থ হলে তাদের আরও দুই বছর করে কারাভোগ করতে হবে। জমশেদ আরা চৌধুরীকে ৮ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ২ বছর কারাগারে থাকতে হবে।

জাকির হোসেন, আজাদ রহমান, আকবর হোসেন সুমনকে ৯ বছর কারাদণ্ড, ১২৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আড়াই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, মো. সাইদুল ইসলাম খান রুবেল ও মজিবর রহমানকে ৮ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১২৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আড়াই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সুমন আলী খানকে ৯ বছরের জেল, ১২৫ কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও আড়াই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শিরীন আকতার ও রফিকুল ইসলাম সরকারকে ৮ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১২৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও আড়াই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মো. দিদারুল আলমকে ৮ বছর কারাদণ্ড, ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ড. এম হায়দারুজ্জামানকে ৬ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনকে ৬ বছর কারাদণ্ড, পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কাজী ফজলুল করিমকে ৫ বছর কারাদণ্ড, ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সফিকুল ইসলামকে সাত বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জিয়াউল হক মোল্লা এবং ফিরোজ আলমকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড, ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
 
ওমর ফারুককে ৫ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সিকদার কবিরুল ইসলামকে ৫ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সুনীল বরুন কর্মকরকে ৮ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ কোটি অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ফরিদ আক্তারকে ৮ বছর কারাদণ্ড, আড়াই কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া দিয়েছেন আদালত।

এস এম শহিদুজ্জামান চয়নকে ৮ বছরের কারাদণ্ডর পাশাপাশি ১৫ কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আব্দুর রহমান তপনকে সাত বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মেজর সাকিবুজ্জামান খানকে ৫ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জিএম গোলাম কিবরিয়া মিল্টনকে ৮ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও দুই বছর কারাগারে থাকতে হবে।

আতিকুর রহমানকে সাত বছর কারাদণ্ড, ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

খন্দকার বেনজীর আহমেদ, একেএম সফিউল্লাহ এবং দেলোয়ার হোসেনকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড, ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাবাসের রায় দেওয়া হয়েছে।

জেসমিন আক্তার মিলনকে ৫ বছর কারাদণ্ড, ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সফিকুল হককে ৭ বছররের কারাদণ্ডের পাশপাশি ১ কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মোল্লা আল আমিনকে চার বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে।

৪৬ আসামিকে মোট ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আসামিদের মধ্যে রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসেন কারাগারে ছিলেন। রায় ঘোষণার আগে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। হারুন-অর-রশিদ, দিদারুল আলম, জেসমিন আক্তার, জিয়াউল হক ও সাইফুল ইসলাম জামিনে থেকে আদালতে হাজির হন।

দিদারুল আলমের সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি আদালত থেকে চলে যান। অপর আসামিদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভের নামে ডেসটিনি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে ১ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। সেখান থেকে ১ হাজার ৮৬১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ওই অর্থ আত্মসাতের ফলে সাড়ে ৮ লাখ বিনিয়োগকারী ক্ষতির মুখে পড়েন বলে মামলা সূত্রে জানা যায়।

তবে ডেসটিনি ২০০০ মাল্টি লেভেল কোম্পানির  দুর্নীতি দমন মামলার চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি  প্রকাশ্যেই করছে অবৈধ এম এল এম ব্যবসা, সরকারি  প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো ব্যবহার করে  বিক্রি করছে   করোনার  ও যৌন উত্তেজক ক্ষতিকর সামগ্রী , প্লট বিক্রি, 'ক্রাউন বাজার' নামে ডিলারশীপ প্রদান ও অতি লাভজনক বিনিয়োগের নামে করছে প্রতারণা আর সংগৃহীত অর্থ পাচার করছে মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে।

কলাবাগান থানার মামলা নাম্বার ৩৩(৭)/১২ এবং দুর্নীতি দমন বিভাগের মানি লন্ডারিংযের বিশেষ জজ আদালতের বিশেষ মামলা নাম্বার ১৭/ ১৬ এর চার্জশিট ভুক্ত পলাতক আসামি এ.এইচ.এম আতাউর রহমান রেজা, যিনি বর্তমানে ক্রাউন টাচ গ্লোবাল লিঃ নামক আরও একটি অবৈধ  মাল্টিলেভেল  প্রতিষ্ঠানের কর্নধার এবং মাওয়া রোডে ধরিএী প্রোপার্টিজ লিঃ এর এমডি হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বাংলা মটরের মত অভিজাত এলাকায় রুপায়ন টাউয়ারের ৭তলায় তিন লাখ টাকা ভাড়ায় বিলাসবহুল সুসজ্জিত অফিস এবং শামছুন্নার  কমপ্লেক্স,৬-এ,৩১/সি, তোপখানা রোড, সেগুন বাগিচায় আরও একটি অফিস নিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় চালাচ্ছেন তার এই অবৈধ ও প্রতারনামুলক কারবার।

জানা যায়, ইকর্মাস নামক প্রতারনা বানিজ্য প্রশাসনের নজরে এলে সাম্প্রতিক তিনি তার অফিস রূপায়ান টাওয়ার থেকে  গুটিয়ে নিয়ে সেগুনবাগিচায় একই কায়দায় প্রতারনা মূলক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

কে এই এ এইচ এম আতাউর রহমান ? 

এ এইচ এম আতাউর রহমান ওরফে ক্রাউন রেজা, পিতাঃ মৃত সারোয়ার  রহমান, মাতাঃ মৃত জোসনা বেগম, স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রামঃ সেমড়া, পোস্টঃচান্দুরা, থানাঃ বিজয় নগর, জিলাঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জাতিয় পরিচয় পত্র নং ১২১১৩২৮৪০৯৩৮৪, পাসপোর্ট নাম্বার- এ এইচ  এমডি আতাউর রহমান- বি কে০৮৬৩৪১৬, মোবাইল নাম্বার ০১৬৩০৩১৪১৯৬ এছাড়াও তিনি ০১৬২৯৮৭৪২৩৭, ০১৭০১৭৩৭৭৬৬০ এবং ০১৭১১৩৩৫৮৫৩ মোবাইল নাম্বারগুলো ব্যবহার করে থাকেন। এই  এ.এইচ.এম আতাউর রহমান রেজা, ওরফে ক্রাউন রেজা, যিনি  বর্তমানে ক্রাউন টাচ গ্লোবাল লিঃ নামক প্রতিষ্ঠানের কর্নধার এবং মাওয়া রোডে ধরিএী  প্রোপার্টিজ লিঃ এমডি হিসেবে  বহাল তবিয়তে প্রতারণামূলক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ঢাকার প্রাণকেন্দ্র বাংলামটর ও সেগুন বাগিচায়।
ক্রাউন রেজা নামে খ্যাত এই ব্যক্তি  ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের একজন ক্রাউন এক্সিকিউটিভ এবং ডেসটিনি মাল্টি-পারপাস কোঅপারেটিভ এর কোষাধক্ষ ছিলেন। যিনি বিলুপ্ত  ডেসটিনি ২০০০ লিঃ কোম্পানির দুর্নীতি মামলার একজন  ফেরারী আসামী হিসেবে পলাতক আছেন। যেখানে ডেসটিনি ২০০০ লিঃ এর অর্থ- আত্মসাৎ মামলায় প্রতিষ্ঠানটির  কর্ণধার সাজা প্রাপ্ত হয়ে জেল  খাটছেন  সেই  অবস্থাতেও তিনি প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দিখিয়ে দিব্বি ঘুরে বেডাচ্ছেন এবং অবৈধ  ব্যবসা ও  ভয়াবহ  প্রতারনার মাধ্যমে বিদেশে অর্থ  পাচার করছেন। এছাড়া তিনি ধরিএী প্রোপার্টিজ লিঃ এর জমি এবং প্লট বিক্রির নামে শতশত মানুষদের নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেই যাচ্ছেন । প্লট বুঝে না পেয়ে গ্রাহক  তাদের  টাকা ফেরত চাইলে নানা রকম ভয়ভীতি  এবং গুম করার   হুমকি দিচ্ছে ফলে তারা ভীষণ আতঙ্কে  আছে। এই ল্যান্ডের  নামে জনগন থেকে যে টাকা আমানত রাখা হচ্ছে এর বিরুদ্ধেও তার  নামে একাধিক মামলা ও রয়েছে বলে এক সূত্রে  জানা গেছে কিন্তু অজ্ঞাত কারনে প্রশাসন তার  কোন প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না ফলে ভুক্তভোগীরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এসব অবৈধ টাকায় তার রয়েছে ঢাকায় নামে বেনামে একাধিক দামি ফ্লাট ও বিলাসবহুল গাড়ি। 

নামে-বেনামে ব্যবসা পরিচালনা

প্রতারনার কৌশল হিসেবে কখনো তার নিজ নামে, কখনো তার স্ত্রী , বোন, ভাগ্নে বা আত্মীয়ের নামে  তিনি ব্যবসা পরিচালনা করেন। ইতিপূর্বে তিনি   মৈত্রী  প্রপারটিস,( নোয়াখালী টাউয়ার, পুরানা পল্টন), সেরাজেম( মালিবাগ), নিরাপদ হাসপাতাল ( মালিবাগ মোড়, সি আই ডি অফিসের পাশে),  পুষ্প ধারা হাউজিং( সিদ্ধেশরী),উদ্যোগ প্রপারটিজ লিঃ, ৪৫ বিজয় নগর ঢাকা  সহ আরও অনেক  কোম্পানি খুলে বিভিন্ন ভাবে মানুষকে প্রতারনা করে সর্ব শান্ত করেছেন।
ভুয়া শোরুমঃ কাওরান বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য কিনে এনে  অফিসে সাজিয়ে “ক্রাউন বাজার” নামে ভুয়া শোরুম দেয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা করে নিয়েছে এবং এখন ও নিচ্ছে । ইতিমধ্যেই ৮ জনের থেকে ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে এক তথ্যে জানা গেছে।

বিনিয়োগ এর নামে অন্যের কোম্পানির প্রকল্প  ও ফ্যাক্টরি দেখিয়ে প্রতারণা

এই ক্রাউন রেজা বিভিন্ন সময়  যেসব  কোম্পানির থেকে পণ্য কিনে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করেছেন সেই সব কোম্পানিতে তার মালিকানা রয়েছে বলে বিনিয়োগকারিদের কাছে প্রচার এবং তাদের নিয়ে ঐ কোম্পানির খামার ও কারখানা পরিদর্শন করিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে প্রতারণা করেছেন ফলে ঐ কোম্পানি তার সাথে ব্যবসা বন্ধ করে  আর মালামাল বিক্রি করছে না।
মালায়েশিয়ায় অর্থ পাচার

শুধু তাই নয় ইতিমধ্যেই তিনি মালেয়শিয়ায় জিটিসিএল নামে আর ও একটি কোম্পানি খুলে পাচার করেছেন বিপুল পরিমান অর্থ । যাদের নিয়ে তিনি এই চক্র গড়ে তুলেছেন তাদের অনেকেই ডেসটিনি মামলার পলাতক আসামি এবং ডায়মন্ড বলে খ্যাত । কুয়ালালামপুরের অভিজাত এলাকা বলে খ্যাত বুকিত বিন্তাং এ পরিচালনা করছেন একটি বিলাস বহুল অফিস আর সেখানের দায়িত্বে আছেন তারই অতীত কুকর্মের সহযোগী এবং আদম ব্যাপারী জাকির। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা যায় ইতিমধ্যেই অন্তত ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা তিনি বাংলাদেশ থেকে নিয়ে গেছেন সেখানে। তার এই  অপকর্মের সহযোগী হিসেবে দেশে বিদেশে রয়েছে আরও ৯ জন। তারা মিলে গঠন করেছে একটি পরিচালনা কমিটি ।

ডেসটিনির স্টাইলেই তার নতুন প্রতারণা

এই আতাউর রহমান রেজা এমএলএম এর নাম করে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে জনগনের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এমন অনেক শতশত বিনিয়োগকারী আছে যারা তাদের ভিটে বাড়ী বিক্রির টাকা, পেনশনের টাকা, জমানো ব্যাংকের  টাকা উক্ত প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করেছেন, কিন্ত উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যে পরিমান টাকা নিয়েছে তা অফেরযোগ্য বলে তিনি দাবি করেন এবং গুম করার হুমকি দেন। এই শতশত বিনিয়োগকারীরা সঠিক মুনাফা না পেয়ে এখন রাস্তায় রাস্তায় প্রহর গুনছে।

অপর সূত্রে জানা গেছে অতিসাম্প্রতিক তিনি ডেসটিনির মতই মিডিয়া / পত্রিকা বের করার প্রস্তুতি নিয়েছেন । 
জানা গেছে, ৫০০ এর অধিক বিনিয়োগকারি ও প্রতারিত ভুক্তভোগি রয়েছে এর মধ্যে ১৯জন বিনিয়োগকারীর তালিকা, মোবাইল নাম্বার এবং  কয়েক কোটি টাকার  বিনিয়োগের প্রমান পত্র এই প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। 
ঋণ খেলাপী

একটি  বেসরকারি ব্যাংক থেকে নিয়েছে আড়াইকোটি টাকা এবং সেখানে খেলাপি হয়ে মামলায় ঝুলছে এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আছে বলে জানা যায়। বর্তমানে ডাচ বাংলা ব্যাংক, কাওরান বাজার শাখায় ক্রাউন টাচের লেনদেন রয়েছে। 

করোনাই তার ডিজিটাল প্রতারনার হাতিয়ার

পৃথিবী যখন মহাসংকটময় অবস্থায় নিপতিত,দেশ  যখন ক্রান্তিকাল     অতিক্রম করছে,   প্রশাসন যখন করোনা মোকাবালায় ব্যস্ত, এমতবস্থায় এই প্রতারক চক্র ও দুষ্কৃতিকারী  তাদের সাধারন জনগকে ভয়াবহ প্রতারনার ফাঁদে আটকে ফেলছে। এই কাজে রেজা তার মোবাইল নাম্বার ০১৬৩০৩১৪১৯৬, ইমু, ওয়াটসেপ, ভাইবার, ফেসবুক,  ওয়েবসাইট, ইমেইল, টিভি চ্যানেল ইত্যাদি  ব্যবহার করে ডিজিটাল প্রতারনা করছে।

এসএসআই