Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

উলটচন্ডাল


আগামী নিউজ | ড. নিম হাকিম  প্রকাশিত: অক্টোবর ২৯, ২০২১, ০৩:০১ পিএম
উলটচন্ডাল

ছবি: সংগৃহীত

পরিচিতিঃ (Botanical Name: Gloriosa superba Linn., Common Name: Ulat Chandal, English Name: Malabar Glory lily, Superb lily, Family: Liliaceae)

উলটচন্ডাল বর্ষজীবী লতানো উদ্ভিদ। ভূ-নিম্নস্থ কন্দ থেকে প্রতি বছর মে-জুন মাসে বায়বীয় কান্ড বের হয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। পাতা সরল ও পাতার শিরা বিন্যাস সমান্তরাল। জুলাই-আগস্ট মাসে ফুল হয়। ফুল একক, ছয় পাপড়ী, ছয় পুংকেশর ও তিন গর্ভকেশর বিশিষ্ট। পাপড়ি প্রথমে হালকা সবুজ, পরে পীত ও রক্তবর্ণ হয়। ফুটন্ত ফুলের পাপড়ি ঊর্ধ্বমুখী। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ফল পাকে। ফলে অনেক বীজ থাকে। বীজ গোলাকার, কমলা বা লাল বর্ণের। নভেম্বর মাসে বায়বীয় কান্ড মরে যায়।

প্রাপ্তিস্থানঃ ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের বনাঞ্চলে পাওয়া যায়।

চাষাবাদঃ কন্দ এপ্রিল মাসে উঁচু ভূমিতে লাগাতে হয়। আবার ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করে মার্চ-এপ্রিল মাসে বীজ বুনতে হয়। ২০-২৫ দিনের মধ্যেই বীজ থেকে চারা গজায়। বীজ থেকে জন্মানো লতায় তিন বছর পরে ফুল ধরে। তবে কন্দ লাগিয়ে চাষ করাই উত্তম। উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে উলটচন্ডাল ভাল জন্মায়। 

লাগানোর দূরত্বঃ এক থেকে দেড় ফুট।

উপযোগী মাটিঃ বেলে বা দো-আঁশ মাটিতে ভালো হয়।

বীজ আহরণঃ ভূ-নিমস্থ কন্দ থেকে প্রতি বছর মে-জুন মাসে বায়বীয় কান্ড বের হয়। 

প্রতি কেজিতে বীজের পরিমাণঃ ১০ থেকে ১২ হাজার।

বীজ সংগ্রহের সময়ঃ অক্টোবর-নভেম্বর।

প্রক্রিয়াজাতকরণ/সংরক্ষণঃ সাধারণতঃ কাঁচা অবস্থায় উলটচন্ডালের পাতা ও কন্দ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ব্যবহার্য অংশঃ কন্দ ও পাতা।

উপকারিতা/লোকজ ব্যবহারঃ উলটচন্ডাল কফ-বাত, কৃমি, ফুলা ও ব্রণ নাশক। রুচিকারক, বমনকারক, বলকারক। উকুন নাশে, বাতের ব্যথায় ও গর্ভপাতে বিশেষভাবে কার্যকরী।

কোন অংশ কিভাবে ব্যবহৃত হয়ঃ

মাথার উকুন নাশে- পাতার রস ও সমপরিমাণে নারকেল তেল মাথায় মাখতে হবে।

বাতের ব্যথায়- তিনভাগ কন্দ এবং এক ভাগ গোলমরিচ বেটে মন্ড করতে হবে। ঐ মন্ড সামান্য গরম করে ব্যথাযুক্ত স্থানে প্রলেপ দিতে হবে।

পরিপক্ক হওয়ার সময়কালঃ বীজ থেকে জন্মানো লতায় তিন বছর পরে ফুল ধরে। কন্দ থেকে জন্মানো চারায় একই বছরে ফুল ফোঁটে। অক্টোবর-নভেম্বর মাসে পরিপক্ক হয়।

অন্যান্য ব্যবহারঃ উলটচন্ডাল এর শিকড় পেটের পীড়ায় এবং পাতার রস ত্বক মসৃণ করার কাজে উপকারি।

আয়ঃ প্রতি একর জমিতে বার্ষিক আয় ২৫,০০০ টাকা থেকে ৩০,০০০ টাকা।

আগামীনিউজ/নাসির