Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

কালোজিরা


আগামী নিউজ | ডঃ নিম হাকিম প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২১, ১২:৫২ পিএম
কালোজিরা

ছবি: সংগৃহীত

পরিচিতিঃ (Botanical Name: Nigella sativa Linn., Common Name: Kalojira, English Name: Black cummim, Family Name: Ranunculacae)

কালোজিরা ছোট নরম বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। এর আদি জন্মস্থান দক্ষিণ ইউরোপে। বর্তমানে দেশের কোন কোন অঞ্চলে এর চাষ হয়। গাছ উচ্চতায় ২৫-৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে দেখা যায়। পাতার বর্ণ সবুজ এবং গঠন ও আকার অনেকটা ধনে পাতার মত। পত্রদন্ডের উভয়দিকে যুগ্ম পত্র হয়। পুষ্পদন্ডের অগ্রভাগ থেকে সাদা, নীল, ঈষৎ পীত বর্ণের ফুল হয়। ফুলের পাপড়ি ৫ টি, পুংকেশের অনেক, গর্ভকেশর লম্বা। ফল গোলাকার ও ফলগাত্রের বীজকোষে ৫-৬ টি লম্বালম্বি খাঁজের দাগ আছে। বীজ কালো বর্ণের। শীত কাল ফুল ও ফলের সময়। এই গণে প্রজাতির সংখ্যা ২০।

প্রাপ্তিস্থানঃ সারা দেশে পাওয়া যায়।

চাষাবাদঃ ডিসেম্বর পর্যন্ত জমিতে কালোজিরা বীজ ছড়ানো হয়।

লাগানো দূরত্বঃ ঘন করে ছিটিয়ে দিতে হয়।

উপযোগী মাটিঃ বেলে দোআঁশ মাটি।

প্রতি কেজিতে বীজের পরিমাণঃ ১৮,০০০-২৩,০০০ টি।

বীজ আহরণ ও সংগ্রহের সময়ঃ চৈত্র মাসে বীজ পাকলে গাছ মারে যায়। তখনই বীজ সংগ্রহের উপযুক্ত সময়।

প্রক্রিয়াজাতকরণ/ সংরক্ষণঃ গাছ থেকে ফল পৃথক করে শুকিয়ে নিয়ে চটের বস্তায় ভরে সংরক্ষণ করা হয়।

ব্যবহার্য অংশঃ ফল এবং ফল থেকে আহরিত তেল।

উপকারিতা/লোকজ ব্যবহারঃ কালোজিরা বহুবিধ রোগে, বিশেষ করে মাথাব্যথা, কাশি, সর্দি ও চর্মরোগে উপকারি।

কোন অংশ কিভাবে ব্যবহৃত হয়ঃ

  • সর্দি হয়ে মাথায় যন্ত্রণা হলে কালোজিরা পুটলী করে শুকাতে হবে। এই গন্ধে মাথার যন্ত্রণা ও সর্দি তরল হয়ে ঝরে পরে।
  • গোলা ফোলায় ও বিছার কামড়ে কালোজিরা বাটা বেশ কাজ করে।
  • ইউনানী চিকিৎসাকরা আর্ত-বিকার রোগে ও প্রসূতির স্তন দুগ্ধ বাড়ানোর জন্য কালোজিরা ব্যবহার করার নির্দেশ করেছেন।
  • অতিরিক্ত কালোজিরা ব্যবহার করলে গর্ভস্রাব হয় বলে উল্লেখ আছে।
  • কালোজিরা গাভিকে খাওয়ালে দুধ বৃদ্ধি পায়।
  • মশলা হিসেবেও ব্যাপক ব্যবহার করা হয়।

পরিপক্ক হওয়ার সময়কালঃ মার্চ মাসে বীজ পরিপক্ক হয়।

অন্যান্য ব্যবহারঃ সব রোগে সবকিছুতেই কালোজিরা উপকারি।

আয়ঃ প্রতি একর জমিতে কালোজিরা চাষ করে বছরে ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।