Agaminews
Dr. Neem Hakim
Dr. Neem Hakim

প্রাকৃতিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস


আগামী নিউজ | ড. নিম হাকীম প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০২০, ১২:৫২ এএম
প্রাকৃতিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাস

ড. নিম হাকীম

জীব জগতের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ের জন্য সৃষ্টির আদি থেকে প্রকৃতিতে বিদ্যমান উদ্ভিদকুলের উপর মানুষ নির্ভর করে আসছে। প্রকৃতিই মানুষকে শিখিয়েছে বিভিন্ন অসুস্থতায় ও স্বাস্থ্য রক্ষায় উদ্ভিদের ব্যবহার। আদিকাল থেকে প্রকৃতিলব্ধ এই জ্ঞান স্বাভাবিক নিয়মে মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নিঃসন্দেহে বলা চলে, এই জ্ঞানই আধুনিক সকল প্রকার চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভিত্তি।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এখন বিশ্বের কমপক্ষে ৪০০ কোটি লোক ভেষজ চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল।

আদিকালে ভেষজ চিকিৎসায় ঔষধি উদ্ভিদ যেভাবে ব্যবহার করা হতো, বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে তা আরও উন্নত উপায়ে ব্যবহার করা হচেছ। উদ্ভিদ প্রক্রিয়া (Process) হতে বা  নির্যাস (Extract) করে এর কার্যকরী উপাদান (Active Ingredient) আলাদা করে ব্যবহারের ফলে রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময় সহজতর হচ্ছে। এখন উদ্ভিদের রাসায়নিক বিশ্লেষণ (Chemical Analysis) আর কোন কঠিন কাজ নয়। ঔষধি উদ্ভিদ ও ভেষজের ইতিহাসে লক্ষিত হয় যে, পৃথিবীর প্রথম মানব-মানবী আদম (আঃ) এবং হাওয়া বেহেস্তের মধ্যে ‘উদ’ গাছের পাতা ব্যবহার করে উদ্ভিদ ব্যবহারের সূচনা করেন (আল-কোরআন)। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে ফল খেয়ে আদম (আঃ) স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন এবং উদ্ভিদ চিকিৎসার সূচনা করেন। হযরত মুসা (আঃ) এর সময় নিম গাছের বিভিন্ন অংশ চর্ম রোগ আরোগ্যে ব্যবহার করা হতো। একটি হাদিসে আছে যে, হযরত মুহম্মদ (সঃ) বলেছেন, কালোজিরা মৃত্যু ব্যতীত প্রত্যেক রোগেই উপকারি (বুখারী, মুসলিম)। গ্রীসে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসা পদ্ধতির সূচনা হয়। গ্রীসের আরবী নাম ইউনান। এ কারণে এ চিকিৎসা পদ্ধতি সরাসরি ইউনানী পদ্ধতি হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে। ইউনানী চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূল প্রবর্তক অ্যাপোলো (হিপাইসটাস)-র ছেলে হাকিম ইসকালিবুস (ইসক্লেপিয়াস) হযরত ইদ্রিস (আঃ) এর নিকট চিকিৎসা বিদ্যা আয়ত্ব করেন এবং জন্মভূমি গ্রীসে প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি তন্ত্রমন্ত্র এবং তাবিজ কবজের পরিবর্তে স্থানীয় গাছ গাছড়া, লতাপাতা, জড়িবুটি ইত্যাদি দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন এবং যথেষ্ট সফলতা অর্জন করেন। হাকিম ইসকালিবুসের কন্যা হাইজিয়া স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিদ্যা ও প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট সফলতা অর্জন করেছিলেন। সে সম্মানে আজও চিকিৎসা বিজ্ঞানে হাইজিন একটি পাঠ্য বিষয় হিসাবে গণ্য। হাকিম ইসকালিবুসের মৃত্যুর প্রায় চারশত বছর পর তাঁরই বংশোদ্ভুত হাকিম শোকরাত (হিপোক্রিটাস) চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপর আরোপিত সকল বিধিনিষেধের বেড়াজাল ভেঙ্গে সকল চিকিৎসকের জন্যে একটি শপথনামা প্রণয়ন করেন, যা আজও সম্মানের সঙ্গে পঠিত এবং পালিত হয়। তিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের যাবতীয় বিষয়বস্তু লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করা শুরু করেন। গ্রীক সভ্যতার যুগে আফলাতুন (প্লুটো), আরস্ত (অ্যারিস্টটল), সুকরাত (সক্রেটিস), জালিনুস (গ্যালেন)-এর ন্যায় বিশ্ব বরেণ্য মনীষীগণ চিকিৎসা-বিষয়ক মূল্যবান তথ্যসমৃদ্ধ অনেক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। হাকিম জালিনুসের সময়ই চিকিৎসা বিজ্ঞানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধিত হয়। জালিনুস বা গ্যালেন উল্লেখ করেন যে, অসুস্থতা-নিরোধ এবং আরোগ্য প্রদানে তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তি রয়েছে।  তিনি উল্লেখ করেন যে, সৃষ্টিকর্তা মানুষের ব্যবহারের জন্য উদ্ভিদজগৎ সৃষ্টি করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সৃষ্টিকর্তাই এমন সকল চিহ্ন দিয়ে দিয়েছেন যার দ্বারা কোন্ উদ্ভিদ কোন্ কাজে (রোগে) লাগবে তা বোঝা যায়। উদাহরণস্বরূপ, কোন উদ্ভিদের রস লাল হলে এটা বোঝায় যে, ঐ উদ্ভিদ দ্বারা রক্ত শোধন-সম্পর্কীয় চিকিৎসা করা যায়। ওয়ালনাটের ফলের উপরিভাগে মস্তিষ্কের মতো মোচড় দেয়া। এ দ্বারা বুঝায় যে, ওয়ালনাট  মস্তিষ্ক-সম্পর্কীয় সমস্যায় উপকারি। এ মতবাদকে ডকট্রিন অব সিগন্যাচার বলা হতো। এ মতবাদ আজ আমাদের নিকট অবৈজ্ঞানিক ও হাস্যাস্পদ মনে হলেও সে সময় এ মতবাদ যথেষ্ট আগ্রহ সৃষ্টি করেছিল। 

গ্রীক সভ্যতার পর আসে রোম সভ্যতা। রোম সভ্যতায়ও উদ্ভিদজাত ঔষধই ছিল চিকিৎসা ব্যবস্থার মূল ঔষধ। রোম সভ্যতার অবনতির পর মুসলিম সভ্যতার অদ্ভ্যুদয় হয়।  সপ্তম শতাব্দীতেই হাকিম আল্লামা আল রাজী, ইবনে সিনা, জাবির ইবনে হাইয়ান, আল জাবির, ইবনে রুশ্দ, আবুল কাশেম জাহরুবি, ইউহান্না বিন ইসহাক প্রভৃতি মনীষীবৃন্দ গ্রিস, চীন, ভারতবর্ষ, মিশর সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বা অঞ্চলের প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি থেকে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর বিষয়াদি চয়ন করে নিজেদের আবিষ্কৃত রসায়নবিদ্যার সাথে সংযোজনের মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞানকে উন্নতির দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দেন। সংক্ষেপে বলা যায় যে, গুপ্ত থাকা চিকিৎসা বিজ্ঞানকে হাকিম শোকরাত (হিপোক্রিটাস) প্রকাশিত করেন, নিষ্প্রাণ থাকা এ বিজ্ঞানটিতে জালিনুস (গ্যালেন) প্রাণ সঞ্চার করেন, বিক্ষিপ্ত থাকা এ বিজ্ঞানকে রাজি সুবিন্যস্ত করেন এবং অসম্পূর্ণতাকে ইবনে সিনা পূর্ণতা দান করেন।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক-একটি দিক নিয়ে অষ্টম শতাব্দীতে জাবির ইবনে হাইয়ান এক-একটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেন, যার মধ্যে রয়েছে কিতাবুল মুজার্রিদা, কিতাবুল বাওজাত, কিতাবুল রিয়াজ এবং কিতাবুল ওয়াসিইয়া। প্রথমোক্ত কেতাবে ঔষধি গাছ থেকে সারাংশ/ নির্যাস নিষ্কাশনের পদ্ধতির বিবরণ, দ্বিতীয় এবং তৃতীয়োক্ত কেতাবে ঔষধি গাছ-গাছড়ার পরিচয় এবং চতুর্থ কেতাবে ঔষধ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার উপায় লিপিবদ্ধ হয়েছে।  দশম শতাব্দীতে আবুল মনসুর মোয়াফফেক প্রথম ফার্মাকোলজি প্রণয়ন করেন। তিনি সর্বপ্রথম ফারসীতে মেটেরিয়া মেডিকা সংকলন করারও উদ্যোগ নেন। পারস্য এবং ভারতবর্ষ ভ্রমণ করে তিনি (৯৬৮-৯৭৭ সাল) কিতাবুল আবনিয়া আল হাকায়েক আল আদভিয়া নামক ফারসি ভাষায় একটি মেটেরিয়া মেডিকা প্রণয়ন করেন। এ গ্রন্থে ৫৮৫ টি রোগ নিরাময়ের বিবরণ রয়েছে। যার মধ্যে ৪৬৬ টি গাছগাছড়া, ৭৫ টি ধাতব এবং ৪৪ টি প্রাণীজ উপাদান দ্বারা। আল রাজির পরে চিকিৎসা জগতে যে মনীষীর আবির্ভাব ঘটে, তিনি হলেন আবু আলি ইবনে সিনা। চিকিৎসা জগতে ইবনে সিনা বহুল আলোচিত একটি নাম। তাঁর প্রণীত গ্রন্থ আশ-শিফা এবং আল-কানুন চিকিৎসা জগতের আলোড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ। আল-কানুন ১৫৪৪ সালে ল্যাটিন ভাষায় অনুদিত হয় এবং কয়েকশত বছর ইউরোপে চিকিৎসা বিষয়ক পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রায় পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত এ চিকিৎসা পদ্ধতি স্বীয় ঐতিহ্য স্বাতন্ত্র্য নিয়ে বলা চলে সমগ্র বিশ্বে একমাত্র চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেবে চল্তে থাকে। ইউরোপবাসীরা মুসলমানদের নিকট ইউনানী চিকিৎসা বিজ্ঞান শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের দেশে চর্চা ও অনুশীলন করে যেতে থাকে।

চতুর্দশ শতাব্দীর শেষদিকে ইউরোপীয়রা তাদের দেশে অনুসৃত ইউনানী চিকিৎসা-ব্যবস্থার নাম পরিবর্তন করে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা নামে অভিহিত করে। গ্রীক শব্দ 'অ্যালো' (allo) অর্থ অন্য, বিপরীত, পর এবং 'পথস' (pothos) অর্থ রোগ, অর্থাৎ বিপরীতমুখী চিকিৎসা। এর অর্থ হলো রোগ কোন ব্যাধিজ যথা ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ভাইরাস ঘটিত। কাজেই এর বিপরীতে দাঁড়িয়ে শক্তিশালী ঔষধ দিয়ে ঐ ব্যাধিকে ধংস করে রোগমুক্তি ঘটাতে হবে। এ সময়ই ব্রিটিশরা সারাবিশ্বে একের পর এক অঞ্চল করায়ত্ত করে উপনিবেশ সৃষ্টি করতে থাকে। বৃটিশ সরকার এই উপনিবেশগুলোতে অ্যালোপ্যাথ চিকিৎসার প্রচার ও প্রসার ঘটাতে প্রবৃত্ত হয়।  শুধু তাই নয়, অ্যালোপ্যাথ চিকিৎসা পদ্ধতিতে কোন রোগের ওষুধ উদ্ভাবন এবং বাজারজাতকরণের পূর্বে পরীক্ষণ প্রাণীর উপর পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়। বৃটিশরা পরীক্ষণ প্রাণীর সঙ্গে তাদের উপনিবেশের অসংখ্য মানব সন্তানকে গিনিপিগ (বায়োলজিক্যাল স্পেসিস) হিসেবে ব্যবহার করে বহু ঔষধের কার্যকারিতা প্রমানিত করে। অপরদিকে, দেশীয় চিকিৎসা পদ্ধতি বিজ্ঞান সম্মত নয়-এ অপবাদ দিয়ে আইনের সাহায্যে এই চিকিৎসকা পদ্ধতিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু তাদের এ বিপরীতমুখী চিকিৎসা ব্যবস্থার সাফল্যের পাশাপাশি ব্যাপক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রোগ আরোগ্যের পরিবর্তে মানুষ নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকে। সরল রোগও জটিল থেকে জটিলতর আকার ধারণ করে দুরারোগ্য ব্যাধিতে পরিণত হয়, এমনকি নিত্য নতুন নতুন রোগের লক্ষণও প্রকাশ পেতে থাকে।

রোগের এই বহুরূপতা এবং রোগীদের দুর্দশা দেখে অ্যালোপ্যাথ চিকিৎসা ব্যবস্থায় শিক্ষিত চিকিৎসক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান তাঁর নিজের শিক্ষা এবং অনুসৃত চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে যে বিপ্লবী চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন তার নাম হোমিওপ্যাথি। গ্রীক ‘হোমোইয়ো’ শব্দের অর্থ এক, সদৃশ, অনুরূপ অর্থাৎ ‘সদৃশ বিধান’। মনীষী হ্যানিম্যানের দর্শন হলো অধিক বা স্থূল মাত্রায় যে দ্রব্য (উদ্ভিদ, খনিজ বা প্রাণিজ) দেহে কোন লক্ষণ (রোগ) সৃষ্টি করতে সক্ষম, সে দ্রব্যই সূক্ষ্ম মাত্রায় প্রয়োগ করা হলে ঐ দুর্লক্ষণ দূর করতে সক্ষম। তাঁর দর্শনের সপক্ষে তিনি উদ্ভিদজাত, প্রাণিজ এবং খনিজ দ্রব্য নিজের শরীরে পরীক্ষা করেন এবং বিশ্ব¯ত অনুসারীদের দিয়েও পরীক্ষা করান। হ্যানিম্যানের এই সদৃশ বিধানের মৌলিকত্ব হলো এই যে, কোনো প্রচলিত  চিকিৎসা ব্যবস্থার বিপরীতে এ ব্যবস্থায় কেবল একটি ঔষধ (সে উদ্ভিদজাত হলে একটি উদ্ভিদজাত, প্রাণিজ হলে একটি প্রাণীজাত, রোগবীজজাত হলে একটি রোগবীজ থেকে উৎপন্ন) একজন রোগীকে একসঙ্গে প্রদানের রীতি রয়েছে। শুধু তাই নয়, অ্যালকোহল সংরক্ষণীতে ঐ ওষুধ শক্তিকৃত করা হয় এবং যত বেশী তরলীত (হোমিওপ্যাথির ভাষায় শক্তিকৃত) হয় তত ঐ ঔষধের কার্যকারিতা দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর হয়। তাঁর এ অভিনব (প্রায় পাঁচশত বছর পূর্বে যখন হ্যানিম্যান এ বিধান প্রবর্তন করেন তখনকার মতে) চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বিপরীতমুখী  চিকিৎসা ব্যবস্থা এর সমর্থকগণ কর্তৃক অবৈজ্ঞানিক ও অসার বলে অভিহিত হলেও কালের সিঁড়ি বেয়ে আজ সে বিধানই পরীক্ষিত হয়ে বিশ্বে অন্যতম চিকিৎসা-ব্যবস্থা হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে।  হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সাফল্য শরীর ও মনের গভীরে প্রোথিত রোগ (যাকে হোমিওপ্যাথিক ভাষায় চির রোগ বা ক্রনিক রোগ বলা হয়) থেকে রোগীকে বিনা কষ্টে দ্রুত সুস্থাবস্থায় প্রত্যাবর্তন। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বিকশিত এ চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রায়  ১২০০  ঔষধ  অন্তর্ভুক্ত, যার এক-তৃতীয়াংশের অধিক উদ্ভিদজাত।

পশ্চিম ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ভাবিত ইউনানী, অ্যালোপ্যাথিক এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যাপক প্রচার ও প্রসার সত্বেও এবং সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ দিকে বণিক থেকে ধনিক এবং অবশেষে রাজদন্ড হাতে-পাওয়া ব্রিটিশদের প্রচন্ড চাপের মুখে থেকেও, ভারতবর্ষের নিজস্ব  চিকিৎসা পদ্ধতি কিন্তু ফল্গুধারার মতো ধীরে ধীরে বয়েই চলেছিলো। 

এ উপমহাদেশের প্রাচীনতম শাস্ত্র ঋগ্বেদ এবং অথর্ববেদে (খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০) লতা-গুল্মের ভেষজ ধর্ম দ্বারা রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে উল্লেখ দেখা যায়। অথর্ববেদ থেকে জানা যায় যে, বৃক্ষ এবং গুল্ম কেবল স্বাস্থ্যের সংরক্ষণ এবং উন্নয়নই সাধন করতো না, দুর্দৈবের কুপ্রভাব থেকে সন্তান-সন্ততিদের রক্ষা করার ভূমিকাও পালন করতো। চিকিৎসা শাস্ত্রের জনক হিসেবে অত্যন্ত যথার্থভাবে হিপোক্রিটাসকে (৪৬০-৩৭০ বিসি) শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। কিন্তু একই সময়ে বা কিছু আগে-পরে, তৎকালীন ভারতবর্ষে চরক ও সুশ্রুত আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের যে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন তা ইতিহাসে তেমন প্রাধান্য লাভ করেনি। চরক সংহিতা ও সুশ্রুত সংহিতা ছাড়াও বিভিন্ন শতাব্দীতে ভেলা সংহিতা, কাশ্যপ সংহিতা, অগ্নিবেশ তন্ত্র ইত্যাদি চিকিৎসা বিষয়ক অসংখ্য মৌলিক সৃষ্টির উদ্ভব ঘটেছিলো। চরক সংহিতায় জীবনবিজ্ঞান আয়ুর্বেদকে রোগের কারণ ও উপসর্গ এবং ঐসব রোগের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত বিজ্ঞান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই চিকিৎসা শাস্ত্রের উদ্ভব, গর্ভধারণ, প্রসব ও শারীরিক বিকলাঙ্গতা সম্পর্কেও আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে, সুশ্রুত সংহিতা চরক সংহিতার সাথে প্রায় অভিন্ন হলেও, এই সংহিতায় শল্য চিকিৎসার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। সুশ্রুত শল্য চিকিৎসাকে অত্যন্ত প্রাধান্য দান করেছেন এই কারণে যে, এই চিকিৎসার দ্বারা অল্প সময়ের মধ্যে নিরাময় লাভ করা যায়। এ থেকে একটা বিষয়স্পষ্ট হয় যে, পশ্চিমা ও মধ্যপ্রাচ্যের চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবিত হওয়ার পূর্ব থেকে এ উপমহাদেশে তার নিজস্ব চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গিয়েছিলো।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের সমুজ্জল ধারা ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত স্ব-মহিমায় বিদ্যমান ছিলো। অতঃপর এলোপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার অপ্রতিরোধ্য দাপটে ম্রিয়মান হয়ে পড়লেও মানুষের একটা বিরাট অংশ আয়ুর্বেদ চিকিৎসা ব্যবস্থাকেই ধরে রেখেছিলো এবং অদ্যাবধি রেখেছে। প্রায় দু’শ বছর প্রচন্ড নিপীড়নের মধ্যে থেকেও নিজ অস্তিত্ব বজায় রেখে একবিংশ শতাব্দীতে পুনরায় আয়ুর্বেদ চিকিৎসা ব্যবস্থা সগৌরবে অধিষ্ঠিত হয়েছে। 

হ্যানিম্যানকে সদৃশ বিধানের জনক বলা হয়, কিন্তু তারও কয়েকশত বছর পূর্বে এ উপমহাদেশে ‘সমঃ সমঃ শময়তি’ মূলসূত্র মতে যে একটি চিকিৎসা-ব্যবস্থা প্রচলিত হয়েছিল, সে সম্পর্কে পাশ্চাত্যের কোন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে উল্লেখ নেই। ‘সমঃ সমঃ শময়তি’ এর মূল বক্তব্য হলো কোন দ্রব্য সেবনে দেহে ও মনে যে যে লক্ষণ প্রকাশ পায়, কোন সময় দেহে সে লক্ষণ দেখা গেলে ঐ দ্রব্য সেবনেই তার উপশম হয় (চিরঞ্জীব বনৌষধি ২য় খন্ড)। বাংলায় যে প্রবাদ প্রচলিত আছে অর্থাৎ ‘বিষে বিষক্ষয়’ উপরোক্ত মূলসূত্র তারই ভিত্তি ভূমি। বৈদিক সূত্রের বহুমুখী বক্তব্যকে অনুসরণ করেই পরবর্তীকালের আয়ুর্বেদ সংহিতাকারগণ প্রতিটি ভেষজকে কখনও একক, কখনও মিলিত যোগের (উপাদান, অনুপান) দ্বারা দেহ-মনের ক্ষয় নিবারণ বা পাপ পরিশুদ্ধ করেছেন। কারণ, তাঁরা জানতেন এ দেহ ও মন গঠিত হয়েছে পঞ্চ-ভৌতিক উপাদানের দ্বারা। এগুলো শুক্র, রেতঃকণা এবং শোণিতের সম্মিলিত গঠন। এ দেহের মধ্যেই রয়েছে অসংখ্য স্রোত, কিন্তু ব্যাধির প্রত্যক্ষ উৎপত্তির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ১২-১৩টি স্রোত পরিলক্ষিত হয়েছে। এ স্রোতগুলি দূষিত হলে (আহার-বিহার ও অন্যান্য দোষে) সে অসংখ্য স্রোতের মধ্যে নিকটতম স্রোতও দূষিত হয় এবং একটি ধাতু দূষিত হলে নিকটতম ধাতুও দূষিত হয়। এভাবে স্রোতগুলো পরস্পর পরস্পরের সুস্থতা-অসুস্থতার কারণ ঘটায় বলেই অনেক সময়   রোগের সূক্ষ্মতম কারণ নির্ণয় করতে গেলে উপসর্গটাকেই প্রধান রোগ বলে ভুল করা হয়। আবার উপসর্গটাকে গৌণ বিবেচনা করতে গেলে মূল ব্যাধিটাই হয়তো শংকর হয়ে দাঁড়ায়। এ ক্ষেত্রে আয়ুর্বেদের অভিমত হলো, প্রতিটা রোগের উৎপত্তিস্থল এবং এর কারণ নির্ণয় করেই ভেষজের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশ্চাত্যের হোমিও দর্শন কি তার চেয়ে প্রাচীন আয়ুর্বেদ দর্শনের আলোকে আলোকিত হয়নি?

কেবল ‘সমঃ সমঃ শময়তি’ নয়, চরক এবং অন্যান্য মনীষীগণ এমন একটি বিজ্ঞান ভিত্তিক সূত্র উল্লেখ করেছেন যা এখনও বিজ্ঞানীদের প্রভাবিত করে। সে সূত্র হলো ‘যস্য দেশস্য যে জন্মি তজ্জং তস্য ভেষজম’ অর্থাৎ যেখানে যে রোগের আবির্ভাব হয়, সেখানেই সে রোগের নিরাময় যোগ্য ঔষধ বিদ্যমান থাকে। এর উদাহরণ পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আমরা না জানলেও আমাদের দু-চারজন পন্ডিত ব্যক্তি আলোর দিশারী হয়ে এখনও আছেন বা ভবিষ্যতেও থাকবেন, তাঁরা এর উল্লেখ করতে পিছপা হন নি। আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য মহোদয় উল্লেখ করেন যে, কালব্যাধি হাম, বসন্ত যখন দেখা দেয় তখন আশেপাশেই ফোটে সজিনার ফুল ও ফল। পাওয়া যায় উচ্ছে, করলা ইত্যাদি। পাতা ঝরা নিম গাছে উদ্গত হয় নতুন পাতা। এগুলো হাম, বসন্তের প্রতিষেধক ও প্রতিরোধক। ভেলা (Semecarpus anacardium) কুষ্ঠ রোগের ঔষধগুলোর অন্যতম। এ ভেষজ উদ্ভিদটি ভারতের মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম এবং তার আশেপাশের জেলাসমূহে ব্যাপকভাবে জন্মে। মজার ব্যাপার হলো, ঐ অঞ্চলে কুষ্ঠ রোগের প্রাদুর্ভাবও অধিক। আসাম অঞ্চলের ভয়াবহ রোগ ব্লাক ওয়াটার ফিভার-এর মহৌষধ বনৌষধি হরিণা বা গোদা বা আলুই (Vitex peduncularis) ঐ অঞ্চলেই জন্মে।   শিবকালী মহোদয় উল্লেখ করেছেন যে, কোন দেশ জাঙ্গল (জঙ্গল বা বৃক্ষপূর্ণ), কোন দেশ আনুপ (জনবসতিপূর্ণ), কোন দেশ মরু বা কোন দেশ সাধারণ (চিরঞ্জীব বনৌষধি ১ম খন্ড)। প্রতিটি দেশেরই পৃথক পৃথক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সে বৈশিষ্ট্য মৃত্তিকা, তাপমাত্রা, পানির অবস্থা প্রভৃতি বিচারে বৈচিত্র্যময় এবং স্বাতন্ত্র্যের দাবিদার। এ সকল পার্থক্য প্রাণী বা উদ্ভিদ- উভয় জগতের শারীরিক এবং প্রকৃতিগত পার্থক্য ঘটায়। সুশ্রুতও তাই বলেছেন, ‘‘এ পৃথিবীর সকল দ্রব্যকে ভাগ করে- কোন দ্রব্য ক্ষিতি (মাটি) প্রধান, কোনটি জলপ্রধান, কোনটি বায়ু প্রধান আবার কোনটি বা আকাশ প্রধান পাওয়া যাবে। কারণ পৃথিবীর অবস্থানে ভিন্নতা দ্রব্যসমূহের স্বভাব- প্রকৃতির নিয়ামক। আর এজন্যই প্রতিটি ভেষজও  প্রতিটা মানবের জন্য পৃথক পৃথক গুণ প্রকাশ করে।”

ভারতবর্ষের এ সুপ্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি পাশ্চাত্যের চিকিৎসা ব্যবস্থার পূর্বে বিদ্যমান ছিল শুধু তাই নয়, নিজস্ব বিশ্লেষণ এবং ব্যাপকতায়ও এ চিকিৎসা পদ্ধতি ছিলো অনন্য। এ চিকিৎসা-ব্যবস্থা শুধু মানুষের নয়, প্রাণী এবং উদ্ভিদজগতেরও চিকিৎসা বিধান হিসাবে পরিগণিত। 

পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, যেখানে যে রোগের আবির্ভাব হয়, সেখানে সে রোগের ঔষধি উদ্ভিদ জন্মে। তা হলে আমাদের দেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে কেন দেশজ ঔষধি উদ্ভিদ ব্যবহার করা হচ্ছে না বা জনপ্রিয় হচ্ছে না? বিদেশী ঔষধ প্রয়োগ করে কি কাঙিখত ফল পাওয়া যায়? এটা প্রাকৃতিক নিয়মেই হয়ে থাকে এবং আমাদের পূর্বসূরী ভিষক-বৈদ্যদের বাণীগুলোর যথার্থতা প্রমান করে । দূরদেশী ভেষজ উদ্ভিদ যেমন-পলসেটিলা, ইপিকাক, ইউপেটোরিয়াম, রাসটক্স থেকে তৈরী ঔষধ কোন কোন ক্ষেত্রে যখন সুফল আনতে ব্যর্থ হয়, সে ক্ষেত্রে কালোমেঘ (Andrographis paniculata), চিরতা (Swertia cirata), নাটা (Caesalpinia bonduc), শেফালিকা (Nyctanthes arbortristis), গুলঞ্চ (Tinospora cordifolia), উলট কম্বল (Abroma augusta) প্রভৃতি দেশজ উদ্ভিদ রোগীদের নিরাময় করে প্রমাণ করেছে যে, যে-দেশের ভেষজ সে- দেশের ব্যাধির পক্ষে অধিক হিতকারী। এ বিষয়ে যথাযথ গবেষণার জন্যে অবিলম্বে উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা গ্রহণ করা আবশ্যক। কৃত্রিম ঔষধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার ভয়াবহতা এবং দূর দেশসমূহের সকল ভেষজ উদ্ভিদের পূর্ণ সুফল প্রদানে ব্যর্থতা প্রকারান্তরে দেশজ ঔষধি উদ্ভিদ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করিয়ে দেয়। আবহমানকাল ধরে এ অঞ্চলের মানুষ দেশজ চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছে। আজও গ্রাম বাংলার মানুষের প্রায় সর্বক্ষেত্রে ও শহরের মানুষের অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত সুস্বাস্থ্যের পেছনে রয়েছে দেশীয় ঔষধি উদ্ভিদ ও কবিরাজ, বৈদ্য, হাকিম ও হোমিওপ্যাথগণের অসামান্য অবদান। 

বৈদিক যুগে প্রতিটি উদ্ভিদের ঔষধি গুণাবলী সম্পর্কে তৎকালীন বৈদ্যক সম্প্রদায় পূর্ণ অবগত ছিলেন। তাঁদের কারো কারো ছিল নিজস্ব ভেষজ উদ্ভিদ উদ্যান। বংশ পরম্পরায় তাঁরা তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেন। তারপর আয়ুর্বেদ চিকিৎসা পদ্ধতির ভিষক তথা কবিরাজবৃন্দ তা আরও বিকশিত করে তোলেন। তাঁরাও বংশ পরম্পরায় এর ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। কিন্তু ব্রিটিশ শাসনামলে আইনের কঠিন চাপে দেশীয় চিকিৎসা-ব্যবস্থা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে। ভিষকবৃন্দ তাঁদের সন্তানদেরকে নিজ নিজ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় আগ্রহী করে তুলতে বাধ্য হন। ঔষধি উদ্ভিদে সমৃদ্ধ উদ্যানগুলোও ভাগাড়ে পরিণত হয়। মানুষ ভুলে যেতে থাকে বনৌষধির গুণাবলী ও প্রয়োগ পদ্ধতি। আমরা হয়ে পড়ি সম্পূর্ণ পরমুখাপেক্ষী। এমনকি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ঔষধি উদ্ভিদ চেনা-জানার যে সুযোগ ছিল (উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের ট্যাক্সোনমি শাখায়) তাও ছাত্রছাত্রীদের অনাগ্রহ এবং এই ক্ল্যাসিক লাইনে শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাবে প্রায় বন্ধ হয়ে আসে। কিন্তু সত্য চিরকালই সত্য। ঔষধি উদ্ভিদের উপকারিতা এবং আমাদের দেশজ চিকিৎসা পদ্ধতির সার্বজনীনতা এত বাধাবিঘ্নের মধ্যেও হারিয়ে যায়নি। অ্যালোপ্যাথিক  চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে বিশেষ করে শরীর ও মনের গভীরে প্রোথিত রোগ নিরাময়ে ব্যর্থতা, কোনো কঠিন রোগ সনাক্তকরণে ত্রুটি ও ভুল ঔষধ প্রদান এবং অনেক ঔষধের কখনও কখনও ভয়ংকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে মানুষ রোগের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। ফলে ঐ রোগের ঔষধ রোগীকে প্রদানের ফলে (যেমন যক্ষ্মার লক্ষণ দেখে যক্ষ্মা না হওয়া রোগীকে যক্ষ্মার ঔষধ দেয়া, বাতরোগে ভুলক্রমে রক্ত পরীক্ষায় বাতরোগের নির্দেশক আবিষ্কার করে বাতরোগের ইনজেকশন দেয়া), ভয়ঙ্কর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মানুষকে ভয়ানক চিন্তিত ও ব্যথিত করে তুলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাই বাধ্য হয়েছে দেশীয় চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোকে স্বীকৃতি দিতে। ফলে এককালের অতি সমৃদ্ধ দেশীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা আজ বাস্তবতা ও সত্যের তাগিদে নতুন সমৃদ্ধ অবয়বে আবার ফিরে আসতে শুরু করেছে। প্রাকৃতিক নিয়মে প্রকৃতিজাত উদ্ভিদ ভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থার এই পুনরাগমনকে আমরা স্বাগত জানাই।

আগামীনিউজ/এএইচ