Agaminews
Dr. Neem Hakim

ঈদের খুশিতে বিপদ সংকেত


আগামী নিউজ | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২০, ০৯:০১ এএম
ঈদের খুশিতে বিপদ সংকেত

শেষ মুহূর্তে এসে ঈদে বাড়ি ফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় আরও বেশি করোনাঝুঁকিতে পড়ল দেশ। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার থেকে যারা বাড়ি যেতে চান, ব্যক্তিগত যানে করে তারা বাড়ি যেতে পারবেন। তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এর ফলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঈদে বাড়িফেরা মানুষের আরও বেশি ঢল নামবে।

এমন পরিস্থিতিকে করোনার সংক্রমণের জন্য আরও বেশি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে তারা বেশি উদ্বিগ্ন ঢাকা শহর ও এর আশপাশের লোকজনের যাতায়াত নিয়ে। তাদের মতে, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী ঢাকা শহর ও এর আশপাশের স্থানগুলোতে। মোট আক্রান্তের ৮৭ শতাংশেরও বেশি রোগী এখানকার। ফলে এসব মানুষ ঈদে বাড়ি ফেরার মধ্য দিয়ে সারা দেশে করোনার সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। এদের মধ্যে যদি কেউ করোনায় সংক্রমিত থাকে, তারা পথে যেতে যেতে রোগটি ছড়াবে। বাড়ি ফিরে স্বজন ও আশপাশের মানুষজনকে সংক্রমিত করবে। এমনকি সুস্থ মানুষও গ্রামে গিয়ে নতুন করে সংক্রমিত হতে পারে। কারণ এখন দেশের সব জেলায় করোনার প্রাদুর্ভাব রয়েছে।

এমনকি ঈদযাত্রা এবং ঈদের জামাতে এসব মানুষের অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশে করোনার দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার ঈদকে কেন্দ্র করে নতুন আরও দুই লাখ মানুষ সংক্রমিত হতে পারে। এতে সংক্রমণের মেয়াদ বাড়বে। চিকিৎসা ব্যবস্থায় চাপ পড়বে। আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুও বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা কিছুতেই ঈদযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া উচিত হয়নি বলে মনে করছেন। তাদের মতে, বরং সুরক্ষা নিশ্চিত করে গণপরিবহন খুলে দিতে পারত। কারণ ব্যক্তিগত গাড়ির নামে এখন ভাড়া করা গাড়িতে মানুষ বেশি করোনাঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করবে। ভাড়া নৈরাজ্য দেখা দেবে। সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

এ ব্যাপারে করোনা মোকাবিলায় গঠিত সরকারের জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের ঢাকা শহরে সারা বাংলাদেশের ৫৬ শতাংশ রোগী আর ঢাকা বিভাগে ৮৭ শতাংশ রোগী। ঢাকা থেকে যারা যাবে, তাদের অনেকে করোনাভাইরাস বহন করেই যাবে এবং অন্যান্য বিভাগে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে। এসব লোকজন যেতে যেতে একজন অন্যজনের মধ্যে ছড়াবে। আবার তারা যে বাসায় যাচ্ছে, সেখানে তারা বাড়ির লোকজনদের মাঝে ছড়াবে। এর ফলে যেটা হবে, সারা বাংলাদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়বে। ঢাকার বাইরে করোনা কম ছিল। সেখানে বাড়বে। অর্থাৎ মোট প্রাদুর্ভাব  বাড়বে। এমনিতেই রোগীর চিকিৎসার ভালো অবস্থা নেই। ভালো মতো চিকিৎসা না হলে মৃত্যুর হারও বাড়বে।

ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতিতেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এ বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিয়ে বলেন, যদি কোথাও একগুচ্ছ সংক্রমণ দেখা দেয়, সেখানে লকডাউন করতে হবে। ছোট ছোট অনেক জায়গা বন্ধ করে দিতে হবে। সেখানে পরীক্ষা বাড়াতে হবে। শনাক্তদের হাসপাতালে নিতে হবে। আর তাদের সংস্পর্শে যারা ছিল, তাদের কোয়ারেন্টাইন করতে হবে।

অবশ্য ঈদযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, যাতায়াত যেহেতু বাড়বে, তাতে যে জায়গাগুলো করোনায় অনাক্রান্ত ছিল বা করোনামুক্ত ছিল, সেই জায়গাগুলোতে করোনাঝুঁকি এসে যাবে। এখন গণপরিবহন বন্ধ আছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যে যেখানে আছে, সেখান থেকেই ঈদ করবে। সেখান থেকে কেন সরে এলো, এর কতটুকু দরকার ছিল সেটাই কথা। প্রাইভেট গাড়িতে গেলে কি ঝুঁকি কম হবে, তা তো না। ঈদে যারা যাচ্ছেন তারা বিত্তশালী মানুষ হবেন। সম্ভবত প্রভাবশালীও বটে। ওনারা যখন যাবেন, তখন আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে লোকজন তাদের কাছে আসবে। যখন যাতায়াত নিষিদ্ধ ছিল, তখনো দেখছিলাম লোকজন যাচ্ছিল। আর যখন প্রাইভেট গাড়িকে ছেড়ে দেওয়া হলো, তখন ঝুঁকি আরও বাড়ল। কারণ প্রাইভেট গাড়ি যদি একটা মাইক্রোবাস হয়, সেখানে যদি ১০ জন করে যেতে থাকে, তাহলে একটা বাসে যে পরিমাণ যাত্রী যায়, সেটা এখন পাঁচটা মাইক্রোবাসে করে যাবে। তার মানে গণপরিবহন বন্ধ করে ঝুঁকি নিরসনের যে কার্যকারিতা, সেটা থাকছে না।

চলাচলে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গত রবিবার থেকেই বিকল্প পথে ঈদে বাড়ি ফিরতে শুরু করে মানুষ। প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ভাড়া করে গ্রামে যেতে থাকে। পরিবার-পরিজন এবং পরিচিতজন মিলে ব্যক্তিগত বা রিজার্ভ করা গাড়িতে গাদাগাদি করেই ঢাকা ছাড়তে থাকে। এমনকি পণ্যবাহী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমেও যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি শুরু হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় এবং সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে ছুটি। এর আওতায় বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ৩০ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছে। করোনার কারণে ঈদুল ফিতরে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ব্যক্তিগত গাড়িসহ বিকল্প বাহনে কেউ যেন ঢাকা ছাড়তে না পারে সেজন্য নির্দেশনা জারি করে সরকার। যাত্রা ঠেকাতে ঈদের আগের চার দিন ও ঈদের পরের দুদিনসহ মোট সাত দিন গাড়ি চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ রাখার কথা বলা হয়। কিন্তু গতকাল এসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সরকার। সামাজিক দূরত্ব মেনে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে ঈদে গ্রামে ফিরতে অনুমতি দেওয়া হয়।

আজ চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল রবিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে ৩০টি রোজা শেষে আগামী সোমবার ঈদ উদযাপিত হবে। যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে, প্রতি বছর এ সময় ৯০ লাখ থেকে ১ কোটির মতো মানুষ ঢাকা ছাড়ে। আর সারা দেশে সব মিলে সাড়ে ৩ কোটির বেশি মানুষ যাতায়াত করে। তবে এ বছর ঠিক কী পরিমাণ মানুষ ঈদযাত্রা করবে, সে ব্যাপারে কোনো পরিসংখ্যান নেই তাদের কাছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে করোনার সংক্রমণ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে শঙ্কিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও। গতকাল স্বাস্থ্য বুলেটিনের শুরুতেই অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা দেশের মানুষের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী, আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে বলতে চাই, বর্তমান পরিস্থিতি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধাবস্থা, এ যুদ্ধ অবস্থায় প্রত্যেককে যোদ্ধার মানসিকতা ধারণ করুন, লড়াইয়ের মানসিকতা ধারণ করুন। যে যেখানে আছেন, সেখানেই অবস্থান করুন। শহর থেকে গ্রামের দিকে যাবেন না। যে প্রিয় আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য আপনি শহর ছেড়ে গ্রামে যেতে চাচ্ছেন, আপনার কারণে আপনার সেই প্রিয়জন যেন ঝুঁকিতে না পড়ে যায়।’

দেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গতকাল এক দিনে সর্বোচ্চ ২৪ জনের মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়াল ৪৩২ জনে। এ সময় আরও ১ হাজার ৬৯৪ জন করোনায় শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে মোট আক্রান্ত ৩০ হাজার পেরিয়ে ৩০ হাজার ২০৫ জন হলো।

এমন পরিস্থিতিতে ঈদযাত্রার ফলে করোনা অনাক্রান্ত জায়গাগুলোকেও আক্রান্ত করবে বলে মনে করেন অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনো ৮০ ভাগ জনগোষ্ঠী করোনামুক্ত আছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে এই মুক্ত রাখা গেছে। করোনা কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় হয়েছে। সবখানে হয়নি। ঢাকায় এখনো অনেক এলাকা মুক্ত। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে সেটা না থাকার একটা ব্যবস্থা হয়ে গেল মনে হচ্ছে। এই আংশিক যাতায়াতের ফলে ঝুঁকিমুক্ত যে জায়গাগুলো ছিল, সেগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেল।

এ বিশেষজ্ঞ বলেন, এবার মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত হবে না, মসজিদে হবে। এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য কী হবে বুঝতে পারছি না। কারণ মুক্ত জায়গায় করে যদি সামাজিক দূরত্বটা বাড়ানো যেত, তবুও একটা সুযোগ ছিল। আমার হিসাবে যদি এক লাখ জামাত হয় এবং প্রত্যেক জামাতে গড়ে দুটি করে সংক্রমণ বাড়ে, তাহলে ঈদের পর দুই লাখ অতিরিক্ত কেস পেতে পারি। ফলে প্রাইভেট গাড়ি খুলে দিয়ে যে জায়গাগুলোতে সংক্রমণ ছিল না, সেখানে সংক্রমণের ঝুঁকিটা বাড়িয়ে দিল।

এভাবে যদি আমরা ঝুঁকি বাড়াই, তাহলে আমাদের জন্য সামনে আরও বড় ধরনের বিপদ অপেক্ষা করছে বলেও মনে করেন ডা. বে-নজির আহমেদ। তিনি বলেন, আজ (গতকাল) আমরা আক্রান্তে ৩০ হাজার পেরিয়ে গেলাম। এখন আমরা সংক্রমণের ঊর্ধ্ব দেশগুলোর ২৭ নম্বরে চলে এসেছি। আমরা ছিলাম ১১৭ নম্বরে। লকডাউন ঠিকমতো না মানা, কোয়ারেন্টাইন না করা, এ ধরনের কার্যক্রমগুলো না করার কারণেই কিন্তু আমরা এ জায়গায় এসেছি। ১১৭ থেকে ২৭ নম্বরের মাঝখানে যে দেশগুলো তারা কিন্তু প্রতিরোধ করতে পেরেছে। ফলে এখান থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি যে, করোনা নিয়ন্ত্রণে প্রতিরোধ কার্যক্রমগুলো যদি করতে না পারি, তাহলে কিন্তু সংক্রমণ থামানো যাবে না। সংক্রমণ হবেই। এখন সংক্রমণ যদি বাকি জনপদগুলোতে ছড়িয়ে যায়, তাহলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।

সংক্রমণ বাড়লে আমরা যে বিপদে পড়ব উল্লেখ করে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, বাড়লে যেটা হবে, আমাদের ল্যাবরেটরিগুলোতে এখনই টেস্টের যে চাপ, এ চাপটা আরও বাড়বে। পরীক্ষার চাহিদা বাড়বে। কিন্তু সেটা পূরণ করতে পারবে না। একটানা কাজ করতে গিয়ে অনেক ল্যাব বসে যাবে। সেখানে যারা কাজ করছেন তারা আক্রান্ত হবেন। উত্তরোত্তর বেশি রি-এজেন্ট লাগবে। আবার যত রোগী বাড়বে, হাসপাতালে চাপ বাড়বে। এখন সেবাদানকারীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। এখন তো বিশেষ কিছু হাসপাতালে চিকিৎসা হচ্ছে। কিন্তু রোগী যখন বেড়ে যাবে তখন কিন্তু সাধারণ হাসপাতালে যাবে। ওষুধের দোকানে যাবে। তখন কিন্তু ওই ওষুধের দোকানদার, হাসপাতালের লোকজনও ঝুঁকিতে পড়বে। ফলে এই যে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করার বিষয়টা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, এসব আমাদের দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণের উপাদানে যুক্ত হতে যাচ্ছে।

ঈদযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে এবার সড়কপথে প্রাণহানি বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত করোনায় যত মানুষ মারা গেছেন, ঈদযাত্রার তিন-চার দিনে সেই পরিমাণ প্রাণহানি লক্ষ করব। কারণ ব্যক্তিগত যান চলাচলের অনুমতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলগুলো সড়কে উঠে যাবে। মোটরসাইকেলে যখন ঈদযাত্রা হয়, তখন সেখানে দুই-তিনজন যাত্রী এবং পেছনে একটা ভারী ব্যাগ থাকে। ফলে এসব মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনার হার বেশি। এছাড়া ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়ায় পণ্যবাহী ট্রাকে যাত্রী বহন হবে। এসব পণ্যবাহী ট্রাক যখন দুর্ঘটনায় পড়ে তখন একসঙ্গে অনেক বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়।

ড. বে-নজির আহমেদ মনে করেন, ব্যক্তিগত যানবাহনকে যে কারণে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, ঠিক একই পদ্ধতিতে দূরপাল্লার বাসগুলোকেও অনুমতি দেওয়া যেত। কারণ একটা দূরপাল্লার বাসে ৪০ জন যাত্রী যাতায়াত করেন। সেই জায়গায় ২০ জন যাত্রীকে যাতায়াতে অনুমতি দেওয়া যেত। কঠোরভাবে মনিটরিং করা যেত। পাশাপাশি যানবাহনগুলোকে জীবাণুনাশকসহ সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেত। তিনি আরও বলেন, দূরপাল্লার বাসে যেভাবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যেত, এখন কিন্তু সেটা হবে না। কারণ একটি মাইক্রোবাসে এখন ১৫-২০ জন নিয়ে যাবে। একটি ট্রাকে ৫০ যাত্রী একসঙ্গে যাচ্ছে। তাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা যাবে না। (খবর: দৈনিক দেশ রূপান্তর,২৩ মে, ২০২০) 

Dr. Neem