Agaminews
August

ইভ্যালির ৩০০ কোটি টাকার হদিস পাচ্ছে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২১, ১০:৪৪ এএম
ইভ্যালির ৩০০ কোটি টাকার হদিস পাচ্ছে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

ফাইল ছবি

ঢাকাঃ ইভ্যালির ৩০০ কোটি টাকার হদিস পাচ্ছে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বড় ধরনের এই আর্থিক অনিয়ম তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ই-কমার্স এসোসিয়েশনকেও চিঠি দেয়া হয়েছে। আর দুদকের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে গ্রাহক ও সেলারের কাছ থেকে নেয়া এই শত শত কোটি টাকা গেল কোথায়?

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইভ্যালির আর্থিক অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার এবং প্রতিযোগিতা কমিশনে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই চিঠি পেয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে দুদক। তদন্তের স্বার্থে দুদক ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার জন্য আদালতে আবেদন করে। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার আদালত ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

দুদক সূত্র বলছে, প্রাথমিক তদন্তে ইভ্যালির আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। যার কারণে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার বিষয়টি নিয়ে তদন্তু শুরু করেছে। সেই সঙ্গে আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি নিয়ে সিআইডিও তদন্ত করছে।

এসব বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ইভ্যালির কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এসব সংস্থা তদন্ত সাপেক্ষে ইভ্যালির বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। ই-কমার্স নীতিমালার বিষয়ে জানতে চাইলে এই অতিরিক্ত সচিব বলেন, ই-কমার্স নীতিমালা হয়ে গেছে।

সরেজমিন গতকাল শনিবারও ধানমন্ডির সোবহানবাগে ইভ্যালির কার্যালয়ে গিয়ে অফিস বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া হটলাইনে ফোন দিয়েও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কিন্তু ফোন বন্ধ করে ফেসবুকে সক্রিয় রয়েছেন ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল। সর্বশেষ গতকাল শনিবারও তিনি পণ্য ডেলিভারি হচ্ছে বলে ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ই-কমার্স নীতিমালা না হওয়ার কারণে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রথম থেকে ইভ্যালি গ্রাহকদের থেকে অগ্রীম টাকা নেয়। নানা আকর্ষণীয় অফারের ফাঁদে ফেলেছে গ্রাহকদের। কম টাকা বেশি লাভের আশায় ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করে এখন হতাশায় ভুগছেন গ্রাহক ও মার্চেন্টরা। পণ্য সরবরাহ করে টাকা না পাওয়াতে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, আদৌ কি গ্রাহকরা তাদের অর্থ ফেরত পাবেন ইভ্যালি থেকে। খোদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের থেকে নেয়া প্রায় ৩০০ কোটি টাকার হদিস পাচ্ছে না। আসলে এই টাকা কোথায় রেখেছে ইভ্যালি। এতে আরো বেশি সংশয় তৈরি হয়েছে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের মধ্যে। খোদ বাণিজ্যমন্ত্রীও সংশয় প্রকাশ করেছেন কীভাবে পাওনাদারের অর্থ পরিশোধ করবে ইভ্যালি।

গ্রাহকদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, ইভ্যালির সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো সাড়া মিলছে না এবং তারা প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় বন্ধ পাচ্ছেন। একজন গ্রাহক জানান, একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য ইভ্যালিতে প্রায় দেড় লাখ টাকা দিয়েছেন। দুই মাসের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি না দেয়ায় ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ার নম্বরে যোগাযোগ করেও সাড়া পাননি। অফিসে গিয়ে দেখেন অফিসও বন্ধ। পরবর্তী সময় ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করেন। প্রতিদিনই এমন শত শত গ্রাহকের অভিযোগ জমা পড়েছে ভোক্তা অধিদপ্তরে।