Agaminews
Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

থেমে নেই রূপগঞ্জের জামদানী কারিগররা 


আগামী নিউজ | রফিকুল ইসলাম রফিক, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ৩, ২০২১, ০৩:১৪ পিএম
থেমে নেই রূপগঞ্জের জামদানী কারিগররা 

ছবি: আগামী নিউজ

নারায়ণগঞ্জঃ বৈশ্বিক মহামারী করোনা আর লকডাউনও থামাতে পারেনি নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে জামদানী পল্লীর কারিগরদের। তাঁত পল্লীতে এখনও শোনা যায় জামদানী শাড়ী বুননের তাঁতের খট খট আওয়াজ। ঈদকে সামনে রেখে জামদানী পল্লীতে চলছে শাড়ী তৈরীর ব্যস্ততা। পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক না পাওয়া তার উপর করোনা আর লকডাউনে কারণে ক্রেতা সংকট দেখা দেয়ায় কারিগররা অর্থ কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এ দিকে মেশিনে তৈরী বিদেশ থেকে আসা জামদানী শাড়ীর দাম কম হওয়ার কারনে দেশে হাতে বোনা জামদানী শাড়ী চড়া দামে ক্রেতাদের কাছে চাহিদা কমে যাচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। 

নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে এই জামদানী পল্লী। তাঁত পল্লীতে এখন শোনা যায় জামদানী শাড়ী বুননের তাঁতের খট খট আওয়াজ। ঈদকে সামনে রেখে জামদানী পল্লীতে চলছে জামদানী শাড়ী তৈরীর ব্যস্ততা। বংশ পরম্পরায় এখানে জামদানী কারিগররা জামদানী শাড়ী বুনন করে আসছে।

ছোট বড় সব শ্রেনীর বাঙ্গালী রমনীদের পছন্দের একেকটি জামদানী শাড়ী বুনতে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সময় লেগে যায়। আবার কোন কোন সময় এক থেকে দেড় মাসের সময় প্রয়োজন হয়। দুই হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা মুল্যের জামদানী শাড়ী এখানে তৈরী হচ্ছে। নিখুঁত একটি জামদানী শাড়ী বুননের জন্য যে পরিমান পরিশ্রম এবং সময় ব্যয় হয় এখন সে পরিমান পারিশ্রমিক পাওয়া যায় না। তার উপর এখন করোনা আর লকডাউনে কারণে ক্রেতা সংকট দেখা দেয়ায় কারিগররা অর্থ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। বুকভরা আশা লকডাউন শেষ হলে তাদের বুনন করা শাড়ী বিক্রি বাড়বে তখন শোধ করতে ধারদেনা। বংশ পরম্পরায় কাজ শিখলেও এখন জীবন জীবিকার প্রয়োজনে পেশা হিসেবে নিতে হচ্ছে। নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ ছাড়াও সোনারগাও এবং সিদ্ধিরগঞ্জে অল্প সংখ্যক জামদানী তৈরী হয়।

রূপগঞ্জের জামদানী পল্লীতে বিভিন্ন এলাকার বিপনী বিতানগুলোর চেয়ে দাম কম হওয়ায় বিভিন্ স্থান থেকে আসা নারী-পুরুষ ক্রেতারা সরাসরি জামদানী শাড়ী কিনে নিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার বলছেন মেশিনে তৈরী বিদেশ থেকে আসা জামদানী শাড়ীর দাম কম হলেও হাতে বুনা জামদানী শাড়ী হিসেবে চড়া দাম কিনে প্রতারণা এড়াতে এখানে আসেন। আবার কেউ কেউ বলছেন করোনা লকডাউনে ভিড় এড়াতে জামদানী পল্লীতেই কেনাকাটা করছেন।

ঈদ উপলক্ষে জামদানী রোজার মাঝামাঝি সময় থেকে বিক্রি বাড়লেও এ বছর করোনা আর লকডাউনে তা হচ্ছে না বলে জানান জামদানী ব্যবসায়ীরা। কারিগরদের মতো জামদানী ব্যবসায়ীরাও হতাশ প্রকাশ করে জানান, কারিগ দের বাঁচাতে শাড়ী তৈরী করে রাখা হচ্ছে। ব্যবসা ধরে রাখতে টাকার প্রয়োজনে অনেক সময় কম দামে শাড়ী বিক্রি করায় নানা সমস্যায় আছেন জানিয়ে সরকারের কাছে অর্থসহায়তা দাবী করেন ব্যবসায়ীরা।

রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতির পর বৈশ্বিক মহামারী করোনা আর লকডাউনে লোকসান বেশী হচ্ছে জানিয়ে বলেন, গত বছর লকডাউনে আমদানী বন্ধ থাকায় দেশীয় পোষাক একমাত্র উপায় থাকায় ব্যবসা ভাল হয়েছে। কিন্ত এ বছর হঠাৎ লকডাউনের আগে প্রচার পরিমানে বিদেশী পোষাক আমদানী হয়ে গেছে। এ সব পোষাকের দাম কম আর জামদানীর দাম বেশী। তাই ক্রেতারা কমদামের দিকেই বেশী ঝুঁকে থাকে বলে জানান নারী ব্যবসায়ী ফারহানা আক্তার । 

বাংলার ঐতিহ্যবাহী জামদানী শিল্পকে রক্ষার জন্য সরকার বিদেশ থেকে জামদানী শাড়ী চোরাই কিংবা বৈধ ভাবে আমদানী বন্ধ করবে এমনটাই প্রত্যাশা জামদানী শিল্পের সাথে জড়িত সকলের।

আগামীনিউজ/নাহিদ