কচুরিপানা ফুলে প্রকৃতি মেতেছে নতুন রূপে

দেওয়ান পলাশ, দুপচাঁচিয়া ( বগুড়া) প্রতিনিধি এপ্রিল ১৫, ২০২১, ১০:৪৪ এএম
ছবিঃ আগামী নিউজ

বগুড়াঃ পরিত্যাক্ত জলাশয়ে দলবেঁধে ফুটেছে কচুরিপানা ফুল। ফুলের নির্মল ও স্নিগ্ধকর সৌন্দর্য প্রকৃতিতে যোগ করেছে নান্দনিকতা। তাই প্রকৃতি মেতেছে এখন নতুন রূপে।

ডোবা ও জলাশয়ে ফুল ফুটে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা জলাশয় থেকে শিশির ভেজা কচুরিপানার ফুল তুলে খেলা করে। মেয়েরা খোপায় বাঁধে।

বাংলায় কচুরিপানার আগমনের ইতিহাস চর্চা করে জানা গেছে,  অর্কিড সাদৃশ্য ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে  একজন ব্রাজিলিয়ন পর্যটক ১৮শ’ শতাব্দীতে বাংলায় নিয়ে আসেন কচুরিপানা। এরপর থেকেই বাংলার প্রায় প্রতিটি জলাশয়ে ভরে উঠে কচুরি পানাতে। পরবর্তী সময় কচুরিপানার কারণে নদীতে নৌকা চলাচলসহ ধান, পাঠ চাষে অনুপযোগী হয়ে পড়ে খাল বিল। এজন্য ১৯৩৬ সালে কচুরিপানা আইন জারি করা হয়। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যক্তি উদ্যোগে কচুরিপানা পরিষ্কার করা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।

বগুড়া জেলার জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার বিভিন্নস্থানের ছোট বড় খাল-বিল বাড়ির পার্শ্বের পুকুর ডোবা-নালায় এখন ফুটেছে সৌন্দর্যবর্ধক দৃষ্টিনন্দন কচুরি পানার ফুল।

দুপচাঁচিয়া জাহানারা কামরুজ্জামান কলেজের সহকারি অধ্যাপক দিনেশ চন্দ্র বসাক আগামী নিউজকে বলেন, কচুরিপানা খুব দ্রুত বংশ বিস্তার করে। কচুরিপানা আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতিকর মনে হলেও কৃষিক্ষেত্রে এর যথেষ্ট উপকারিতা রয়েছে।  কৃষকেরা কচুরিপানা উঠিয়ে জমিতে ফলানো আলু, পটলসহ বিভিন্ন সবজি চাষে ব্যবহার করছেন। কচুরিপানা থেকে এখন তৈরি হচ্ছে জৈব সার। ফলে কৃষক ফসল উৎপাদনে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। কৃষি বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরি করতে সময় লাগে ৭০ দিন কিন্তু কচুরিপানা থেকে সময় লাগে ৫৫ দিন।

এছাড়া মাটির শক্তি যোগাতে ভূমিকা রাখছে কচুরিপানা। কৃষকদের কচুরিপানা থেকে জৈবসার উৎপাদনে প্রশিক্ষণ দিলে জৈবসার ব্যবহারে যেমন কৃষক উপকৃত হবে অপরদিকে বিদেশের রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। সেইসাথে কচুরিপানা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আগামীনিউজ/সোহেল