করোনা চিকিৎসায় ন্যাচারোপ্যাথি ও পারমাথেরাপি

 ড.নিম হাকিম  এপ্রিল ২৫, ২০২০, ০১:৩৫ পিএম

১. ন্যাচারোপ্যাথি: শরীরের মধ্যেই রয়েছে সকল রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা যদি শরীরকে দেয়া যায় প্রকৃত পক্ষে তার যা প্রয়োজন যেমন: সঠিক খাদ্য, নিরাপদ পানি, দূষণমুক্ত বাতাস, সূর্যের আলো, ব্যায়াম এবং বিশ্রাম। শরীর, মন ও উদ্যম একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত, ন্যাচারোপ্যাথি সে কথাই বলে।

২. পারমাথেরাপি: পারমাথেরাপি হলো স্থায়ীভাবে রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময় ব্যবস্থা। পারমাথেরাপি বর্তমানে বিশ্বে যত রকম রোগ নিরাময় ব্যবস্থা আছে তার নির্যাস।পারমাথেরাপি মতে পৃথিবীতে এমন কোন রোগ নেই যার চিকিৎসা বা নিরাময় ব্যবস্থা নেই।

প্রাচীন লোকায়ত নিরাময়ক জ্ঞান ও পদ্ধতির সাথে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সমন্বয় করেছে পারমাথেরাপি। পারমাথেরাপি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিরাপদ প্রযুক্তি ও প্রাচীনকালের আবিষ্কৃত নিরাময় পদ্ধতি একই সাথে প্রয়োগ করে ফলে রোগের স্থায়ী নিরাময় ত্বরান্বিত হয় এবং শরীরে দুর্ভেদ্য প্রতিরোধ শক্তি গড়ে ওঠে। ড. নিম হাকিমের সুদীর্ঘ গবেষণায় উদ্ভাবিত ন্যাচারোপ্যাথি ও পারমাথেরাপি মৌলিক আবিষ্কার হিসাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক কপিরাইটকৃত। ন্যাচারোপ্যাথি ও পারমাথেরাপির সমন্বয়েই পারমাকেয়ার। ইহা একটি সমন্বিত রোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি। 

৩. সমন্বিত রোগ  ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি: এক বা একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রোগ বালাই প্রতিরোধ ও প্রতিকারই হল সমন্বিত রোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি। 

৪. করোনাভাইরাস (COVID-19) কি? করোনাভাইরাস হলো একটি ছোঁয়াচে রোগ যা নুতন আবিষ্কৃত করোনাভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত হয়।

৫. কি ভাবে ছড়ায়: আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস জনিত কণার মধ্যে এই ভাইরাস বাস করে এবং তাঁর থুতু, হাঁচি-কাশির দ্বারা এক মিটার পর্যন্ত তা ছড়ায়। মেঝে, কোনো বস্তু বা মাটির উপর ৭-১৪ দিন পর্যন্ত জীবন্ত থাকতে পারে এবং সেখান থেকে স্পর্শ এর মাধ্যমে চোখ, নাক ও মুখের মাধ্যমে অন্যকে আক্রান্ত করে।

৬. কিভাবে জানবেন আপনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত:  

১. গলা শুকিয়ে যাবে ২. গলা চুলকাবে ৩. শুকনো কাশি হবে ৪. শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাবে ৫. শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হবে ৬. খাবারের গন্ধ এবং স্বাদ পাওয়া যাবে না ৭. ক্লান্তি আর অবসাদ লাগবে ৮. মাথা ব্যথা করবে ৯. গলা ব্যথা করবে ১০. বুকে ব্যথা হবে ১১. নাক বন্ধ হয়ে আসবে ১২. নাক দিয়ে তরল ঝড়বে ১৩. বমি-বমি ভাব হবে বা বমি হবে ১৪. চোখে ব্যথা হবে ১৫. শরীরের মাংসপেশিতে ব্যথা হবে।

এগুলো একই সাথে অথবা এক বা একাধিক ভাবে হতে পারে। 
 
উল্লেখ্য যে, প্রাথমিক অবস্থায় আক্রান্ত এর কোনটিও প্রকাশ নাও পেতে পারে। 

৭. যাদের আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি: ইমুনিটি সিস্টেম বা যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদরোগ, অ্যাজমা, ক্যান্সার ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত। এছাড়াও ধুম ও মদ্যপায়ী। সাধারণত ধুম ও মদ্যপায়ীদের হৃৎপিণ্ড দুর্বল থাকে। আক্রান্ত হওয়ার কোন নির্দিষ্ট বয়স নেই তবে ষাটোর্ধ্ব বয়সীদের ঝুঁকি বেশি। 

৮. মানসিক সমস্যা: সর্দি-কাশি, গলাব্যাথা এসব লক্ষণ দেখা দিলে সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে তার প্রকৃতি প্রদত্ত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় রোগ-ব্যাধি আরো জোরালোভাবে আক্রমণ করে। তাই কোনো অবস্থাতেই আক্রান্ত হলে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়া যাবে না। কারণ এ রোগ আক্রান্ত ৮০ ভাগ রোগী সঠিক ব্যবস্থাপনায় এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। ভেঙে পড়লে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

ন্যাচারোপ্যাথি ও পারমাথেরাপি পদ্ধতিতে প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা:  

৯. করোনা দমনের পদ্ধতি: 
   
করোনাভাইরাস দমনে মূলত ২টি পন্থা প্রয়োজন: _  (ক)এন্টি-ভাইরাল বা ভাইরাস প্রতিরোধী বা ধ্বংসকারি সামগ্রী বা উপাদান ব্যবহার। (খ) ইমুউন সাপোর্ট বা শরীরের রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী খাদ্য ও পানিয় গ্রহণ।    
    
১০. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ভাইরাস প্রতিরোধে যেসব ভেষজের কার্যকরিতা পরীক্ষা করে অনুমোদন করেছেন তা হলো: নিম, লবঙ্গ, রসুন, আদা, লেবু, তুলসি, ঘৃতকুমারী, লেমনগ্রাস, থাইম (জোআন), মরিচ। 
                
১১. দেশে প্রাপ্ত যে সব খাদ্য ও  ভেষজে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী উপাদান রয়েছে তার মধ্যে: অশ্বগন্ধা, তুলসি, রসুন, আদা, মাশরুম , জিংসেং, কালজিরা, গ্রীন টি ইত্যাদি। 

১২. করোনাভাইরাস দমনে যা করনীয়:_  

ক. এই ভাইরাসের পিএইচ ৫.৫ - ৮.৫ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ তাই একে দমন করতে হল এর চেয়ে বেশি পিএইচ বা ক্ষার যুক্ত খাবার খাওয়া যেমন:- লেবু, রসুন, কমলা, আমড়া, বাদাবি লেবু, আনারস ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে।

খ. এছাড়া ও আক্রান্ত হওয়ার আগে বা পরে প্রতিরোধ এবং প্রতিকার উভয়ের জন্যই লেবু, লং, এলাচ, দারুচিনি, আদা খেতে পারেন।

গ. সরিষার তেল অথবা সরিষার তেলের সাথে কয়েক ফোটা নিমের তেল বা একটু কাঁচা হলুদের রস মিশিয়ে গায়ে মাখতে পারেন।  

১৩. এই ভাইরাস প্রতিকার ও  প্রতিরোধে করনীয় হলো: অবসাদ দূর করা, ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধি করা, স্নায়ু ও  লিভারের শক্তি বৃদ্ধি করা ও শরীর স্বস্তিদায়ক রাখা।

এর মধ্যে রয়েছেঃ- 
ক)অবসাদ দূর করে শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি কারী ভেষজ: শতমূলী, খানকুনি, জিংসেং, নিম ইত্যাদি।

খ) ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধি কারী ভেষজ?: তুলসি, বাসক, সাজনা পাতা, কালোমেঘ, কালোজিরা। 

গ) যেসব ভেষজ স্নায়ু  শক্তি বৃদ্ধি করে: কারাঞ্জা তেল,কালোজিরার তেল। 

ঘ) স্বস্তিদায়ক ভেষজ: রোজেলী,কালোতিল,ধনিয়া,আমলকি,হরতকি বহেড়া। 
  
ঙ) লিভারের শক্তি বৃদ্ধি কারী ভেষজ
: কালোমেঘ, চিরতা, গুলঞ্চ, নিম, নিসিন্ধা, কালোজিরা, মেথী, মৌরি, জোয়ান, ধনিয়া, তিল ইত্যাদি। 

চ) এন্টি ভাইরাল এসেনশিয়াল অয়েল: সাইট্রাস, জুনিপার, ইউকেলিপটাস, টি ট্রি, লেভেন্ডার, ক্লোভ, লেমন গ্রাস, পেপারমিন্ট, আনিস, ব্লাক পেপার ইত্যাদি ।

ছ) ভাইরাস নিরোধি বালিশ: শুকনো হলুদ পাতা, নিমপাতা, তুলসিপাতা, লেমন গ্রাস ও দেশি শিমুল তুলার বালিশে ঘুমালে  ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। 
 
জ) এন্টি-ভাইরাল স্প্রে: ১০ লিটার পানিতে ১০ গ্রাম কাঁচা নিম পাতা বাঁটা রস বা শুকনো নিম পাতা সিদ্ধ পানি, ১০ গ্রাম কাঁচা হলুদের রস এবং ৫ মিলি নিম তেল মিশিয়ে স্প্রে করলে ঘর, বাড়ি, বাড়ির আঙ্গিনা, বাগান, রাস্তা বা জনসমাগমের স্থান ভাইরাস মুক্ত রাখা যায়। এই মিশ্রন শক্তিশালি এন্টি-ভাইরাল সমৃদ্ধ ।

১৪. কি খাবেন:  
ক)দই ১/২ কাপ প্রতিদিন একবার। 
খ) দেশি আদার রস অথবা কাঁচা আদা। 
গ)খাঁটি মধু ও তুলসি পাতার রস একবার। 
ঘ) বাদাম-মুগডাল ২০ গ্রাম প্রতিদিন একবার।
ঙ)দেশি কাঁচা রসুন খালি পেটে ১/২ কোয়া প্রতিদিন একবার।
চ)খুশখুশে কাশি থাকলে তুলসি বা বাসক পাতার রস মধুসহ তিনবার।
ছ) চা চামুচের একচামুচ বা ৩-৫গ্রাম কলোজিরা প্রতিদিন একবার।
জ) তেজপাতা, লং, দারুচিনি ও আদা এক সাথে পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানি এক কাপ পরিমান প্রতিদিন ২ বার। 

ভিটামিন সি: ৪০০-৫০০ মি:গ্রাম ভিটামিন সি অথবা প্রতিদিন ১টা কমলালেবু একটা সবুজ আপেল, জাম্বুরা, আমড়া, পেয়ারা, মাল্টা, কামরাঙ্গা বা যেকোনো টক জাতীয় ফল।

মাছ: প্রাকৃতিক উৎসের মাছ বা সামুদ্রিক মাছ হলে ভালো হয়।

ছোলা: অঙ্গুরিত ছোলা প্রতিদিন ৩৫গ্রাম। 

সাজনা: সাজনা পাতার চা ২বার বা রান্না করা সাজনা পাতা।

ডাবের পানি: প্রতিদিন একটা ডাব।  
এ ছাড়াও  প্রচুর পরিমাণ দেশীয় শাক-সবজি খেতে হবে।

পরিমাণ মত দেশী মুরগীর ডিম ও মাংস এবং ভেষজ প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, সবুজ শাক-সবজি, জিঙ্কসহ অন্যান্য খনিজ ও প্রোটিন যুক্ত খাবার প্রতিদিন।

ন্যাচারোপ্যাথি ও পারমাথেরাপি পদ্ধতিতে ফাংশনাল ফুড ব্যবহার হয়ে থাকে। 

১৫. ফাংশনাল ফুড ( Functional Food)  কি? 
ফাংশনাল ফুড বা কার্যকরী খাদ্যের ধারণা সৃষ্টি হয়েছে জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার সুবিধাজনক এবং স্বল্প খরচে সমাধানের নিমিত্তে। এই ধারণার উদ্ভব হয়েছে সর্বপ্রথম জাপানে ১৯৮৪ সালে।

জাপানে এটি  FOSHU বা  Food  for Specific Health Uses  অর্থাৎ  খাদ্য, যা সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যায় ব্যবহার হয় বলে পরিচিত। এই খাদ্য ইউরোপ, আমিরিকার বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, একাডেমি, ইনস্টিটিউট ও গবেষণা সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত। এসব সংস্থা বিভিন্নভাবে এর বর্ণনা দিলেও সর্বশেষ আমেরিকার ডায়েটটেটিক অ্যাসোসিয়েশন(ADA) যেখানে বিশ্ব খ্যাত পুষ্টিবিদ ও খাদ্য বিশেষজ্ঞরা জড়িত তারা ফাংশনাল ফুড বা ঔষধী গুণাগুণ সম্পন্ন খাদ্যের যে বর্ণনা দিয়েছেন তা হলো- ‘‘Whole, fortified, enriched or enhanced” that should be consumed regularly and at effective amounts in order to derive health benefits.

১৬. প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: যেকোনো সাবান বিশেষ করে যাতে জীবাণুনাশক উপাদন আছে তা দিয়ে দিনে অন্তত ৪/৫বার ২০ সেকেন্ড করে হাত ধুতে হবে। বাইরে বা জনসমাগম থেকে এসে হাত না ধুয়ে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করা যাবে না। ঘরের যেসব পোশা প্রাণী বাইরে বা আশেপাশের বাড়িতে আসা যাওয়া করে তাদের স্পর্শ না করাই ভালো। যেহেতু এই ভাইরাসটি ফুসফুসের উপরের অংশে(Upper Respiratory)  বাসা বাঁধে যে কারণে নিম্ন বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে।

ক) নিমের ছাল দিয়ে তৈরি মাউথওয়াশ দিয়ে গড়গড়ি বা কুলকুলি করা। 
খ) প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মাঝে যা আক্রান্ত হয়নি তাদেরকে ২৫০ গ্রামের দুইটি করে নিম ক্যাপসুল খালিপেটে এবং রাতে শোয়ার সময় দুইটি পঞ্চরত্ন ক্যাপসুল (নিম, নিসিন্ধা, কালমেঘ, গুলঞ্জ ও গিলা দিয়ে তৈরি) প্রতিদিন সকালে সর্বনিম্ন ১৪ দিন এবং সর্বোচ্চ ৬০ দিন।
গ)প্রতিদিন ১০-৩০ মিনিটের জন্য সূর্যের আলো গায়ে লাগানো।
ঘ) প্রতিদিন দেড় থেকে ২ লিটার উষ্ণ গরম পানি পান করুন।
ঙ)যেকোনো প্রকার ভয়ভীতি বা দুশ্চিন্তা থেকে বিরত থাকুন।
চ) জনসমাগমে গেলে মুখে লবঙ্গ রেখে চিবানো ।

ছ)ডায়াবেটিস না থাকলে প্রতিদিন ২ চামুচ খাঁটি মধু খাবেন।

১৭. প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা: নিম সহজ লভ্য প্রাকৃতিক উপাদান যাতে রয়েছে পরীক্ষিত ও প্রমাণীত এন্টিভাইরাল একশন বা কার্যকরিতা। ডেঙ্গু, চিকন গুনিয়া, এইডস, ম্যালেরিয়া, মার্স, সার্স, কালোজ্বর ও অন্যান্য ভাইরাল, ব্যাকটেরিয়াল ও ভেক্টরবন ডিজিজে কার্যকারি।  
ক)নিম লিফ ক্যাপসুল(২৫০ মি:গ্রাম) প্রতিদিন দুইটি করে ২বার।
খ)প্রতিদিন ২-৩ বার এক গ্লাস উষ্ণ গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খাওয়া।
গ)নিমপাতার গরম চা প্রতি ৪ ঘন্টা পর পর।
ঘ)নিমের উক্ত গরম চা দিয়ে ৩-৪ ঘন্টা পর পর গড়গড়ি বা কুলকুচি করা।
ঙ)৮-৯ ঘন্টা বিশ্রাম নিন। 
চ)যেকোনো প্রকার ভয়ভীতি বা দুশ্চিন্তা থেকে বিরত থাকুন।

ছ)ডায়াবেটিস না থাকলে প্রতিদিন ২ চামুচ খাঁটি মধু খাবেন।

১৮.এছাড়াও ব্যবহার করতে পারেন : নিম সাবান, নিম টুথ পেস্ট, নিমের হ্যান্ডওয়াশ, নিমের বডি লোশন, নিম  ফেসওয়াশ ও নিম শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে নিশ্চিত হতে হবে যে, এসব সামগ্রীতে আসল বা প্রকৃত নিম ব্যবহার করা রয়েছে কিনা। এখন বাজারে অনেক নিম সামগ্রী পাওয়া যায়, যা নামে মাত্র নিম এবং শুধু মাত্র নিমের কৃত্রিম ফ্লেভার ব্যবহার করে ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে।  

১৯.সাবধানতা: আক্রান্ত ব্যক্তির হাত দেয়া চেয়ার-টেবিল, চামুচ, দরজার হেন্ডেল ,বাসন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল,কি-বোর্ড,চশমা বা চশমার ফ্রেম , ওয়ালেট বা মানিব্যাগ ইত্যাদি স্পর্শ করলে ও তাতে ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। তাই এগুলো প্রতিনিয়ত জীবাণুনাশক দিয়ে দিনে অন্তত ২বার পরিষ্কার করতে হবে।  

২০.কিভাবে সময় কাটাবেন: শরীরের রোগ প্রতিরোধী খাদ্য ও পানীয়, ব্যায়াম মানসিক প্রশান্তি আনতে পারে তেমন বই পুস্তক, ধর্মীয় পুস্তক পড়া বা ভিডিও দেখা, চিন্তা মুক্ত থাকা। ধূমপান ও মদ্যপান না করা, মোবাইলে বেশি কথা না বলা, দেশ- বিদেশে মৃত্যুর খবরে ভীত বা আতংকিত না হওয়া। আক্রান্তদের থেকে বিশেষ করে তাদের হাঁচি-কাশি থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা। কোনো আত্মীয়স্বজন বন্ধু-বান্ধব ও পাড়া-প্রতিবেশি কোনো আত্মীয়রা না খেয়ে আছে কিনা তার খোঁজ খবর নেয়া।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্য ও সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা। ইবাদত বন্দেগী বা ধ্যানে সময় কাঁটানো। 

২১.বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মোতাবেক করোনা মোকাবেলায় করণীয়: প্রতি রোগী শনাক্তকরণ, আলাদাকরণ, সন্দেহভাজন প্রতিটা রোগীকে পরীক্ষা করা, সব রোগীর যথাযথ সেবা দেওয়া এবং রোগী ও সন্দেহভাজন রোগীদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টাইন করা। 

২২. বিরত থাকুনঃ মদ , সিগারেট , চিনি , যেকোন প্রকার ফাস্ট ফুড , প্রসেস্ড ফুড, কার্বোনেটেড ড্রিঙ্কস , কৃত্রিম রং ও ফ্লেভারযুক্ত খাবার , হাইব্রীড ও জিএমও (জেনেটিক্যালি মোডিফাইড অর্গানিজমস) খাবার তা শাক সবজি হোক বা মাংস হোক বা মাছ হোক ইত্যাদি প্রহণ এবং কৃত্রিম পারফিউম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

ঘোষণা: করোনা (COVID-19) একটি  নুতন আবিষ্কৃত ভাইরাস এবং আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর কোন প্রতিকার বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। করোনা চিকিৎসায় ন্যাচারোপ্যাথি ও পারমাথেরাপির যে বিধিবিধান উল্লখ করা হোল তা লেখকের নিজস্ব উদ্ভাবন এবং পরীক্ষামূলক। এতে করোনা প্রতিরোধ বা প্রতিকারের কোন নিশ্চয়তা উদ্ভাবক দিচ্ছে না। 

উল্লেখ্য যে, ‘ন্যাচারোপ্যাথি ও পারমাথেরাপি’  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার থেকে মৌলিক উদ্ভাবন হিসেবে কপিরাইট প্রাপ্ত।

প্রাকৃতিক নিরাময়ই, প্রকৃত নিরাময়।

লেখক: পারমাকালচারিস্ট, পারমাথেরাপিস্ট, হারবালিস্ট, নিমোলজিস্ট ও আয়ূর্বেদিক চিকিৎসক। ভাইস চেয়ারম্যান ও ডিরেক্টর এশিয়া, ওয়ার্ল্ড নিম অর্গানাইজেশন (WNO)  চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ নিম ফাউন্ডেশন। 

উদ্যোক্তা: ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ন্যাচারাল মেডিসিন(IUNM) ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড হারবাল রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট(ICIHRD)

প্রতিষ্ঠাতা: বিশ্বের প্রথম ও একমাত্র ঔষধ উদ্ভিদের জীন ব্যাংক 
উদ্ভাবক: পারমাথেরাপি নামক স্থায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি।
আন্তর্জাতিক সম্মাননা: গ্লোবাল নিম অর্গানাইজেশন কর্তৃক তিনিই একমাত্র “গ্লোবাল নিম রত্ন”  খেতাবে ভূষিত যা তাকে প্রদান করা হয়েছে মহাত্মা গান্ধী কাশি বিদ্যাপিঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব নিম সম্মেলনে।  

লেখকের সাথে প্রয়োজনে ই-মেইলে যোগাযোগ:  mahakim63@yahoo.com 

এই নিবন্ধে উল্লেখিত সকল পণ্য ঘরে বসে পেতে ভিজিট করতে পারেন :
Dr. Neem

Herbal World