ফারদিন আত্মহত্যা করতে পারে না, নাটক সাজানো হচ্ছে: বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডিসেম্বর ১৫, ২০২২, ০৩:৫৩ পিএম

ঢাকাঃ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ফারদিন নূর পরশের আত্মহত্যা করেছে বলে ডিবির বক্তব্য বিশ্বাস করতে পারছেন না তার বাবা কাজী নূর উদ্দিন রানা। তিনি বলেছেন, ‘আমার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর এখন আত্মহত্যার নাটক সাজানো হচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিনের মৃত্যুর ঘটনাকে 'আত্মহত্যা' বলে উল্লেখ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল সন্ধ্যায় আয়োজিত এই সংবাদ ব্রিফিংয়ে ফারদিনের 'আত্মহত্যা'র পেছনের কিছু কারণের কথাও উল্লেখ করেন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ।

তার বক্তব্যের পর আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেন ফারদিনের বাবা। নূর উদ্দিন রানা বলেন, ফারদিনের আত্মহত্যার বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থা যে তথ্যপ্রমাণ দেখিয়েছে সেটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। তদন্তকারী সংস্থা পরিবারের দেওয়া কোনো তথ্যপ্রমাণ আমলে নেয়নি।

তদন্ত নিয়ে অসন্তুষ্টি জানিয়ে কাজী নূর উদ্দিন বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলেরা অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে। সব ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে চলতে পারা আমার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না।

ঘটনার দিন বুয়েটের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে ফারদিন চুল কাটিয়েছিল এবং সেভ করেছিল বলে জানান তার বাবা। এসময় তিনি প্রশ্ন রেখে বলে, আত্মহত্যার আগে কি কেউ চুল কাটায় ও সেভ করে?

ফারদিনের বাবা বলেন, আমি ফারদিনের মায়ের তরফ থেকে হাতজোর করে বলছি; আমার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। কীভাবে সেখান থেকে পড়ে আত্মহত্যা করা যায়; আমি করে দেখাব।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নূর উদ্দিন বলেন, মদ ও গাঁজা খেয়েছে মানা যায়; কিন্তু আত্মহত্যা করেছে সেটা মানা যায় না।

সৎভাবে টাকা আয় করেছেন জানিয়ে ফারদিনের বাবা বলেন, আমার সন্তানরা অমানুষের মতো মানুষ হয়নি। তারা মানুষের মতো মানুষ হয়েছে। তাই ফারদিন আত্মহত্যা করতে পারে না।

ফারদিনের মরদেহের দুটি ছবি দেখিয়ে কাজী নূর উদ্দিন বলেন, আমি ফারদিনের মরদেহ দেখেছি, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্যই শুরু থেকে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে। বিভ্রান্ত করা হয়েছে।

উপস্থিত সাংবাদিকদের অনুরোধ জানিয়ে ফারদিনের বাবা বলেন, সাংবাদিক ভাইদের আমি অনুরোধ করে বলছি, আপনারা আমার সঙ্গে সুলতানা কামাল ব্রিজে চলেন। আমি ব্রিজ থেকে লাফ দেবো, সেখান থেকে পড়লে কতটা আঘাত লাগে আপনারা দেখবেন।

বুয়েট প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে ফারদিনের বাবা বলেন, বুয়েটের ভিসি এবং প্রশাসন কী জানতেন, ফারদিন আত্মহত্যা করেছে যে কারণে তিনি আমার পরিবারকে সান্ত্বনা পর্যন্ত দেননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ আমার ও আমাদের সঙ্গে দেখাও করেননি। আমার ছেলে বুয়েটে ভর্তি না হলে এমন পরিণতি হতো না।

ডিবির এই তদন্ত নিয়ে নারাজি দেবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরপরেও কি আর নারাজি দিতে হবে।

বুইউ