নেত্রকোনায় বোরো ধানের ন্যায্য দামে খুশি কৃষক, মেহেরপুরে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিনিধি এপ্রিল ২৭, ২০২১, ১১:৪২ এএম
ছবিঃ সংগ্রহীত

ঢাকাঃ নেত্রকোনার তিন উপজেলায় হাওরে বোরো ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। মাঠজুড়ে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৮৫/৯০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে, সপ্তাহখানেকের মধ্যে শতভাগ ধান কাটা সম্পন্ন হবে। দুই দফায় হিট শক ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতির পরও কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য দাম পেয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। জেলার মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন হাওরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, হাওরাঞ্চলে কৃষকদের সারা বছরের একমাত্র ফসল হচ্ছে বোরো ধান।

আগাম বন্যা কিংবা শিলাবৃষ্টিতে তাদের কষ্টের ফসলের যেন আর কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য পাকাধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। সর্বত্র ধান কাটা, মাড়াই ও ধান সেদ্ধ করে তা শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কোথাও কৃষি শ্রমিক, কোথাও আবার সরকারের ভর্তুকি দেয়া কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে গোলায় তোলা হাওরাঞ্চলে কৃষকদের মাঝে এক ধরনের উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। কয়েক দিন আগে গরম ঝড়ো বাতাস ও শিলাবৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের আংশিক ক্ষতি হওয়ার পরও বেশির ভাগ হাওরে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকরা খুশি।

কৃষকরা মাঠে ধান বিক্রি করছেন প্রতি মন ৮৩০-৮৫০ টাকা, ধান কাটার শুরুতেই ছিল প্রকার ভেদে মন প্রতি ৯২০-৯৫০ টাকা। নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে নেত্রকোনা জেলায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে শতভাগ হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরী উপজেলায় ২০ হাজার ১০০ হেক্টর, মদন উপজেলায় ১৭ হাজার ৩৪০ হেক্টর, মোহনগঞ্জ উপজেলায় ১৭ হাজার ৪৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৩ টন। তবে মেহেরপুরে বোরো ধানে ব্লাস্ট ও ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইটের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এছাড়া রয়েছে সাম্প্রতিক হিট শকের প্রভাবও। এতে জেলার বেশির ভাগ জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধানের শিষ শুকিয়ে চিটা হয়ে যাচ্ছে। জমিতে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ছিটিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না কৃষক।

এতে জেলায় বোরো ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ধানের ফলন ঠিক রাখতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। হঠাৎ ব্লাস্ট ও ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইটের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ায় আগামী মৌসুমে ব্রি-২৮ জাতের ধানের আবাদে কৃষকদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলার তিন উপজেলায় ১৯ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। সারা বছর পরিবারের চালের চাহিদা মেটাতে ও বিক্রির উদ্দেশে বোরো ধান আবাদ করেন কৃষকরা। কিন্তু এবার ব্লাস্টের আক্রমণে জমির ধানের শিষ চিটায় পরিণত হচ্ছে। গাছ ভালো থাকলেও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ধানের শিষ। অন্যদিকে উঁচু এলাকার জমিতে দেখা দিয়েছে ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট বা পাতা পোড়া রোগ। এছাড়া হিট শকের কারণে অনেক জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে জেলাজুড়ে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

আগামীনিউজ/প্রভাত