‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস’ উপলক্ষ্যে

প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বাণী

ডেস্ক রিপোর্ট নভেম্বর ১, ২০২০, ০৯:১৭ এএম
ছবি: আগামীনিউজ

ঢাকাঃ ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস’ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন:

প্রতি বছরেরর ন্যায় এবারও ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস ২০২০’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষ্যে আমি দেশের তারুণ্যদীপ্ত যুবসমাজকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।

এবারের প্রতিপাদ্য ‘মুজিববর্ষের আহ্বান, যুব কর্মসংস্থান’ অত্যন্ত যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুমহান নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্যস্বাধীন দেশপুনর্গঠনে সবধরনের পদক্ষেপ নিয়ে ছিলেন। তিনি যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দেশপুনর্গঠনের কাজে নিয়োজিত করেছিলেন।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়নের মূলধারায় যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করতে দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রকল্প ও যুবকর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে। যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন কারিগরি, বৃত্তিমূলক এবং কৃষিভিত্তিক বহুমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। যুবঋণ দিয়ে তাদের আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দক্ষজনশক্তি হিসেবে প্রবাসেও যুবদের কর্মসংস্থানের প্রসার ঘটেছে।

ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির মাধ্যমে  ইতোমধ্যে ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৭ জন শিক্ষিত বেকার  যুবক ও যুবনারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। ৬৪টি জেলা কার্যালয় ও যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৪৯৮টি উপজেলায় ৮৩টি ট্রেডে এ পর্যন্ত ৬১ লাখ ৭৬ হাজার ৭০৮ জন যুবকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষিত যুবদের মধ্যে ২২ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৫ জন যুব আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছে।

আমরা ‘যুবকল্যাণ তহবিল আইন, ২০১৬’ প্রণয়ন করেছি। যার আওতায় এ পর্যন্ত ১২ হাজার ২৩৫টি যুব সংগঠনকে ১৭ কোটি ৮৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। ‘জাতীয় যুবনীতি, ২০১৭’ প্রণয়নপূর্বক অ্যাকশন প্ল্যান প্রকাশিত হয়েছে ও ইয়ুথ ইনডেক্স প্রণীত হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী যুবসংগঠনগুলোকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে যুবসংগঠন (নিবন্ধন এবং পরিচালনা) আইন, ২০১৫ ও যুব সংগঠন (নিবন্ধন ও পরিচালনা) বিধিমালা, ২০১৭ প্রণয়ন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২০ হাজারের অধিক যুবসংগঠন তালিকাভুক্ত ও নিবন্ধিত হয়েছে। দেশের বহু যুবক ও যুবসংগঠক ‘কোভিড-১৯’ পরিস্থিতিকালীন স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকার ‘তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’কে বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি উপজেলায় যুব প্রশিক্ষণ ও বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেন্টার অভ্ এক্সিলেন্স হিসেবে সাভার, ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় যুবউন্নয়ন ইনস্টিটউট গড়ে তোলা হয়েছে, যার মাধ্যমে যুবপ্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উচ্চতর ডিগ্রি প্রদান করা হবে।

যুব সমাজকে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, আত্নোন্নয়ন ও সমাজ বিনির্মাণে গতিশীল ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি মহিলা, শিশু বয়োজ্যেষ্ঠ, প্রতিবন্ধী ও পিছিয়েপড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিও যুবসমাজকে দায়িত্বশীল হয়ে সমাজ-রাষ্ট্র থেকে সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদনির্মূলে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের সরকার যুবসমাজকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে।

আমি আশা করি, প্রাণশক্তিতে ভরপুর আমাদের যুবসমাজ তাদের অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে আরও কার্যকর অবদান রাখবে।

আমি ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস ২০২০’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।’’

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ১ নভেম্বর ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“দেশের যুবসমাজের মধ্যে সচেতনতাবৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও পহেলা নভেম্বর ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস ২০২০’ উদ্‌যাপিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ উপলক্ষ্যে আমি যুবসমাজকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন। ‌এবছর বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মুজিববর্ষের আহ্বান, যুব কর্মসংস্থান’ সময়োপযোগী ও যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।

যুব সমাজ জাতির প্রাণশক্তি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান নিয়ামক। তারা সাহসী, বেগবান, প্রতিশ্রুতিশীল, সম্ভাবনাময় ও সৃজনশীল। বাংলাদেশের ইতিহাসে যুবদের বীরত্বপূর্ণ অবদান ও মহান আত্মত্যাগ চিরঅম্লান হয়ে থাকবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর আহ্বানে মুক্তিসংগ্রামের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এদেশের যুবসমাজ ত্যাগ, তিতিক্ষা ও আত্মোৎসর্গের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে ছিনিয়ে আনে স্বাধীনতার লালসূর্য। মূলত বাংলাদেশের ইতিহাস যুবদের গৌরবময় অবদানে ভাস্বর। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ জাতির বিভিন্ন সঙ্কট উত্তরণে যুবসমাজের অবদান জাতি কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করে।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার বৃহৎ অংশই যুবসমাজ। আগামী ২০৪৩ সাল পর্যন্ত যুবসমাজের সংখ্যাগত আধিক্যের এ ধারা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নতদেশে রূপান্তর ও জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ অর্জন করতে এ জনমিতিক সুবিধাকে (Demographic Dividend) কাজে লাগাতে হবে। এজন্য আমাদের যুবসমাজকে পরিপূর্ণ দক্ষ ও মানবিক করে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তাদের পশ্চাৎপদতা, কুসংস্কার, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রেখে আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক, পরমতসহিষ্ণু, উদার ও নৈতিকতাসম্পন্ন বিবেকবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দেশপ্রেমের মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে যুবসমাজ দেশগঠনের কাজে নিজেদের ‌আরো বেশি নিবেদিত করবে - এ প্রত্যাশা করি।

আমি ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব দিবস ২০২০’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করি।

জয় বাংলা।

খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”