এসএমই খাতে মোট ঋণের মাত্র ৪ শতাংশ নারীকে দেয়া হয়েছে : লীলা রশিদ

কামরুল হাসান মার্চ ৫, ২০২০, ০৮:৪৫ পিএম

ঢাকা : নারী উদ্যোক্তাদের সাথে ক্রেতার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাজার সংযোগ, উদ্যোক্তাদের নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধি, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে বিভিন্ন সমস্যাবলি আলোচনার মাধ্যমে সকল পক্ষকে সচেতন করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ব্যাংকার-এসএমই নারী উদ্যোক্তা সমাবেশ ও পণ্য প্রদর্শনী মেলা-২০২০ আয়োজন করেছে। যার সামনে থেকে নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক লীলা রশিদ। এই বিষয়ে তাঁর সাথে বিস্তারিত কথা হয় আগামীনিউজ ডটকমের।

লীলা রশিদ বলেন, ‘আমাদের ছোটো ছোটো প্রয়াস একদিন নারীদের বড় উদ্যোক্তা হতে সহায়তা করবে। আমরা চাই উদ্যোক্তারা যাতে বলতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় অমুক ব্যাংক থেকে উদ্যোক্তা ঋণ নিয়ে আজ আমি সফল ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা হয়েছি। আমি চাই উদ্যোক্তারা ব্যাংকগুলোকে সার্টিফাই করুক।’

এসএমই ডিপার্টমেন্টের এ মহাব্যবস্থাপক বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগের ফলে কটেজ, মাইক্রো, স্মল ও মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ (সিএমএসএমই) খাতে নারীরা অধিক হারে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তাই নারী উদ্যোক্তা খাতের উন্নয়নে সারাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের কাছে সরকারি ও বেসরকারি সকল স্টেকহোল্ডারদের সব ধরনের কর্মসূচি ও সেবার তথ্য সঠিকভাবে পৌঁছানো জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘সিএমএসএমই-এর গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকে এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস্ ডিপার্টমেন্ট নামে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ কাজ করছে। বিভাগের ভিশনে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা অফিসসহ প্রধান কার্যালয়ে ও সকল ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে আলাদাভাবে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইউনিট গঠন করা হয়েছে। সাম্প্রতিককালে সিএমএসএমই খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশে সকল পর্যায়ে দৃশ্যমান সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে।’

লীলা রশিদ বলেন, ‘আর্থিক সেবা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আর্থিক সেবা বিস্তৃতির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এসএমই অর্থায়ন বিষয়ক সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত তথ্য শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে দিতে এবং এ সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রতিটি জেলায় লিড ব্যাংক পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে লিড ব্যাংকের করণীয় নির্ধারণ করে লিড ব্যাংকের বাৎসরিক ক্যালেন্ডারও প্রণয়ন করা হয়েছে।’

মহাব্যবস্থাপক বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব সময় আমাদের নির্দেশনা দেন যে, আমরা যেনো গবেষণায় মন দেই। কারণ গবেষণা না করে গদ বাঁধা কাজ করে সফলতা পাওয়া যায় না। তাই এবার মেলাকে আমরা নানান আঙ্গিকে সাজানোর চেষ্টা করেছি। প্রতিবছর মেলায় বুটিক আর কাপড় ছাড়া আর কিছু দেখা যেতো না। কিন্তু এবার পণ্যের ভেরিয়েশন আনতে চেষ্টা করেছি।’

লীলা রশিদ বলেন, ‘আমাদের নারীরা এখন অনেক বেশি কর্মঠ। আমি দেখেছি আমাদের দেশের নারীরা লেদ মেশিনে কাজ করে, ঔষধ কারখানায় হাসপাতালের আইটেম তৈরির কাজও করছে। নারীরা এখন নন ট্রেডিশনাল কাজ করছে। আমাদের এ মার্কেটিংটা প্রপারলি করতে পারলে নারীরা আরো সাহসী হয়ে নন ট্রেডিশনাল কাজে উৎসাহী হবে।’

লীলা রশিদ বলেন, ‘নারীদের ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি একেবারে কম তবুও তাদের ঋণ পাওয়াটা কেনো জানি একটু কঠিন মনে হচ্ছে!’ তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এসএমই খাতের মোট ঋণের মাত্র ৪ শতাংশ নারীদের দেয়া হয়েছে। এভাবে চললে ২০২৪ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাকে এসএমই ঋণের আওতায় আনা কঠিন হয়ে যাবে।’

এসএমই কর্তা বলেন, ‘রাস্ট্রায়ত্ব, বেসরকারি ও স্পেশালাইজড ব্যাংকগুলো সবার একসাথে নারীদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক ও শিল্প মন্ত্রণালয় একসাথে সমন্বয় করে কাজ করছি। যাতে আমরা সবাই একসাথে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

উল্লখ্য, এসএমই খাতে নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শনী মেলার ৭ম আসর বসেছে রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট প্রাঙ্গনে। এ মেলা চলবে আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত।

আগামীনিউজ/কামরুল/ডলি/সবুজ