পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় ক্ষুব্ধ পোপ ফ্রান্সিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক জুলাই ৩, ২০২৩, ০১:৪০ পিএম

ঢাকাঃ সুইডেনে ঈদুল আজহার দিনে মসজিদের বাইরে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় তোলপাড় চলছে বিশ্বে। বেশিরভাগ দেশ এবং সংস্থা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত হয়েছেন বিশ্বের খ্রিস্টান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। একইসঙ্গে ন্যক্কারজনক এই কাণ্ডের নিন্দাও জানিয়েছেন তিনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সংবাদপত্রকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পোপ ফ্রান্সিস এই মন্তব্য করেন বলে সোমবার (৩ জুলাই) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

আরব আমিরাতের সংবাদপত্র আল-ইত্তিহাদকে বলেছেন যে, কোরআন পোড়ানোর অনুমতি দেওয়া মোটেও কাম্য নয় এবং এটি নিন্দনীয়।

পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন পোড়ানো তাকে ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত করেছে বলে জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। এছাড়া বাক স্বাধীনতার নামে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি এটি প্রত্যাখ্যানও করেছেন তিনি।

রয়টার্স বলছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদপত্র আল ইত্তিহাদে এক সাক্ষাৎকারে পোপ ফ্রান্সিস এসব কথা বলেন। সোমবার প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে পোপ বলেন, ‘পবিত্র বলে বিবেচিত যে কোনো গ্রন্থকে সম্মান করা উচিত। আমি এই ধরনের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ এবং বিরক্ত বোধ করি।’

বিশ্বের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান এই ধর্মগুরু বলেন, ‘বাক স্বাধীনতাকে কখনোই অন্যদের অবজ্ঞা বা অবমাননা করার উপায় হিসাবে ব্যবহার করা উচিত নয় এবং এই ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া নিন্দনীয় এবং এটিকে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।’

ঈদুল আজহার দিনে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের একটি মসজিদের বাইরে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনা ঘটে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওআইসিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

এই ঘটনাকে স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ বলে সুইডেন। তবে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার পর অবশেষে এই ঘটনার বিষয়ে নিন্দা প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার।

ভবিষ্যতে পবিত্র কোরআনের সকল ধরনের অবমাননা প্রতিরোধ করার জন্য ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) আহ্বান জানানোর পর সুইডিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জ্ঞাপন করে।

সুইডেনে কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় ‘অরগানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)’ জরুরি বৈঠক করে।

ওআইসি সদর দফতর জানায়, ইসলামী শীর্ষ সম্মেলনের বর্তমান সভাপতি সৌদি আরবের আমন্ত্রণে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

ওআইসি) সেক্রেটারি জেনারেল হিসেন ব্রাহিম ত্বহা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের জরুরি প্রয়োগের বিষয়ে আমাদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিরাম অনুস্মারক পাঠাতে হবে, যা স্পষ্টভাবে ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো সমর্থনকে নিষিদ্ধ করে।’

বুইউ