মাগরিবের নামাজে কাবুলে মসজিদে বিস্ফোরণ, নিহত ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক আগস্ট ১৮, ২০২২, ০৯:১৩ এএম

ঢাকাঃ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে নামাজের সময় একটি মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

আল জাজিরা ও রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার মাগরিবের নামাজের সময় কাবুলের মসজিদে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা এবং পুলিশ জানিয়েছে, অনেকের মৃত্যু বা আহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অবশ্য বিস্ফোরণে অনেক হতাহতের কথা বললেও তাদের সংখ্যা ঠিক কত তা জানায়নি পুলিশ। অন্যদিকে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবানের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, বিস্ফোরণে ৩৫ জনের মতো আহত বা নিহত হতে পারে এবং এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা একজন অজ্ঞাত কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে মোট মৃতের সংখ্যা ২০ জন বলে জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা রয়টার্সকে বলেছেন, শক্তিশালী এই বিস্ফোরণটির প্রকট শব্দ উত্তর কাবুলের বিভিন্ন এলাকা থেকেও শোনা গেছে। এতে করে সেখানকার বহু ভবনের জানালা ভেঙে যায়। অবশ্য বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে অ্যাম্বুলেন্স।

কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান রয়টার্সকে বলেছেন, ‘একটি মসজিদের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটেছে... বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তবে সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়।’

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তালেবান গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, কাবুলের খাইরখানা এলাকার একটি মসজিদে বিস্ফোরণটি ঘটে। এসময় মসজিদে অনেক মুসল্লি ছিলেন।

ওই সূত্রটি আরও জানিয়েছে, বিস্ফোরণে নিহতদের মধ্যে মসজিদের ইমামও রয়েছেন এবং নিহতের সংখ্যা এখনও বাড়তে পারে। আফগানিস্তানের গোয়েন্দা দল বিস্ফোরণস্থলে রয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

তালেবান সরকারের অন্যান্য কর্মকর্তাদের হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করতে একাধিক অনুরোধ করা হলেও তারা সাড়া দেননি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

তালেবানের শাসনের একবছরে সহিংসতার ঘটনা কমেছে দেশটিতে। তবে সম্প্রতি জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের সহযোগী খোরাসান শাখা সেখানে বেশ কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করেছে।

গত সপ্তাহেও তালেবানের একজন শীর্ষ নেতা শেইখ রহিমুল্লাহ হাক্কানি বোমা হামলায় নিহত হন। এই হামলার দায় স্বীকার করে আইএস। এর আগে গত জুনে একটি শিখ মন্দিরে হামলার দায় স্বীকার করে আইএসের খোরাসান শাখা (আইএসকেপি)।

২০২১ সালের ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। সে বছর ৩১ আগস্ট আফগানিস্তানের মাটি ত্যাগ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর সদস্যরা। দেশ শাসনের এক বছরেও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি তালেবান।

এমবুইউ