জোট সরকার গঠনে রাজি নওয়াজ-বিলাওয়াল, ব্যর্থ হবেন কি ইমরান?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৪, ০৪:১২ পিএম

ঢাকাঃ পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে এ পর্যন্ত যে ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে তাতে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো দল। এমন পরিস্থিতিতে জোট সরকার গঠন করতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। যদিও এই দুই দলের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ইমরান খানের দল তেহরিক ই ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

ভোটগণনার ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি এখনও। তার আগেই হাত মেলানোর কথা ঘোষণা করেছে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএলএন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির জোট গড়ায় পাক পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা পাবেন তারা।

জিও টিভির খবরে বলা হয়েছে, বিলাওয়ালের বাবা তথা সাবেক পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এবং শরিফ শুক্রবার রাতে ভোটের ফল আঁচ করতে পেরে বৈঠকে বসেন। শনিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট-পরবর্তী জোটের ঘোষণা করে দুই দল।

পাঞ্জাবের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান মহসিন নাকভির বাড়িতে এই বৈঠক হয়। বৈঠক সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, বিলাওয়াল ও আসিফ জারদারির সঙ্গে শাহবাজ শরিফের বৈঠকে জোট বেঁধে কেন্দ্রে ও পাঞ্জাবে সরকার গড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, ৪৫ মিনিট ধরে চলা বৈঠকে পিপিপির শীর্ষ নেতাদের কাছে নওয়াজ শরিফের বার্তা পৌঁছে দেন শাহবাজ। সেই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য পিপিপি ও পিএমএল-এনের নেতাদের বৈঠকে বসার আহ্বান জানান।

কেন্দ্র ও পাঞ্জাবে জোট বেঁধে ক্ষমতায় যাওয়ার কৌশল নির্ধারণ করতে দুই দলের নেতারা অবিলম্বে আলোচনায় বসবেন বলেও সম্মত হয়েছেন শাহবাজ ও জারদারি।

পাকিস্তান ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে এখন মোট আসন ৩৩৬। কিন্তু তার মধ্যে সরাসরি ভোট হওয়ার কথা ছিল ২৬৬টি আসনে। কিন্তু এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ২৬৫টি আসনে ভোট হয়েছে। বাকি ৭০টি আসন মহিলা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে মহিলাদের জন্য ৬০ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য ১০টি আসন। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী সরাসরি ভোটে যে দল যে সংখ্যক আসনে জয় পাবে, সেই অনুপাতে ওই সংরক্ষিত আসনগুলোতে প্রতিনিধি ঠিক করে দলগুলো।

যদিও সংরক্ষিত আসনগুলোর উপর সরকার গঠন নির্ভর করে না। সেই হিসাব হবে সংরক্ষিত বাদ দিয়ে ২৬৫টি আসনের মধ্যে। সেই অর্থে বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৩৩ জন জয়ীর সমর্থন পেলেই পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ‘জাদুসংখ্যা’ ছোঁয়া সম্ভব হবে। এখনও পর্যন্ত পিএমএলএন ৭১ এবং পিপিপি ৫৩টিতে জিতেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত নির্দলেরা ৯৯ আসনে জয়ী হয়েছে।

এর অর্থ হলো- সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে নওয়াজ-বিলাওয়াল জোট। এছাড়া নির্দলীয় এবং জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলামের মতো কয়েকটি দলের সমর্থনও তারা পেতে পারে।

পাক নির্বাচন কমিশন ‘রাজনৈতিক দল’ হিসাবে পিটিআই এর স্বীকৃতি বাতিল করায় তারা সরাসরি ভোটের ময়দানে নেই। কিন্তু ইমরানের দলের অনেক নেতাই ‘স্বতন্ত্র’ হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

ইমরানকে ঠেকাতে পাকিস্তান সেনা শরিফ-ভুট্টো জোট গড়তে তৎপরতা দেখাবে বলে আঁচ দিয়েছিল পাক সংবাদমাধ্যমের একাংশ। কার্যত সেটি সত্যি হতে চলেছে। একদা প্রবল প্রতিপক্ষ পিএমএলএন এবং পিপিপি অবশ্য বছর দু’য়েক আগে কাছাকাছি আসে। ২০২২ সালে এপ্রিলে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে গরিষ্ঠতা হারিয়ে ইমরান সরকারের পতনের পরে জোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন নওয়াজের ভাই শাহবাজ। ভুট্টো ছিলেন সেই সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


এমআইসি/