আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে কিশোর গ্যাং

ডেস্ক রিপোর্ট অক্টোবর ১৩, ২০২১, ০৭:১২ পিএম
প্রতিকি ছবি

ঢাকাঃ কিশোর গ্যাং সারাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাদেশে বেপরোয়া কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, উপদ্রব, অত্যাচার, নির্যাতন, ক্রমবর্ধমান অপরাধ কর্মকান্ড আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য খুবই উদ্বেগজনক। কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে খুন, ধর্ষণ, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নানা অপরাধে ইতিমধ্যে

সারাদেশে আড়াই শতাধিক কিশোরকে আটক করেছে। পাশাপাশি কিশোর গ্যাং যাতে বিস্তার লাভ করতে না পারে সেজন্য পুলিশ প্রশাসন ও র‌্যাবের বিশেষ সেল সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বড় বাধা আইনি বাধ্যবাধকতা।

এমন অবস্থায় পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের সংজ্ঞা নির্ণয়ের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি কিশোর গ্যাং অপরাধ দমনে সারাদেশের কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ওই তালিকা ডিজিটাল ডাটাবেজ করবে পুলিশ।গত ৩ বছরে সারাদেশের ৬৪ জেলা, থানা, বিভাগ ও মেট্রোপলিটন এলাকায় অন্তত ১০ হাজারের বেশি কিশোর গ্যাং গড়ে উঠেছে বলে পুলিশের তালিকায় স্থান পেয়েছে। আর কেবলমাত্র রাজধানী ঢাকার ৫০ থানা এলাকাতেই অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা সহস্রাধিক। একটি গোয়েন্দা সংস্থা কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে দাখিল করা এক প্রতিবেদনে ১২ দফা সুপারিশ করেছে।

সূত্র জানায়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কিশোর আইন হালনাগাদ করা হচ্ছে। আইনানুযায়ী একজন মানুষ ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু হিসেবে গণ্য হয়। ওই আইন অনুযায়ী একজন যুবকও শিশু হিসাবে গণ্য হচ্ছে। ফলে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। আবার বর্তমান আইন অনুযায়ী কিশোর অপরাধীদের গ্রেফতার করা যায় না। তাদের আটক করে সংশোধনাগারে পাঠাতে হয়। আইনি প্রতিকূলতার মধ্যেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে।

আর বর্তমানে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ বৃদ্ধির প্রবণতাও উদ্বেগজনক। তাদের অপরাধের তালিকায় খুন থেকে ধর্ষণ কোন কিছুই বাদ নেই। আর মাদকাসক্তি হচ্ছে কমন অপরাধ। গ্রামে-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায়, শহরে-বন্দরে, মাঠে-ঘাটে সর্বত্র কিশোর গ্যাং গড়ে উঠছে। সারাদেশের কিশোর গ্যাংয়ের ডাটাবেজ তালিকা তৈরি করে চলমান অভিযানকে বিশেষ অভিযানে পরিণত করে কঠোর হস্তে দমন করবে পুলিশ।  

সূত্র আরো জানায়, কিশোর গ্যাং বিগত ৩ বছরে সারাদেশে অন্তত অর্ধশতাধিক গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করেছে। অন্তত ৩০টি খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। গত ৩ বছরে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেড় শতাধিক কিশোর গ্যাং সদস্যকে সাজা দিয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের অধিকাংশই গাজীপুর ও টঙ্গীর কিশোর সংশোধনাগারে রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কিশোর গ্যাং সদস্যদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। আর তাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি হুমকির মুখে পড়েছে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ এক অনুষ্ঠানে জানান, বর্তমানে কিশোর গ্যাং বিশাল চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। কিশোর অপরাধ দমনে সবার আগে অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে। সারাদেশে পুলিশের সব ইউনিটকে কিশোর গ্যাং সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বিশেষ ফাইল তৈরি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওই মোতাবেক সারাদেশে কিশোর গ্যাং শনাক্তকরণ এবং গ্যাং সদস্যদের গ্রেফতার করতে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত আছে।

আগামীনিউজ/শরিফ