সাপের কামড়ে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতে কবর থেকে তুলে ঝাড়-ফুঁক

জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া আগস্ট ২৩, ২০২২, ১১:০৩ এএম

বগুড়াঃ জেলার শেরপুরে সাপের কামড়ে মারা যাওয়া বৃদ্ধের মরদেহ কবর থেকে তুলে জীবিত করার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছেন গ্রাম্য এক কবিরাজ। সোমবার (২২ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। মৃত ইসাহাক আলী (৬০) বেলগাছি গ্রামের মৃত জহর আলীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ইসাহাক আলী রোববার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফসলি জমিতে পানি সেচ দিচ্ছিলেন। এ সময় একটি বিষধর সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে ধুনট উপজেলার জালশুকা এলাকার গ্রাম্য কবিরাজ ও সাপুড়ে ফজলার হোসেনের কাছে নিয়ে যান। সেখানে ওই কবিরাজ ঝাড়-ফুঁক দিয়ে তার পায়ে থাকা বাঁধন খুলে দেন।

সেইসঙ্গে বলেন, বিষ নেমে গেছে। তাই রোগীর সঙ্গে আসা সব লোকজনকে বাড়িতে চলে যেতে বলেন। তবে রোগীকে এক ঘণ্টা পর ছাড়া হবে বলে জানান তিনি। কিন্তু পায়ের বাঁধন খুলে দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই ইছাহাক আলী আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর আরও তিন ঘণ্টা ধরে কবিরাজ ইসাহাক আলীকে ঝাড়-ফুঁক দেন।

একপর্যায় রোগীর অবস্থার অবনতি হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে সটকে পড়েন। পরবর্তীতে ওই বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসাহাক আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে পরদিন সোমবার সকালে নিহতের স্বজনরা মরদেহ দাফনের জন্য প্রস্তুতি নেন। সেই মোতাবেক সকাল ৮টার দিকে তার জানাজা সম্পন্ন করে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন। এরইমধ্যে আরও দুইজন কবিরাজ ও সাপুড়ে সেখানে উপস্থিত হন। এমনকি সাপে কাটা মৃত রোগী তিনদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকেন। তাই দাফন করা ব্যক্তিকে কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি প্রার্থনা করেন।

নিহতের শ্যালক সম্রাট মিয়া বলেন, কবিরাজদের কথা শুনে কবর থেকে তার দুলাভাইয়ের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এরপর তাকে বাঁচানোর জন্য ঝাড়-ফুঁক দেওয়া শুরু করেন কবিরাজরা। এমনকি সকাল থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কবিরাজ ঝাড়-ফুঁক দিয়ে ব্যর্থ চেষ্টা করেন। একপর্যায় গ্রামের লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে কবিরাজ পালিয়ে যান। পরে ইসাহাক আলীর দাফন সম্পন্ন করেন পরিবারের লোকজন।

জানতে চাইলে সুঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জিন্নাহ বলেন, ইসাহাক আলীর জানাজা ও দাফনে উপস্থিত ছিলাম। পরে শুনি কবিরাজ নাকি মৃত ব্যক্তিকে কবর থেকে উত্তোলন করে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তার ব্যর্থ চেষ্টার কারণে নিহতের স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে কবিরাজ পালিয়ে গেছে। পরবর্তীতে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

এমবুইউ