ধর্ষণের বিচার চাইতে থানায় গিয়ে মার খেলেন বাবা, এএসআই প্রত্যাহার

জেলা প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ আগস্ট ২১, ২০২২, ১০:১৫ এএম

মানিকগঞ্জঃ জেলার শিবালয়ে মেয়ের ধর্ষণচেষ্টার বিচার চাইতে যাওয়া বাবাকে থানার ভেতর বেধড়ক মারপিটের অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। শনিবার (২০ আগস্ট) রাতে শিবালয় থানায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত এএসআই আরিফ হোসেনকে রাতেই থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জের শিবালয় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরজাহান লাবনী।

ভুক্তভোগী ওই শিশুর বাবা জানান, স্ত্রীসহ তিনি ঢাকায় থাকেন। তার ৫ বছরের মেয়ে থাকে দাদির কাছে। ২০ জুলাই শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. মান্নান খানের চাচাতো ভাই রজ্জব খান তার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেন শিশুটির দাদি। পরে স্থানীয় গ্রাম্য মাতব্বরদের বিষয়টি জানানো হলেও প্রভাবশালী হওয়ায় তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছিলেন না। উল্টো তাকেই নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হতো।

এরপর গত ১৪ আগস্ট শিবালয় থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা। কিন্তু সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও থানা থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শনিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে মা ও মেয়েকে নিয়ে থানায় যান তিনি।

এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুমে ছিলেন না। থানায় আসার কারণ জানতে এগিয়ে আসেন এএসআই আরিফ হোসেন। তাকে পুরো ঘটনা জানান শিশুটির বাবা। কিন্তু আরিফ ঘটনাটি কিছুতেই বিশ্বাস করছিলেন না। কথা বার্তার এক পর্যায়ে শার্টের কলার ধরে তাকে একটি রুমে নিয়ে যান এএসআই আরিফ হোসেন।

বিচার প্রার্থী ওই বাবার অভিযোগ, রুমে নেওয়ার পর আরিফ অভিযুক্তের ভাই আওয়ামী লীগ নেতা মান্নানকে ফোনে রেখে তাকে এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারাসহ লাঠি দিয়ে মারপিট করেন। এক পর্যায়ে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় বাইরে তার মা ও শিশু সন্তান কান্নাকাটি করলেও আরিফের হাত থেকে তাকে রক্ষায় থানার কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে আরিফ তাকে মেঝে থেকে তুলে বলেন, ‘যা চলে যা। দৌড়ে চলে যাবি।’

শিশুটির দাদি জানান, ছেলের সঙ্গে নাতনিকে কোলে নিয়ে তিনিও থানায় গিয়েছিলেন। এএসআই আরিফ যখন তার ছেলেকে টেনে রুমে নিয়ে মারপিট করে তখন কয়েকজন পুলিশ সদস্যের হাত পা ধরে তিনি কান্নাকাটি করেছেন কিন্তু কেউ তার ছেলেকে উদ্ধার করেনি। এ সময় তার শিশু নাতনিও কান্নাকাটি করেছে। অনেক ভয় পেয়েছে সে। পরে ছেলেকে উদ্ধার করে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তার পা, হাত ও মাথার বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। একজন বিচার প্রার্থীর সঙ্গে পুলিশ সদস্যের এমন আচরণের বিষয়টি জানাতে রাতেই মা ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে যান শিশুটির বাবা।

সেখান থেকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে যান শিবালয় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। এ সময় তার মা ও এলাকার একজনের কাঁধে ভর করে শিশুটির বাবাকে অফিসে ঢুকতে দেখা যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরজাহান লাবনী তাদের ঘটনা শুনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

শিবালয় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরজাহান লাবনী জানান, ঘটনা জানার পর অভিযুক্ত এএসআই আরিফ হোসেনকে রাতেই থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার জন্য সুপারিশ করা হবে। এছাড়া ধর্ষণ মামলার আসামিকেও গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

এমবুইউ