প্রধানমন্ত্রীর ‘উপহার’ পেলো ১০ সাঁওতাল পরিবার

ডেস্ক রিপোর্ট সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০, ০৫:২৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

দিনাজপুরঃ পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র সাঁওতালদের জীবনমান উন্নয়নে দিনাজপুরের খানসামায় ১০টি পরিবারকে ‘আধা পাকা ইটের বাড়ি’ উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের হতদরিদ্র সাঁওতাল পরিবারগুলো এমন বাড়ি পেয়ে আনন্দে অশ্রুসিক্ত।

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাওয়া ১০ পরিবারের খোঁজখরব নিয়ে জানা গেছে, তারা আগের তুলনায় অনেক ভালোভাবে জীবন যাপন করছেন।

খানসামার ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সমতলদের জীবনমান উন্নয়নে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বরাদ্দ অনুযায়ী উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে ৫টি, সহজপুর গ্রামে ৩টি, পূর্ব ও পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামে ২টি মিলে মোট ১০টি সুন্দর ডিজাইনের সেমিপাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়। যেখানে প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে সিলিংসহ চৌচালা রঙিন টিনের ছাউনির দুইটি রং করা পাকা ঘর। যার মোট দৈর্ঘ্য ২২ ফুট এবং প্রস্থ ১০ ফুট।

ঘরগুলোর মেঝে পাকা করে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘরে রয়েছে একটি করে লোহার শিট দিয়ে তৈরি দরজা ও দুইটি করে জানালা। ঘরের একপাশে করা হয়েছে টয়লেট, টিউবওয়েল এবং অপরপাশে একটি পাকা বারান্দা ও সিঁড়ি। এই প্রকল্পে ১০টি বাড়ি নির্মাণের জন্য মোট ব্যয় হয়েছে ২২ লাখ টাকা।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এই সাঁওতালদের আদি পেশা কৃষি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে কষ্ট করে চলে তাদের জীবন জীবিকা। এসব পরিবার এই অবস্থাতে আধা পাকা বাড়ি পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ ব্যতিক্রম উদ্যোগ তাদের জন্য নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র আরও জানায়, পিছিয়ে পড়া এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তাদের নতুন পাকা বাড়ি দেয়ার পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে দেয়া হচ্ছে শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ (স্কুলব্যাগ, খাতা, ড্রয়িং পেনসিল, জ্যামিতি বক্স), রেইন কোট এবং সাংস্কৃতিক ও বিনোদনের জন্য ক্রিড়াসামগ্রী আর বাদ্যযন্ত্র। এছাড়াও শীতবস্ত্র, স্বাস্থ্য উপকরণ, আসবাবপত্র, বাইসাইকেল ও কর্মসংস্থানের জন্য ঝুট কাপড় থেকে পাপোশ তৈরি প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তাদের।

খামারপারা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের সুবিধাভোগী বুদরায় হেমরব বলেন, পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন। বাঁশের বেড়া ও টিনের ছাউনির কুঁড়োঘরে বসবাস করে আসছিলাম। আমরা দীর্ঘ বছর থেকে এ কুঁড়োঘরে কষ্ট করে বসবাস করে আসছি। প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া বাড়িটি বিনামূল্যে পেয়ে আমরা খুব খুশি।

ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের সহজপুর গ্রামের সুবল মুরমু জানান, স্বপ্নেও ভাবিনি ইটের পাকা বাড়িতে ঘুমাতে পারবো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আবেগাপ্লুত কন্ঠে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার সুস্থতা কামনা করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে প্রতিটি গৃহহীনের গৃহের সংস্থান করার অংশ হিসেবে এলাকায় খোঁজ নিয়ে প্রকৃত দরিদ্র ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী পরিবার বাছাই করা হয়েছে। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়িগুলো তৈরি করে তাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তারা বাড়িতে বসবাস শুরু করেছেন।

তিনি আরো জানান, তাদের জীবনমান উন্নয়নে এবং যে কোনো প্রয়োজনে সর্বদা পাশে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

আগামীনিউজ/আশা