“মাথাব্যথা শুধু মুসলমানদের জন্য: হিন্দু সমাজের পলিয়ান্দ্রি নীরবতার প্রহসন”
✍️ -- ঝুমুর রায় চণ্ডালিকা
উত্তর ভারতের পাহাড়ি অঞ্চলে আজও শাস্ত্র এবং “পরিবারের ঐতিহ্য” বলে এক নারীকে পাঁচ থেকে সাত ভাইয়ের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। হ্যাঁ, এটি পলিয়ান্দ্রি—একটি শুধু হিন্দু সমাজে প্রচলিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক কৌশল, যা পরিবারে জমি-বিভাজন রোধ করে। কিন্তু এই নারী অধিকার, ন্যায় বা নৈতিকতার প্রশ্নে কেউ মাথা ব্যথা করে না।
অদ্ভুত, কিন্তু সত্যঃ
➡️মুসলমানদের চার বিয়ে দেখে হিন্দুত্ববাদীরা সরব, চিৎকারে ফেটে পড়ে।
➡️একই শাস্ত্রীয় বিয়েব্যবস্থা হিন্দু সমাজে—এক নারীকে একাধিক স্বামী—সে বিষয়ে নীরব।
এখানে স্পষ্ট দ্বৈত মানদণ্ড।
নারীর শরীর, তার স্বাধীনতা, তার অধিকার—সবই তুচ্ছ। শুধু যে ধর্ম বা সম্প্রদায়ের সঙ্গে এটি সম্পর্কিত সে গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দু হলে এটি “ঐতিহ্য”, মুসলমান হলে “অনৈতিকতা”।
এই দ্বিচারিতার প্রমাণ আরও চরম:
উত্তর ভারতের এই প্রথা বহু শতাব্দী ধরে চললেও কোনো হিন্দু রাজনৈতিক দল বা সমাজকর্মী মাথাব্যথা পায়নি।
কিন্তু মুসলমানের চার বিয়ে নিয়ে নির্মম সমালোচনা, আইনি হুমকি, সামাজিক অপমান চলে।
এটি কেবল ধর্ম ও নারী অধিকারকে পলিটিক্যাল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার প্রমাণ। নারী এখানে শুধু একটি প্রতীক, যাকে ব্যবহার করা হয় ধর্মীয় নৈতিকতার নামে রাজনৈতিক আক্রমণের জন্য।
হিন্দুত্ববাদীদের জন্য একটি কঠিন সত্য:
যদি তাদের সত্যিকারের নারীর অধিকার বা ন্যায় নিয়ে চিন্তা হত, তারা উত্তর ভারতের পলিয়ান্দ্রি নিয়ে চুপ থাকত না।
কিন্তু মাথাব্যথা আসে শুধু মুসলমানদের জন্য, যা স্পষ্ট করে দেয়—এখানে ন্যায় নয়, ধর্ম ও রাজনৈতিক বৈষম্য প্রধান।
সমস্যার মূল: নারীর অধিকার নয়, ধর্ম ও সম্প্রদায়ের উপর ভিত্তি করে দ্বৈত মানদণ্ড।
ভারতীয় সমাজে ন্যায় এবং নৈতিকতা বিচার হয় শুধু কার ধর্মে জন্মেছে দেখে।
যারা চার বিয়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে, তাদের নিজেদের সমাজের একই বা আরও চরম প্রথার দিকে চোখ ফেরাতে হবে।
এটাই মূল প্রতিবাদ:
“মাথাব্যথা শুধু মুসলমানদের জন্য, নৈতিকতার লাঠি শুধুই অন্যদের উপর—এটাই হিন্দুত্ববাদীদের নীরবতার, দ্বৈত মানদণ্ডের কড়া বাস্তবতা।”
লেখক : ঝুমুর রয়।