August
  1. প্রচ্ছদ
  2. জাতীয়
  3. সারাবাংলা
  4. রাজনীতি
  5. রাজধানী
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আদালত
  8. খেলা
  9. বিনোদন
  10. লাইফস্টাইল
  11. শিক্ষা
  12. স্বাস্থ্য
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. চাকরির খবর
  15. ভাবনা ও বিশ্লেষণ
  16. সাহিত্য
  17. মিডিয়া
  18. বিশেষ প্রতিবেদন
  19. ফটো গ্যালারি
  20. ভিডিও গ্যালারি

রমজানে নগরীতে মৌসুমি ভিক্ষুকের ভীড়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২২, ০১:০৪ এএম রমজানে নগরীতে মৌসুমি ভিক্ষুকের ভীড়

ঢাকাঃ রমজানের শুরুতে হঠাৎ করেই নগরীতে বেড়ে গেছে মৌসুমি ভিক্ষুকের সংখ্যা। রাজধানীর ট্রাফিক সিগন্যাল থেকে শুরু করে বিপণিবিতান, মসজিদ-মাজার এমনকি বিমানবন্দরের মানুষরাও ভিক্ষুকে বিব্রত। এছাড়াও সামান্য অঙ্গহানি বা সুস্থ দেহের মানুষও মৌসুমী ভিক্ষুক সেজে ঘুরছে নগরীতে। নগরীর ব্যস্ততম সড়ক থেকে শুরু করে পাড়ার অলি-গলি ও বাসায় বাসায় ভিক্ষা করছেন তারা। পুরো রাজধানীজুড়ে এখন মৌসুমি ভিক্ষুকের উপস্থিতি। আর জ্যামে পড়লে তো কথাই নেই, এক সঙ্গে অনেক ভিক্ষুক গাড়ি বা রিকশার সামনে পথ আটকে সাহায্য পাওয়ার আশায় হাত বাড়িয়ে দেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব ভিক্ষুক রমজান, ঈদ উপলক্ষে  গ্রাম বাংলা থেকে শহরে চলে আসে। এসব বৃদ্ধ মহিলা পুরুষ ভিক্ষুকদের আনার পিছনে ব্যবসা করে এমন মাফিয়ারা। এরা কোন গ্রামে কত বৃদ্ধ মহিলা পুরুষ  আছে তার খবর নিয়ে শহরে এদের ভাড়া করে ভিক্ষাবৃত্তি চালায়। রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, বেইলি রোড, ফার্মগেট, আজিমপুর, হাইকোর্ট মাজার, মতিঝিল, কমলাপুর, ওয়ারী, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, শ্যামলী, গাবতলী ও উত্তরাসহ অন্তত ২০টি পয়েন্টে কাজ করছে এ চক্র। শপিং মলগুলোর সামনে ভিক্ষা করার জন্য কেউ জায়গা দখল করে বসে আছে, কেউ ঘুরে ঘুরে লোকজনের পথরোধ করে দাঁড়াচ্ছে। কেউ কাউকে সাহায্য করতে দেখলেই ওই দাতাকে জেঁকে ধরছেন বাকিরা। ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়ি থামালেই ছুটে যাচ্ছেন গাড়ির কাছে। অথচ এদের অধিকাংশই কাজ করে খাওয়ার ক্ষমতা রাখে।

সচেতন মহল বলছেন,  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিনত হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশে ভিক্ষুক থাকার কথা নয়। কিন্তু এরা তো ভিক্ষুক না, এদেরকে ভিক্ষুক পদবী দিয়ে গ্রাম থেকে এদের নিয়ে আসা হয়েছে। এদের কারনে সরকারের  উন্নয়ন কর্মকান্ডের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আবার এদের কারনে সাধারণ মানুষ বিরক্তিকর পরিস্থতি পড়ছে। রমজানে মাসে মুসলমানরা ইবাদতবন্দগীতে ব্যস্থ থাকে, মাসে বেশি সওয়াবে আশায় দান তারাও দান করে থাকে। এভাবেই রাজধানীতে মৌসুমী ভিক্ষুকের সংখ্যা বাড়ছে।  এসব সরকারের যত তারাতারি সম্ভব প্রতিরোধ করা দরকার। দেশে অভিজাত্য এলাকায় এসব ভিক্ষুকের আনাগোনা বেশি, এসব এলাকায় বিদেশি মানুষজনের চলাচল বেশি। বিদেশিরা এসব ভিক্ষুক দেখে মনে করে বাংলাদেশে ভিক্ষুকের দেশ।  এ অবস্থার পরিসমাপ্তি প্রয়োজন, সরকারের এসব বিষয়ে দেখা উচিৎ।

রাজধানীর বেশকিছু জায়গা ঘুরে ভিক্ষুক ও দাতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রমজানের শুরু থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলার হতদরিদ্ররা জাকাতের টাকা সংগ্রহ কিংবা জাকাতের কাপড়ের আশায় রাজধানীতে আসছে। এমনকি উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভিক্ষার কাজে শিশুদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে।

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার এক ভিক্ষুকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তিনি রোজা শুরু তিন দিনদিন আগে ঢাকা এসেছেন ভিক্ষা করতে । নিয়মিত ভিক্ষুক নন তিনি। শুধু রমজান মাসেই ভিক্ষা করেন। এ মাসে মানুষ দান খয়রাত বেশি করেন বলে আয় রোজগার ভালো হয়।

রমজান মাসে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভিক্ষুক জড়ো হয় ঢাকার নামিদামি মসজিদগুলোর সামনে। আল নূর মসজিদের সামনে ভিক্ষা করা মমেনা বেগম বলেন, রমজানে বেশি ইনকাম হবে বলে ঢাকা এসেছি। সারাদিন প্রায় হাজার টাকার মতো হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পুলিশের এক কর্মকর্তা জানায়, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছরই ভিক্ষুকদের সংখ্যা বাড়ে। তবে ভিক্ষুক আটক কিংবা উচ্ছেদের বিষয়টি স্পর্শকাতর। তারপরও বিভিন্ন সময়ে রাজধানীর ভিআইপি জোন ও সড়ক থেকে ভিক্ষুক আটক করা হয়। কিন্তু কিছুদিন জেলে থাকার পর তারা ছাড়া পেয়ে আবারও ভিক্ষা পেশায় চলে আসে।

২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি ‘শিশুর অঙ্গহানি করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা’ শিরোনামে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর উচ্চ আদালতে ভিক্ষাবৃত্তির বিরুদ্ধে রিটের পর ২০১১ সালের ৯ জানুয়ারি রাজধানীসহ দেশের সব স্থানে শিশু ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রাজধানীতে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্রসচিবকে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ঢাকা শহরের বিমানবন্দর এলাকা, হোটেল সোনারগাঁও, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, হোটেল র্যাডিসন, বেইলি রোড, ধানমন্ডি, গুলশান, কূটনৈতিক জোন ও দূতাবাস এলাকা ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়। সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ইতিমধ্যে এসব এলাকাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করে বিভিন্ন রকম সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে পাওয়া ভিক্ষুকদের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

এসএস

Small Banner