August
  1. প্রচ্ছদ
  2. জাতীয়
  3. সারাবাংলা
  4. রাজনীতি
  5. রাজধানী
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আদালত
  8. খেলা
  9. বিনোদন
  10. লাইফস্টাইল
  11. শিক্ষা
  12. স্বাস্থ্য
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. চাকরির খবর
  15. ভাবনা ও বিশ্লেষণ
  16. সাহিত্য
  17. মিডিয়া
  18. বিশেষ প্রতিবেদন
  19. ফটো গ্যালারি
  20. ভিডিও গ্যালারি

মনমোহন দত্তের মরমী সঙ্গীতের প্রজ্ঞাময় ব্যাখ্যা-৯৭

সাঁঈজি সিরাজ সাঁঈ প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২১, ১০:৩৪ এএম মনমোহন দত্তের মরমী সঙ্গীতের প্রজ্ঞাময় ব্যাখ্যা-৯৭
মলয়া সংগীতের জনক, মরমী সাধক, কবি, বাউল ও সমাজ সংস্কারক মনমোহন দত্ত। ছবিঃ সংগৃহীত

শোন বলি পাগলের চেলা,
পাগল হওয়া নয় সামান্য, দেবের মান্য পাগল ভোলা॥
এক পাগল হয় নারদ ঋষি, বীণা বাজায় দিবানিশি
আর এক পাগল বাজায় বাঁশি, বাসা করে কদম তলে
আর এক পাগল হয় হনুমান, রামরুপ ধরেছে ধ্যান
বক্ষ চিড়ে দেখাইল নাম, ছিড়িল মুক্তার মালা॥
আর এক পাগল গৌর হরি, ডোর কৌপিন ধারণ করি
হরি হয়ে বলছে হরি, স্কন্ধে নিয়ে ভিক্ষার ঝোলা
যদি পাগল হওয়া ভালো লাগে, মন পাগলারে ধর আগে
ওই পাগল তার সঙ্গে থাকে, সব পাগলামি যার খেলা।
কামিনী কাঞ্চন হাতে, লাগাইল পাগলের তালা
মনোমোহনের কাধে ঝোলা, আর জানি কি আছে পরে॥

প্রজ্ঞাময় ব্যাখ্যাঃ
মানুষ বস্তুর নেশায় বিভোর থাকে। বস্তুই তার জীবনের সব কিছুই। বস্তুর উপরে অন্য কোন কিছুই চিন্তা ভাবনা করার ক্ষমতা মানুষ রাখে না। বস্তুর চিন্তায় সে বস্তু পাগল। এই বস্তুর ঊর্ধ্বে উঠে যখন কোন সত্ত্বা সত্যকে বুঝতে চায় তখন তার মধ্যে বস্তুর চিন্তা চেতনার অবসান ঘটে। তখন সে বস্তুর প্রকৃত রূপ দেখতে পায়। ফলে বস্তুর সাথে তার আর অজ্ঞান অবস্থার ন্যায় মাখামাখি থাকে না। তখন সে বস্তুর উপর অবস্থান করে। এই বস্তুময় দুঃখের ঊর্ধ্বে উঠে সৃষ্টির মূল শক্তির সাথে নিজেকে একাকার করার লক্ষ্যে ঋষি মনিষী নারদ বীণা বাজিয়েছে। শ্যাম কদম তলে বাঁশি বাঁজিয়েছে। আরেক পাগল বীর হনুমান রামের প্রেমে মত্ত ছিল। অন্য আরেক জন সত্যের পথে পাগল গৌর নিতাই নিজে হরি হরি করে পথে পথে সত্যের প্রচার করেছেন নিজে একজন প্রজ্ঞাবান মুক্ত সত্ত্বার রূপ ধরে। এ সব প্রজ্ঞাবান সত্ত্বা সকলেই বস্তু চিন্তার ঊর্ধ্বে উঠে প্রকৃত সত্যের সাথে তথা আদি শক্তির সাথে নিজের অন্তরের শক্তির সংযোগ ঘটিয়ে বস্তুর উপরে অবস্থান করছেন। এই ব্যবস্থা বা কৌশলই শক্তির সাথে একাকার হওয়ার পাগলামী। এই অবস্থা অর্জন করতে ধ্যান ও প্রজ্ঞার প্রযোজন হয়, যা এক কঠিন সাধনার ফসল। 

বস্তুর ঊর্ধ্বে উঠে সেই প্রজ্ঞাময় পাগলের অবস্থা অর্জনের মূলে বাধা হিসেবে কাজ করে কামিনী ও কাঞ্চনময় মন। এই মন সবকিছু ধ্বংসের মূল। মন মানুষকে কেবল মাত্র কামিনী কাঞ্চনের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে চায়। বস্তুর ঊর্ধ্বে উঠে প্রজ্ঞাময় অবস্থায় থাকার যে কলাকৌশল বা প্রজ্ঞাময় ধ্যান তা মনে করতে দেয় না। ফলে মানুষ প্রশান্তির পরিবর্তে বস্তুর মধ্যে সারাক্ষণ অবস্থানের ফলে জীবন দুঃখে নিপতিত হয় কেবল প্রজ্ঞাবান সত্ত্বা ব্যতিত।

Small Banner