1. প্রচ্ছদ
  2. জাতীয়
  3. সারাবাংলা
  4. রাজনীতি
  5. রাজধানী
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আদালত
  8. খেলা
  9. বিনোদন
  10. লাইফস্টাইল
  11. শিক্ষা
  12. স্বাস্থ্য
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. চাকরির খবর
  15. ভাবনা ও বিশ্লেষণ
  16. সাহিত্য
  17. মিডিয়া
  18. বিশেষ প্রতিবেদন
  19. ফটো গ্যালারি
  20. ভিডিও গ্যালারি

৫০ বছরেও অবমুক্ত হয়নি হিন্দুদের ধর্মশালার জায়গা

জিকরুল হক, উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২২, ০২:৩৪ পিএম ৫০ বছরেও অবমুক্ত হয়নি হিন্দুদের ধর্মশালার জায়গা
ছবিঃ আগামী নিউজ

নীলফামারীঃ জেলার সৈয়দপুরে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে অবৈধ দখলদাররা হিন্দুদের ধর্মশালার জায়গা দখলে রেখেছেন। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে ঘরবাড়ি। এই ধর্মশালা অবৈধ দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও মিলেনি সুরাহা। বরঞ্চ অবৈধ দখলদাররা শক্ত খুঁটি গেড়েছেন ধর্মশালার জমিতে। এটি ঘটেছে শহরের নয়াবাজার এলাকার বাণীচাঁদ স্ট্রীটে।

সৈয়দপুর হিন্দু কল্যাণ সমিতির সভাপতি সুমিত কুমার আগরওয়ালা নিক্কি জানান, শহরের বিশিষ্ট রাজনীতিক দানবীর  সুশীল কুমার আগরওয়ালার দাদা উত্তরাঞ্চলের বিশিষ্ট পাট ব্যবসায়ী দানবীর বাণীচাঁদ আগরওয়ালা হিন্দুদের সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন করতে ২০ শতকেরও বেশি জমি দান করেন। দানকৃত এই জমিতে পাকিস্তান আমলে এ জনপদে বসবাসরত সনাতন ধর্মীরা ১২ মাসে সেখানে ১৩ পার্বন করতো। কয়া মৌজার এসএ ৫৯২০ দাগভুক্ত জমি এটি। বর্তমানে বিএস রেকর্ডে (বাংলাদেশ জরিপ) হিন্দু কল্যাণ সমিতির নামে ওই জমি রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ধর্মশালার ওই জায়গাটি অবমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনসহ এমপি, মেয়রের দুয়ারে দুয়ারে ধর্না দিয়েও কোন সুফল মিলছে না। তার মতে, ভোটের সময় এলে নেতারা ধর্মশালার জমি উদ্ধার করে হিন্দু কল্যাণ সমিতিকে বুঝিয়ে দিবে এমন প্রতিশ্রুতির ফুলঝড়ি ঝড়ে। কিন্তু ভোটের পর আর কারো সহযোগিতা পাওয়া যায়না।

নিক্কির মতে, সময়ের পরিক্রমায় ৫০ বছরের পূর্বের তুলনায় জনসংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। কোথাও কোন পতিত জায়গা মিলবে না শহরে। নির্দিষ্ট জায়গার অভাবে আমরা সনাতন ধমর্ীর প্রতি বছর একেক জায়গায় কেন্দ্রীয় দুর্গাপূজা করি। অন্যান্য পূজার অনুষ্ঠান করতেও জায়গা মিলে না। অথচ ধর্মশালার নামে শহরে বিশাল জায়গা রয়েছে। সেই জায়গা অবমুক্ত করা হলে এই জনপদের সনাতন ধর্মীরা অনায়াসে কেন্দ্রীয় দুর্গাপূজা করতে পারবে। একই সঙ্গে ধর্মশালায় সারা বছর নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে সনাতন ধমর্ীরা ভগবানের সান্নিধ্য লাভে চালিয়ে যেতে পারবে পূজা অর্চনা। আর যদি হিন্দুরা ধমর্ীয় কাজ করার সুনির্দিষ্ট জায়গা না পান, তাহলে একপর্যায়ে নতুন প্রজন্ম ধর্ম বিমুখের দিকেও হাটতে পারে। এজন্য তিনি ধর্মশালার জায়গাটি দ্রুত অবৈধ দখলমুক্ত করতে মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
একই বিষয়ে কথা হয় শহীদ সন্তান নিজু কুমার আগারওয়ালার সঙ্গে। তিনিও আক্ষেপ করে বলেন, অনেক জায়গায় অনেকের দুয়ারে ধর্না দিয়েও ধর্মশালার জায়গা অবমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

কথা হয় নীলফামারী জেলা বার কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি বাবু তুষার কান্তি রায়ের সঙ্গে। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, স্বাধীনতাত্তোর কালে জেলা প্রশাসক আটকে পড়া পাকি সন্তানদের সাময়িক থাকার জন্য ধর্মশালার জায়গায় স্থান করে দিয়েছিলেন। হিন্দুরা সে সময় উদারভাবে প্রশাসনের কথা মেনে নিয়েছে। অথচ ধর্মশালার ওই জমি উদ্ধারে প্রশাসনের কোন দায়বদ্ধতা বর্তমানে নজরে পড়ছে না। ধর্মশালার জমি উদ্ধারে তিনি ফের প্রশাসনের শক্ত পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

আগামীনিউজ/শরিফ 

Small Banner