August
  1. প্রচ্ছদ
  2. জাতীয়
  3. সারাবাংলা
  4. রাজনীতি
  5. রাজধানী
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আদালত
  8. খেলা
  9. বিনোদন
  10. লাইফস্টাইল
  11. শিক্ষা
  12. স্বাস্থ্য
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. চাকরির খবর
  15. ভাবনা ও বিশ্লেষণ
  16. সাহিত্য
  17. মিডিয়া
  18. বিশেষ প্রতিবেদন
  19. ফটো গ্যালারি
  20. ভিডিও গ্যালারি

অবশেষে ক্ষমা চাইলেন মুক্তিযোদ্ধা অবমাননকারী সেই অধ্যাপক

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, জবি প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২২, ১০:২৬ পিএম অবশেষে ক্ষমা চাইলেন মুক্তিযোদ্ধা অবমাননকারী সেই অধ্যাপক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনে একাত্তর-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের লুটতরাজকারী ও নারী নিপীড়নকারী বলে মন্তব্য করেন এক অধ্যাপক। সেই অধ্যাপকের শাস্তির দাবিতে সরব হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রকাশ্যে ক্ষমা ও শাস্তি চেয়ে একের পর এক সংগঠন দিতে থাকে বিবৃতি । ফলে গতকাল বুধবার ৩০ জুন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা, মুত্তিযোদ্ধার পরিবার ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,“আমার বক্তব্যের কোন অংশে সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধা, মুত্তিযোদ্ধার পরিবার ও দেশবাসী কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার বিনীত অনুরোধ করছি।”

বিজ্ঞপ্তিতে আরোও বলা হয়, নৈতিক স্থলনের দায়ে অভিযুক্ত কোন শিক্ষককে মহান জতীয় সংসদের আইন (২০১২) ভঙ্গ করে সুবিধা দেওয়া ঠিক হবে না। অনেক অপরাধী মুত্তিযোদ্ধার শাস্তি বর্তমান সরকার নিশ্চিত করেছে। এ উদাহরণে দিয়ে গিয়ে কিছু সংখ্যক বিপদগামী মুক্তিযোদ্ধা না বলে শুধু মুক্তিযোদ্ধা বলায় আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের সৃষ্টি হয়েছে । যা অনভিপ্রেত ও অনাকাক্সিক্ষত।

এর আগে গত শুক্রবার ২৪ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালেয়ের ৩৯ তম বার্ষিক সিনেট সভায় এক মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকের অবসরের বয়সসংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় সুবিধা বাতিল করা নিয়ে সিনেট অধিবেশনে একাত্তর-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের লুটতরাজকারী ও নারী নিপীড়নকারী বলে মন্তব্য করেছিলেন এই শিক্ষক।

অডিও রেকর্ডে অজিত কুমারকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার বয়স যখন ১৪-১৫ তখন মুক্তিযুদ্ধ হয়, মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী কালও দেখেছি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছি। অনেক কিছুই দেখেছি। আজ এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যে ইমোশন (আবেগ) তৈরি হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের অবশ্যই আমি সম্মান করি। আবার এই মুক্তিযোদ্ধারাই কীভাবে নিপীড়ন করেছে নারীদের, আমি দুয়েকটা নামও বলতে পারি।’
তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমার মামাও ছিল মুক্তিযোদ্ধা, এই নির্যাতনে তাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল। সততার জন্য অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধারা লুট করা শুরু করছে। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বললে অনেক ধরনের কথা আসে।’

মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তার এমন মন্তব্যে তাৎক্ষণিক ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত সিনেট সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষকরা।

সিনেট সদস্য অধ্যাপক সুফি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘একজন শিক্ষককে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরিতে অতিরিক্ত এক বছর না রাখার বিষয়টি এসেছে। অন্যসব বিশ্ববিদ্যালয় যদি মুক্তিযোদ্ধাদের এই সুবিধা দিতে পারে, তাহলে আমরা কেন পারব না। যিনি জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন তাকে এই সুবিধা দিতে এত তর্ক-বিতর্ক কেন?’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিনেট সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মহব্বত হোসেন খান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে সিনেট এমন অসম্মানজনক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আমি স্পষ্ট করে বলেছি। সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় অজিত কুমার মজুমদার যখন স্বাধীনতা-পরবর্তী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে নানা সমালোচনা করেন তখন আমি তীব্র প্রতিবাদও করেছি। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার জন্য খুবই লজ্জার বিষয় এটি।’

অন্যদিকে এই অধ্যাপকের শাস্তির দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’, ‘সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ’ এবং ‘মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও প্রজন্ম’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষদের সংগঠন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’-এর সভাপতি আব্দুল জব্বার হাওলাদার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সিনেট অধিবেশনে অধিকাংশ সিনেট সদস্য মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক অধ্যাপক ড. আমির হোসেনের অবসরের বয়স ৬৬ বছর রাখার পক্ষে মত দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. অজিত কুমার মজুমদার ঢালাওভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের ‘লুটতরাজকারী’ ও ‘নারী নিপীড়নকারী’ বলে আখ্যায়িত করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যাক্কারজনক ভাবে অসম্মানিত করায় আমরা ক্ষুব্ধ ও ক্রুদ্ধ। তার এই ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানিত করায় আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁর অপসারণ ও রাষ্ট্রীয় আইনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

এছাড়া সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সিনেট অধিবেশনে বেশিরভাগ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকদের এই রাষ্ট্রীয় সুবিধা রাখার পক্ষে মত দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যাপক অজিত এই অশালীন মন্তব্য করে অধ্যাপক আমির হোসেন সহ দেশের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করেন। এই ধৃষ্টতামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো প্রকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।’

‘মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও প্রজন্ম’ সংগঠনের জাবি শাখার দপ্তর সম্পাদক জাহিদ হাসান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধাদেরকে প্রকাশ্যে অবমাননা করার মাধ্যমে অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে চরমভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন যা অতি ঘৃণিত অপরাধ। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এমন অশালীন মন্তব্য ও কটূক্তি করার অপরাধে অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার কে অতিদ্রুত ক্ষমা চাইতে হবে।

এসএস

Small Banner