ঢাকা : চীন দেশের নভেল করোনাভাইরাসের কারনে সেদেশের উৎপাদন কার্যক্রম থেকে শুরু করে বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে দেশটির সঙ্গে অন্য দেশের বাণিজ্য সম্পর্কিত নানান তথ্যের জন্ম নিচ্ছে। এতে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের নিত্যপণ্যের বাজার থেকে শুরু করে চীন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্যের বাজার। সচেতন মহল বলছেন, দেশের বাজার করোনাভাইরাসের গুজবে আক্রান্ত হয়েছে।
এই গুজবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে। পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাগণ বলছেন, চীন থেকে আমদানিপণ্যের সবগুলোতেই করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে। আর ক্রেতারা বলছেন, বাজারে বর্তমানে যেসব পণ্য রয়েছে তা পূর্বেই আমদানি করা হয়েছে। কারণ ছাড়াই মূল্য বৃদ্ধি করছে মুনাফালোভিরা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত কোন অহেতুক তথ্য বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ যেনো গুজব ছড়াতে না পারে সে দিকেও খেয়াল রাখছে সরকার। তবে বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করছে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহর থেকে উৎপত্তি হওয়া নতুন করোনাভাইরাস ‘নভেল’।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফকিরাপুলে ছাপার কাগজের মার্কেট ঘুরে জানা গেছে, মানভেদে আমদানি করা কাগজগুলোর মূল্য পরিমানভেদে ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দেশে উৎপাদিত কোন কাগজের মূল্য বাড়েনি।
বাজার ঘুরে জানা গেছে, বাজারে চায়না, কুরিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা ৩০০ গ্রাম মানের আর্ট পেপার (হেনসন) ১০০ সিটের প্রতি পেকেটে ৩০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৩০০ গ্রাম মানের নেম্বো আর্ট পেপার প্রতি প্যাকেট ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যার পূর্বমূল্য ছিলো ৯৫০ টাকা। ৩০০ ও ৪০০ গ্রাম মানের সুইডিস বোর্ড যথাক্রমে ২ হাজার এবং দুই হাজার ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ২৩/৩৬ আয়তনের প্রতি রিম (৫০০ পিস) ১০০, ১২০, ১৫০ এবং ১৭০ গ্রামের আর্ট পেপারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এরমধ্যে যথাক্রমে ১০০ গ্রামের কাগজ প্রতি রিমে ৪০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১২০ গ্রামের কাগজ ২০০ টাকা বেড়ে ৩৫০০ টাকায়, ১৫০ গ্রাম মানের কাগজ ৪৬০০ টাকায় ১৭০ গ্রামে প্রতি রিম কাগজ ৫২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে দেশি বসুন্ধরা, পার্টেক্স, সোনালী এবং টিকেসহ অন্যান্য কোম্পানির অপসেট পেপারের দাম না বাড়লেও আমদানিকারকরা ১০০ গ্রাম মানের ৫০০ সিটের প্রতি রিম অপসেট ‘পেপার ওয়ান’ ৩০০ টাকা বেড়ে ৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ‘পেপার প্লাস’ অপসেট ৩০০০ থেকে বেড়ে ৩৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে ছাপা সংশ্লিষ্ট সিটিপি প্রিন্টিং প্লেটের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাফিক্স ডিজাইনাররা জানিয়েছেন, ৫০ পিসের প্রতি প্যাকেট প্লেটের দাম ৫ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুজি ফ্লিম প্রতি রোল ১৬৫০০ থেকে বেড়ে ১৮৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে ছাপা খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে নতুন এই সংক্রামক ব্যাধির ফলে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কতটুকু প্রভাব পড়বে তার প্রতিকারে সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারগণ বানিজ্য মন্ত্রণালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন রমজান ও করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবেলায় বিকল্প বাজার ব্যবস্থার বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়ছেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন।
ফকিরাপুল কাগজ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল কাদের আগামীনিউজ ডটকমকে জানান, ‘করোনাভাইরাসের খবরের আগে থেকেই কাগজের বাজার বাড়তি ছিলো। এর মূল কারন ছিলো মৌসুমি ব্যবসা। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছাপাখানাগুলো ব্যস্ত সময় পার করে। এ খাতের ব্যবসায়ীরাও এই সময়ে তাদের সারা বছরের ব্যবসার বড় অংশ করে থাকে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গত দুইদিন থেকে আমদানি কাগজের বাজার আবার কিছুটা বাড়তির দিকে রয়েছে। এর সঠিক তথ্য আমাদের জানা নেই। অনেকে বলছেন চীনের করোনাভাইরাসের কারণে দাম বাড়ছে তা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। বাজারে যেসব পণ্য রয়েছে তা দিয়ে চলমান চাহিদা মেটানো সম্ভব। তবে করোনাভাইরাসের প্রভাব যদি পড়েও সেজন্য আরও দুই থেকে তিনমাস অপেক্ষা করতে হবে।’
তবে চীন থেকে নতুন পণ্যের অর্ডার দিতে সমস্যা তৈরি হবে কী না বা কনটেইনার ভর্তিতে কোন জটিলতা দেখা দেবে কী না? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিকল্প বাজার দেখার পরামর্শ দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন আগামীনিউজ ডটকমকে বলেন, ‘চীনের করোনাভাইরাসের প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে পড়বে বলে মনে করিনা। সরকারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। এরপরেও চলমান প্রেক্ষাপটে কি করণীয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ এবং সভা করা হচ্ছে।’
আগামীনিউজ/জুনায়েদ/সবুজ