1. প্রচ্ছদ
  2. জাতীয়
  3. সারাবাংলা
  4. রাজনীতি
  5. রাজধানী
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আদালত
  8. খেলা
  9. বিনোদন
  10. লাইফস্টাইল
  11. শিক্ষা
  12. স্বাস্থ্য
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. চাকরির খবর
  15. ভাবনা ও বিশ্লেষণ
  16. সাহিত্য
  17. মিডিয়া
  18. বিশেষ প্রতিবেদন
  19. ফটো গ্যালারি
  20. ভিডিও গ্যালারি

বিদ্যুৎহীন কয়েক ঘণ্টায় জনজীবনে হাঁসফাঁস

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: অক্টোবর ৪, ২০২২, ০৬:৩২ পিএম বিদ্যুৎহীন কয়েক ঘণ্টায় জনজীবনে হাঁসফাঁস
তেল নিতে বাড্ডার একটি ফিলিং স্টেশনে ভিড়।

ঢাকাঃ টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে বিদ্যু নেই রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের একটি বড় অংশজুড়ে। মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) বেলা দুইটার দিকে এই বিপর্যয় ঘটে বলে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্রে জানা গেছে। বিদ্যুতের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড ফেল করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ভ্যাপসা গরমে জনজীবনে হাঁসফাঁস অবস্থা বিরাজ করছে। স্বস্তি পেতে কেউ বাসার ছাদে কেউ আবার বাসার নিচে রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করছেন।

দুপুর দুইটায় যখন বিদ্যুৎ যায় তখন অফিস কার্যক্রম চলছিল। যেসব অফিসে জেনারেটর নেই এমন অফিসে এক ঘণ্টার মধ্যেই অনেকটাই গরমে হাঁপিয়ে উঠেন। অফিস শেষে বাসায় এসেও বিদ্যুৎ না পেয়ে অনেকের মধ্যে বিরক্তি দেখা যায়।

একটি সরকারি অফিসের কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের অফিসে যে জেনারেটর তাতে ফ্যানও চালানো দায়। প্রয়োজনীয় কয়েকটি রুমে রেখে বেশির ভাগ বন্ধ থাকে, ফলে অন্যান্যদের একটু সমস্যা হওয়াটা স্বাভাবিক। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যু নেই, পরে জানতে পারি গ্রিডে সমস্যার কথা।

একটি প্রিন্টিং অফিসে কাজ করেন সুমন মিয়া। এক ঘণ্টা জেনারেটর সার্ভিস দেওয়ার পর বন্ধ হলে অফিস টাইমের আরও দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন কাটিয়ে ঘেমে বাসায় ফিরেও দেখেন বিদ্যুৎ নেই। টেলিভিশনও বন্ধ। পরে মোবাইলে সোস্যাল মিডিয়া দেখে জানতে পারেন সমস্যার কথা। বিরক্তির সুরে বলেন, একটা জায়গায় সমস্যা হলো, কখন আসবে আল্লাহ জানে। অথচ এই ঢাকায় বিদ্যুৎ ছাড়া এক-দুই ঘণ্টা থাকাও দায়।

বাড্ডা, নতুন বাজার, নূরের চালা, হোসেন মার্কেট, ভাটারা এলাকার অনেক মানুষ যারা বাসা থেকে নিচে নেমে গলির সড়কে হাঁটতে দেখা যায়। অনেকেই বাচ্চাদের সাথে নিয়ে নেমেছেন। ভাটারার বাসিন্দা আব্দুল খালেক একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। নিজের ছোট্ট মেয়ের হাত ধরে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে বলেন, বাচ্চা বাসায় ঘেমে কান্না করছিল। নিজেরও খারাপ লাগছিল। জানি না কখন বিদ্যুৎ আসবে। রাস্তায় নেমে দেখি আমার মতো প্রায় সবাই নিচে।

কালাচাঁদপুরের বাসিন্দা সলিম উল্লাহ বলেন, চার তলায় থাকি, বিদ্যুৎ নেই গরমের মধ্যেও দেড় ঘণ্টা ছিলাম। টিভিও বন্ধ, সময় কাটবে কেমনে। ছাদে উঠা কষ্ট তাই গলিতে হাঁটছি। বিদ্যুৎ এলে তো দেখাই যাবে। মানুষে বলাবলি করছে, আরও কয়েক ঘণ্টা লাগবে। তাই সময় পার করছি।

তীব্র গরমে অফিস ছুটির পর যারা গণপরিবহনে চলাচল করেছেন তাদের অবস্থাও ছিল করুণ। প্রায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন কাটিয়ে ঘেমে অস্বস্তি নিয়ে গণপরিহনে ভিড়ে আরও নাজুক অবস্থায় পড়েন যাতায়াতকারীরা। বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট তারাও দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় পড়েন বিড়ম্বনায়।

বিদ্যুৎ না থাকায় সবার একটি সাধারণ সমস্যা জেনারেটর না থাকা এবং আইপিএস ব্যাকআপ সময় বেশি না থাকা। ধানমন্ডি বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট অন্ধকার দেখা যায় বিকেল ৫টার পরেই। খোঁজ নিলে জানা যায়, ভবনে জেনারেটর থাকলেও রেস্টুরেন্টে আইপিএসের  ব্যাকআপ আড়াই ঘণ্টা। স্বনামধন্য ওই রেস্টুরেন্টের কর্মচারী খালিদ হোসেন বলেন, সন্ধ্যার পর ক্রেতাদের ভিড় হয়। আর ৫টার মধ্যেই রেস্টুরেন্ট অন্ধকার। বুঝতে পারিনি একক্ষণ থাকবে।

সন্ধ্যার পর ঢাকাসহ সারাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সারাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হবে।

এদিকে, কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না আসায় রাজধানীর বিভিন্ন ভবনসহ বিভিন্ন অফিস দোকান যেখানে জেনারেটর লাগানো আছে তারা ছুটেছেন পেট্টোল পাম্পে। রাজধানীর অধিকাংশ পেট্টোল পাম্পে ৪টার পর থেকেই ভিড় দেখা যায়।

এসএস

Small Banner