August
  1. প্রচ্ছদ
  2. জাতীয়
  3. সারাবাংলা
  4. রাজনীতি
  5. রাজধানী
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আদালত
  8. খেলা
  9. বিনোদন
  10. লাইফস্টাইল
  11. শিক্ষা
  12. স্বাস্থ্য
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. চাকরির খবর
  15. ভাবনা ও বিশ্লেষণ
  16. সাহিত্য
  17. মিডিয়া
  18. বিশেষ প্রতিবেদন
  19. ফটো গ্যালারি
  20. ভিডিও গ্যালারি

রংপুরের প্রথম শহীদ শংকু সমজদার স্মৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে

জিকরুল হক, উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি প্রকাশিত: মার্চ ২৯, ২০২২, ০১:৫০ পিএম রংপুরের প্রথম শহীদ শংকু সমজদার স্মৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে

রংপুরঃ ৩রা মার্চ ১৯৭১। এদিন সারাদেশে হরতালের ডাক দেয়া হয়েছিল। সে সময়ের পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার প্রতিবাদে গোটা বাংলাদেশে (পূর্ব পাকিস্তান) বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে হরতাল ছিল। জনগণের সমর্থিত এ হরতালে দোকানপাট,  কলকারখানা খোলা রাখাতো দূরের কথা কাঁচা বাজারও বন্ধ ছিল। হরতাল সফল করতে সকাল ১০টায় ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম গোলাপের নেতৃত্বে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। প্রথম ছয়/সাতজন মিলে মিছিল রাজপথে শুরু হয়। মিছিল থেকে গগণবিদারী শ্লোগান উচ্চারিত হচ্ছিল ইয়াহিয়ার মুখে লাথি মারো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো। এমন শ্লোগানের আওয়াজ বাঙ্গালীদের কানে পৌছামাত্র হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষ মিছিলে শরিক হয়। সময় যত গড়ায় মিছিলের সারি দীর্ঘ হতে থাকে। বিক্ষুব্ধ জনতায় এ মিছিলটি একপর্যায়ে রংপুর শহরের বিহারী অধ্যুষিত এলাকা আলমনগরের  রাস্তা ধরে এগুতে থাকে। এ সময় আলমনগরের অধিবাসী বিহারী ব্যবসায়ী সরফরাজ খানের বাড়ির দেয়ালে উর্দুভাষায় টাঙ্গানো একটি সাইনবোর্ড দেখতে পায় মিছিলে অংশ নেয়া ১২ বছরের শিশু শংকু সমজদার।

ওই সাইনবোর্ডটি নামাতে গেলে সরফরাজ খানের বাসা থেকে মিছিলে গুলি করা হয়। সেই বুলেটে বিদ্ধ হয়ে আলমনগরে মারা যায় শংকু সমজদার। শংকু  সমজদারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বাধীনতাকামী বাঙ্গালীরা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হয়ে ওঠে। মিছিলে অংশ নেয়া ছাত্র জনতা চরম বিক্ষোভে  ফেটে পড়ে। ওইদিন শংকু সমজদার ছাড়াও উর্দুভাষীদের গুলিতে নিহত হন আরো দুজন বাঙ্গালী।

তারা হলেন আবুল কালাম আজাদ ও ওমর আলী। তবে শংকু সমজদার ছিলেন এক বিধবা মায়ের সন্তান। তার বাড়ি শহরের গুপ্তপাড়ায়। এসব তথ্য মিলেছে ‘মুক্তিযুদ্ধে রংপুর’ বই থেকে।

ওই তথ্য মতে রংপুরের আলমনগরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও ওই এলাকায় উর্দুভাষীদের আধিপত্য পাকিস্তানি আমলের মতই রয়েছে। শুধু পাকিস্তানের বদলে বাংলাদেশ নামটি ব্যবহৃত হচ্ছে। রংপুর শহরের আলমনগরটি রংপুর সিটি করপোরেশনের ২৭ নং ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডে বর্তমানে কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করছেন স্টান্ডার্ড পাকিস্তানিজ রিপার্টিশন কমিটির (এসপিজিআরসি) প্রধান পৃষ্ঠপোষক মরহুম নাসিম খানের ছেলে হারুন অর-রশিদ। ২৭নং ওয়ার্ডের মোট ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ৫০০ হলেও উর্দুভাষী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। আর আলমনগরের অধিবাসীদের বেশির ভাগই পাকিস্তান  গমনেচ্ছুক। ফলে তাদের মননে ও মগজে পাকিস্তানি ভাবধারা পুরোপুরি বিদ্যমান। আলমনগরের যে সড়ক এলাকায় শংকু সমজদার গুলিবিদ্ধ হয়েছিল সেই সড়কটি বর্তমানে পাঁচটি নামে অবহিত হচ্ছে। এসব নাম হলো স্টেশন রেলগেট সড়ক, স্টেশন রোড, তাজহাট রোড, আরডিসিসি রোড ও ডাক্তার তালুকদার স্মরণী রোড। গোটা ২৭নং ওয়ার্ড ঘুরে কোথাও শংকু সমজদারের স্মৃতিচিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওই ওয়ার্ডের একটি মাত্র সড়কের নামফলকে শহীদ ইসমাইল হোসেন বাসু মিয়া সড়ক উল্লেখ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে ৭১’র ৩রা মার্চে শহীদ শংকু সমজদার নাম জানতে চাওয়া হলে কেউ তাকে চিনে না, তার নাম কখনও শুনেনি এমন উত্তর মিলেছে।

কথা হয় ২৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারুন-অর রশিদের সঙ্গে। তিনি আগামী নিউজকে মুঠোফোনে জানান, তার ওয়ার্ডে মাত্র একজন শহীদের নামে একটি সড়কের নামকরণ করা।হয়েছে। ওই সড়কটির নাম হলো শহীদ ইসমাইল হোসেন বাসু মিয়া সড়ক।

রংপুরের প্রথম শহীদ শংকু সমজদারের স্মৃতি ধরে রাখার বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানীর সঙ্গে।

তিনি মুঠোফোনে আগামী নিউজকে বলেন, সাবেক মেয়র মরহুম সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুর আমলে শংকু সমজদারকে চির স্মরণীয় করে রাখতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। এটি ফের নতুন করে ভাবতে হবে। শংকু সমজদারের স্মৃতি রক্ষার্থে রংপুর  সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বার বার কল করা হলেও মোবাইল রিসিভ না করায় মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। পরে মেয়রের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) আবুল কাশেমের মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, শংকু সমজদারের মাকে ভাতা দেয়া হচ্ছে। 

তবে স্মৃতিচিহ্ন রক্ষায় কোন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।

এমএম/এসএস

Small Banner