August
  1. প্রচ্ছদ
  2. জাতীয়
  3. সারাবাংলা
  4. রাজনীতি
  5. রাজধানী
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আদালত
  8. খেলা
  9. বিনোদন
  10. লাইফস্টাইল
  11. শিক্ষা
  12. স্বাস্থ্য
  13. তথ্য-প্রযুক্তি
  14. চাকরির খবর
  15. ভাবনা ও বিশ্লেষণ
  16. সাহিত্য
  17. মিডিয়া
  18. বিশেষ প্রতিবেদন
  19. ফটো গ্যালারি
  20. ভিডিও গ্যালারি

ইসলামের দৃষ্টিতে ভালোবাসা কি জায়েজ?

ধর্ম ডেস্ক প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২২, ০২:১৩ পিএম ইসলামের দৃষ্টিতে ভালোবাসা কি জায়েজ?

ঢাকাঃ একে অপরকে ভালবাসা আল্লাহর বড় নেয়ামত। ভালোবাসা বলতেই অবৈধ নয়। কিছু ভালোবাসা শরিয়তে কাম্য। মহান আল্লাহ বলেন— ‘আর তোমরা তোমাদের উপর আল্লাহর সেই নেয়ামতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা পরস্পরে শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের অন্তরসমূহে মহব্বত পয়দা করে দিলেন। অতঃপর তোমরা তার অনুগ্রহে পরস্পরে ভাই ভাই হয়ে গেলে।’(আলে ইমরান: ১০৩)

তাই মানুষ হিসেবে একে অন্যের প্রতি টান থাকা স্বাভাবিক। এমনকি সেই টান যদি বিপরীত লিঙ্গকে কেন্দ্র করে হয়, তা-ও বৈধ, তবে তা কেবল স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা শুধুমাত্র বৈধ নয়, বরং কাঙ্ক্ষিত এবং পবিত্রও। ইসলাম এই ভালোবাসার প্রতি খুবই গুরুত্ব দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) তাঁর স্ত্রীদের ভালোবাসতেন। তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করতেন। তাদের মন জয় করার চেষ্টা করতেন। তাদের নিয়ে আনন্দ-ফূর্তি করতেন। হাদিসে আছে, ‘রাসুলুল্লাহ (স.) হজরত আয়েশা (রা.)-এর সাথে দৌঁড় প্রতিযোগিতা করেছেন।’ আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন, আমি ও নবী (স.) একই পাত্র থেকে গোসল করতাম। সেই পাত্রকে ফারাক বলা হতো। (সহিহ বুখারি: ২৫০)

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘সে ব্যক্তি পূর্ণ মুমিন, যার চরিত্র সুন্দর, তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।’ (রিয়াদুস সালিহিন: ১/১৯৭)

স্বামী-স্ত্রী ছাড়া অন্য বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া বা ভালো লাগাকে প্রশ্রয় দেওয়া জায়েজ নেই। কারণ, এতে মানুষ নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারে। বিষয়টির ওপর মানুষের হাত না থাকায় রাসুল (স.)-ও আপন স্ত্রীদের পালা বণ্টন করে বলেছেন— ‘হে আল্লাহ, আমার যতটুকু সাধ্য ছিল, আমি ইনসাফ করার চেষ্টা করেছি, আর যে বিষয়টি আমার সাধ্যে নেই (অর্থাৎ কোনো স্ত্রীর প্রতি বেশি ভালোবাসা), সে বিষয়ে আমাকে ভর্ৎসনা করবেন না।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩/১৮৫, হাদিস নং ১১৪০, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৪/৪১৪)

ইসলামে কে কাকে, কীভাবে, কেন ভালোবাসবে তা স্পষ্ট করা হয়েছে। নবীজি (স.) অসংখ্য হাদিসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। হজরত আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ আমি তার নিকট তার পিতা মাতা, সন্তান সন্ততি ও দুনিয়ার সকল মানুষের চেয়ে প্রিয় না হবো। (বুখারি: ১৫, মুসলিম: ১৭৮)

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার নবী (স.)-এর অনুসরণ করো; তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ মার্জনা করবেন।’(আলে ইমরান: ৩১)
আল্লাহর নবী (স.) ভালোবাসাকে ঈমানের সঙ্গেও তুলনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে ‘ঈমানদার ছাড়া কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না একে অন্যকে ভালবাসবে। আমি কি তোমাদের তা বলে দিব না, কী করলে তোমাদের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসার সৃষ্টি হবে? তা হলো, তোমরা পরস্পর বেশি সালাম বিনিময় করবে।’ (সহিহ মুসলিম: ৯৮)

তবে সকল ভালোবাসা কিংবা বন্ধুত্ব হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং বৈধ পদ্ধতিতে। এ সম্পর্কে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসে এবং আল্লাহর জন্য কারো প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে তার ঈমান পরিপূর্ণ। (মিশকাত)

মুমিনের প্রতি মুমিনের ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের ফজিলত অনেক বেশি, যদি তা আল্লাহর জন্য হয়। হাদিসে এসেছে, ‘এক ব্যক্তি তার কোনো (মুসলমান) ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অন্য গ্রামে রওনা হয়, পথে আল্লাহ তার জন্য একজন ফেরেশতা বসিয়ে দেন। অতঃপর ফেরেশতা তাকে বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে এমন ভালোবাসেন, যেমন তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে অমুক ব্যক্তিকে ভালোবাসো।’ (মুসলিম: ২৫৬৭)

‘যে ব্যক্তি কাউকে ভালোবাসে, তা লুকিয়ে রাখে, নিজেকে পবিত্র রাখে এবং এই অবস্থায় মারা যায়— সে শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করবে।’ (কানজুল উম্মাল: ৩০/৭৪)

মা-বাবা, সন্তান, আত্মীয় স্বজনের প্রতিও ভালোবাসা থাকে মুমিনদের। কারণ এই ভালোবাসা পবিত্র ও সুন্নত। পবিত্র কোরআনের অনেক জায়গায় বাবা-মার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্যের নির্দেশ এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না এবং বাবা-মার সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন; তবে তাঁদেরকে ‘উফ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং তাদের সঙ্গে বল শিষ্টাচারপূর্ণ কথা। (সুরা বনি ইসরাইল: ২৩)

পরিবার পরিজনের প্রতি অনেক ভালোবাসা ছিল রাসুলুল্লাহ (স.)-এর। এ প্রসঙ্গে হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর তুলনায় পরিবার-পরিজনের প্রতি অধিক স্নেহ-মমতা পোষণকারী আর কাউকে দেখিনি।’ (আদাবুল মুফরাদ: ৩৭৬)
‘রক্ত সম্পর্কিত আত্মীয়তা (রহমানের সাথে মিলিত) ঢালস্বরূপ। যে ব্যক্তি এর সাথে সম্পর্ক জুড়ে রাখে, আমি তার সাথে সম্পর্ক জুড়ে রাখি। আর যে লোক তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে আমি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি।’  (বুখারি: ৯ম খণ্ড, অ: আচার-ব্যবহার পৃ: ৩৯৮)

হাদিসে আরও রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে আমার সুন্নতকে ভালোবাসে সে অবশ্যই আমাকে ভালোবাসে, আর যে আমাকে ভালোবাসে সে জান্নাতে আমার সঙ্গেই থাকবে (নাসায়ি শরিফ)।’ নবীজি (স.) বলেন: ‘সর্বোত্তম আমল হলো আল্লাহর জন্য ভালোবাসা।’ (আবু দাউদ)

রাসুলুল্লাহ (স.) প্রায়ই এই দোয়া করতেন যে, ‘হে আল্লাহ! আপনার ভালোবাসা চাই, আপনার ভালোবাসার জনের ভালোবাসা চাই; আর সে আমল করার তৌফিক চাই, যে আমল করলে আপনার ভালোবাসা লাভ করা যায়।’ (মুআত্তা মালিক)

আবার, মুমিনের জন্য শোভনীয় নয় যে, তারা মুমিন মুসলমান ব্যতিত অমুসলিম কিংবা অবিশ্বাসীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করবে। আল্লাহ ও তার রাসুলের দুশমনরা কখনোই মুমিনের বন্ধু হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তাদের (অবিশ্বাসী ও অকৃতজ্ঞদের) ভালোবাসো কিন্তু তারা তোমাদের ভালোবাসে না। আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা (মুমিনরা) আল্লাহকে ভালোবাসে (সুরা মায়েদা: ৫৪)।

তবে, সতর্ক থাকতে হবে যে, কোনোভাবেই যেন অমুসিল কিংবা অবিশ্বাসীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার বা রুক্ষ আচরণ করা না হয়। সামাজিকভাবে তাদেরকে হেয় করা কিংবা তাদের প্রতি খারাপ আচরণ করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রেম-ভালোবাসার ক্ষেত্রে সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএম

Small Banner