Agaminews
Dr. Neem Hakim

করোনায় মৃত ২০ হাজার ছাড়িয়েছে


আগামী নিউজ | নয়াদিগন্ত প্রকাশিত: মার্চ ২৬, ২০২০, ১২:২৪ পিএম
করোনায় মৃত ২০ হাজার ছাড়িয়েছে

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে দুনিয়াজুড়ে মৃতের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে চার লক্ষাধিক। গতরাত ১২টা পর্যন্ত জরিপ পর্যালোচনাকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওমিটার-এর তথ্য অনুসারে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার ৪৯৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন এক লাখ ১৩ হাজার ৯৪ জন। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারীতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৬টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮১ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) দুনিয়াজুড়ে মহামারী ঘোষণা করে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও ওয়ার্ল্ড ওমিটার্সের।
ওয়ার্ল্ড ওমিটারের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা চীনে। সেখানে মোট ৮১ হাজার ২১৮ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ২৮১ জনের। তবে মৃতের হিসেবে চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে ইতালি। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা সাত হাজার ৫০৩। আর আক্রান্ত হয়েছে ৭৪ হাজার ৩৮৬ জন।
মৃতের হিসাবে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭ হাজার ৬১০। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ৪৩৪ জনের। স্পেনের পর সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ইরানে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ২৭ হাজার ১৭ জন। এর মধ্যে দুই হাজার ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছে ৬০ হাজার ৬৫৩ জন। এর মধ্যে ৮১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০৬ জন। এর মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাকিস্তানে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২২ জন। এর মধ্যে আটজনের মৃত্যু হয়েছে।
নিউ ইয়র্কে করোনার গতি ‘বুলেট ট্রেনের’ চেয়ে বেশি : নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো করে বলেছেন, তার রাজ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বুলেট ট্রেনের চেয়েও বেশি গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এমন অবস্থায় চিকিৎসা সহায়তা চেয়ে গত মঙ্গলবার তিনি বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা আমাদের আশঙ্কার চেয়ে বেশি এবং এর গতি আমাদের চিন্তার বাইরে। নিউ ইয়র্কে ইতোমধ্যেই ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এবং ২৮৫ জন মারা গেছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সঙ্কট মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় সরকার কোনো রাজ্যেই পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে না। অথচ আমাদের কেন্দ্রীয় সহায়তা দরকার এবং সেটা এখনই দরকার।
গভর্নর কুমো জানান, কেন্দ্রীয় সরকার নিউ ইয়র্কে মাত্র চার হাজার ভেন্টিলেটর পাঠিয়েছে যেখানে প্রায় ৩০ হাজার ভেন্টিলেটর দরকার। তিনি অভিযোগ করেন, তোমরা ২৬ হাজার মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছ। তিনি আরো বলেন, নিউ ইয়র্কে যা ঘটছে তা ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয়দের ক্ষেত্রেও তা ঘটবে, সময়ের অপেক্ষা মাত্র। কেন্দ্র থেকে জরুরি ভিত্তিতে আরো বেশি স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ না করলে শিগগরিই নিউ ইয়র্কের হাসপাতাল ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে বলে সতর্ক করেন গভর্নর।
করোনার নতুন কেন্দ্র ‘হতে পারে’ যুক্তরাষ্ট্র : যুক্তরাষ্ট্র নভেল করোনাভাইরাস মহামারী ছড়ানোর নতুন বিশ্বকেন্দ্র হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে ইস্টারের আগেই যুক্তরাষ্ট্র করোনাভাইরাসমুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ডব্লিউএইচওর মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস মঙ্গলবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভাইরাসের নতুন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে হারে ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে তাতে এই সম্ভাবনা জোরালো।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ৮১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবারের আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে নতুন আক্রান্তে ৮৫ শতাংশই ইউরোপ ও আমেরিকায়, যার মধ্যে ৪০ শতাংশই শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
তবে ট্রাম্প আশাবাদ জানিয়ে বলেছেন, ইস্টারের আগেই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সফল হবেন। যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় সচল করতে আগামী মাসের প্রথম দিকের সময়টাকে ‘একটি সুন্দর সময়রেখা’ হিসেবে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র মহামারীটির নতুন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করার পর তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বর্তমান মার্কিন পরিস্থিতি : সামাজিক দূরত্বের মাধ্যমে ভাইরাসটির বিস্তারকে কমিয়ে আনার ১৫ দিনের সময়সীমার প্রায় অর্ধেক সময় পার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সরকারি জনস্বাস্থ্য সংস্থা সিডিসি স্বেচ্ছাসেবক নির্দেশিকা জারি করেছে। প্রেসিডেন্ট বিধিনিষেধ সহজ করার কথা বললেও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা সংক্রমণটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়াকড়ি অব্যাহত রাখার পক্ষে।
উইসকনসিন, ডেলাওয়্যার, ম্যাসাচুয়েটস, নিউ মেক্সিকো, পশ্চিম ভার্জিনিয়া ও ইন্ডিয়ানা স্টেট মঙ্গলবার ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে, যার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট অবরুদ্ধ রাজ্যের সংখ্যা ১৭টিতে উন্নীত হয়েছে। এ দিকে করোনাভাইরাসের মন্দা মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা দুই হাজার কোটি ডলারের একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার বিষয়ে একমত হয়েছেন। এটা এখন সিনেট অধিবেশনে পাস হবে।
মস্কোর পরিস্থিতিও ভয়ঙ্কর : মস্কোতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক অনেক বেশি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক অনেক বেশি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শহরটির মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। গত মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান।
পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত সোবিয়ানির উদ্বেগের সাথে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কার মিল পাওয়া যায়। রাশিয়াজুড়ে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটির বিস্তৃতির পূর্ণাঙ্গ রূপ এখনো ধরা পড়েনি বলে বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু দিন ধরেই ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন।
দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৪৯৫ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে একজনের। ইউরোপের প্রভাবশালী দেশগুলোর তুলনায় এ সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। পুতিন এর আগে ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে’ বলে দাবি করেছিলেন। দেশটির কিছু চিকিৎসক অবশ্য প্রথম থেকেই আক্রান্ত-মৃত্যুর সরকারি হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছিলেন।
ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় মঙ্গলবার রুশ সরকার দেশটির সব নাইটক্লাব, সিনেমা হল ও শিশু বিনোদনকেন্দ্র বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের ২০ শতাংশ যুবক : যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের ২০ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে। প্রায় আড়াই হাজার আক্রান্তকে নিয়ে দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। বয়সভিত্তিক ওই গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বয়স্কদের তুলনায় তরুণরা অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় থাকলেও তারাও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত নয়।গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে ৮৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি।
এ দিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত বাহিনীসংশ্লিষ্ট ১৭৪ জনের দেহে এ ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে।
নিউজিল্যান্ডে জরুরি অবস্থা : করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবে গতকাল মধ্যরাত থেকে সম্পূর্ণ ‘লকডাউন’ শুরু হয়েছে নিউজিল্যান্ডে। প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন দেশজুড়ে এ জরুরি অবস্থা জারি করেন।
নিউজিল্যান্ডে করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তের ঘটনা বেড়ে ২০৫-এ দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ২২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ দিকে দেশটির সরকার সবার জন্য সেল্ফ আইসোলেশন বাধ্যতামূলক করেছে। স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাত থেকে এক মাসের জন্য বন্ধ হয়ে যায় অপ্রয়োজনীয় সেবা, স্কুল ও সব ধরনের অফিস-আদালত।
প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন পার্লামেন্টকে বলেন, ভাইরাসকে তার গতিপথে সামনে আগানো বন্ধ করতে আমরা চার সপ্তাহের জন্য আত্মগোপনে চলে যাবো। পরিস্থিতি ভালো হওয়ার আগে কেউ কোনো ভুল করবেন না, তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যাবে।
লকডাউন চলাকালীন সব অপ্রয়োজনীয় সেবা, পানশালা, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, ব্যায়ামাগার, সুইমিং পুল, জাদুঘর, লাইব্রেরি, খেলার মাঠসহ যেসব স্থানে জনসমাগম ঘটে তা বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া সুপার মার্কেট, হাসপাতাল, ওষুধের দোকান, সার্ভিস স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে।
অস্ট্রিয়ায় আক্রান্ত ৫ হাজার ছাড়াল : অস্ট্রিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটিতে করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩০ জন। অস্ট্রিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি তিরোল প্রদেশে এক হাজার ৩৩৮ জন। রাজধানী ভিয়েনাতে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭৭ জন। গত কয়েকদিনের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ দিকে অস্ট্রিয়ার সরকার জনসাধারণকে ঘরের বাইরে যাওয়ার ওপর যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল সেটি আগামী ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অস্ট্রিয়ার পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
করোনায় ভারতে মৃত বেড়ে ১১ : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ভারতে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে দেশটিতে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১তে। এর মধ্যে দুইজন বিদেশী নাগরিক রয়েছেন। গতকাল বুধবার ভোরে তামিলনাডুতে মৃত্যু হয় ৫৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির। এটি তামিলনাডুতে প্রথম মৃত্যু। মাদুরাইতে করোনা পজিটিভ অবস্থায় ভর্তি ছিলেন ওই ব্যক্তি। তার ডায়াবেটিস ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা ছিল।
বুধবার পর্যন্ত ভারতে এ ভাইরাসের আক্রান্ত হয়েছেন ৫৬২ জন। ১১ মার্চ করোনা ভাইরাসকে মহামারী ঘোষণা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরপর ভারতেও জারি করা হয় বাড়তি সতর্কতা। মঙ্গলবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের ভাষণে বুধবার থেকে দেশ লকডাউনের ঘোষণা দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটাও এক ধরনের কার্ফু। কেউ বাড়ি থেকে বের হতে পারবেন না। এভাবেই করোনাভাইরাস থেকে বাঁচানো সম্ভব। তিনি বলেন, ‘২১ দিন নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে ২১ বছর পিছিয়ে যেতে হবে আপনাদের।’
ফ্রান্সে প্রাণ গেছে ১১০০ লোকের : মহামারী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) বিশ্বব্যাপী প্রাণহানির সংখ্য ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির থাবায় বিধ্বস্ত হয়ে উঠেছে ফ্রান্সের জনজীবন। ইউরোপে করোনার প্রকোপে মৃত্যুর মিছিলে ইতালি-স্পেনের পর এবার আসছে ফ্রান্সের নাম। দেশটিতে মঙ্গলবার নতুন করে ২৪০ জন কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজার ১০০ জন।
ইউরোপের উল্লিখিত তিন দেশে করোনার থাবায় এক দিনে মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৬৬৩ জনের। এর মধ্যে ফ্রান্সে ২৪০ জন ছাড়াও ইতালিতে মারা গেছেন ৭৪৩ জন। স্পেনে ৬৮০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। জাতিসঙ্ঘ সতর্ক করে বলেছে, ভাইরাসটি অঞ্চলটিতে আরো দ্রুত ছড়াতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, উৎপত্তিস্থল চীনের সীমা অতিক্রম করে এর মধ্যে বিশ্বের অন্তত ১৯৭টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। বিশ্বব্যাপী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে চার সহস্রাধিক মানুষ। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যাও এরই মধ্যে ২০ হাজার ছাড়িয়েছে।
লকডাউন না মানায় কলকাতায় গ্রেফতার সহস্রাধিক : করোনাভাইরাস রুখতে বিভিন্ন দেশের মতো ভারতেও শুরু হয়েছে লকডাউন। লকডাউন লঙ্ঘন করায় পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় একদিনে এক হাজারের বেশি লোককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার লকডাউন চালু হওয়ার পরপরই কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা টুইট বার্তায় বলেন, অনুগ্রহ করে করোনা-সংক্রান্ত সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। নিতান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হবেন না। সরকারি বিধি লঙ্ঘন আইনত দণ্ডনীয়।
২৪ ঘণ্টায় স্পেনে মৃত্যু ৩৮৫ জনের : করোনাভাইরাস সংক্রমণে (কোভিড-১৯) ২৪ ঘণ্টায় ইউরোপের দেশ স্পেনে নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ৩৮৫ জনের। এ নিয়ে দেশটিতে ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৬৯৬ জনের। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটার এ তথ্য জানিয়েছে। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় আরো চার হাজার ৫৩৭ জন রোগী কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন জানায় জরিপ সংস্থাটি। স্পেনে মোট ৩৯ হাজার ৬৩৭ জন করোনাভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে তিন হাজার ৭৯৪ জন সুস্থ হয়েছেন।

আগামী নিউজ/নাঈম

Dr. Neem