Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

২ সন্তান রেখে পরকীয়ার টানে গৃহবধু উধাও


আগামী নিউজ | উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২১, ০১:৫২ পিএম
২ সন্তান রেখে পরকীয়ার টানে গৃহবধু উধাও

ছবি: আগামী নিউজ

নীলফামারী: জেলার সৈয়দপুরে দুই শিশু সন্তানকে ফেলে পরকীয়ার টানে অজানার উদ্দেশ্যে উধাও হয়ে গেছে এক গৃহবধূ। ওই গৃহবধূর নাম ইনসানা বেগম। এক সন্তানের জনক রাজমিস্ত্রী সোহেলের সঙ্গে চলে গেছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।

এটি ঘটেছে বোতলাগাড়ী ইউপির পোড়ারহাট সংলগ্ন কিসামত কাদিখোল ডাঙ্গাপাড়ায়। আর ফেলে যাওয়া দুই সন্তানের নাম হলো মনিরা (৪) ও ইমন (২)।

দুধের এই বাচ্চা দুটো চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে মা ঘরে ফেরার আশায়। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েও কোন ফল মিলছে না। উল্টো পরকীয়া প্রেমিকের পরিবার থেকে দেয়া হচ্ছে হুমকি।

থানায় দেয়া অভিযোগে মো. মিন্টু জানান, গত ৯ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার সময় আমার স্ত্রী ইনসানা বেগম ও সোহেল একে অপরের হাত ধরে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। এ সময় এলাকায় বিদ্যুতের লোডশোডিং চলছিলো। এই সুযোগে তারা স্থানীয়দের চোখ ফাকি দিয়ে পালিয়ে যায়। সঙ্গে নিয়ে যায় নগদ এক লাখ ২৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার। সব মিলে প্রায় এক লাখ ৯৮ হাজার টাকা নিয়ে তারা উধাও হয়। ঘটনার কয়েক আগে থেকে সোহেল অযাচিত ভাবে আমার বাড়ির আশে পাশে ঘোরাঘুরি করছিলো। আমি তার সন্দেহজনক ঘোরাফেরা নিয়ে প্রতিবাদ করলে সে আমাকে হুমকি দিয়ে বলে যে, যেকোন দিন সুযোগ পেলেই তোর স্ত্রী ইনসানাকে নিয়ে পালিয়ে যাব। এমন হুমকি দেয়ার সপ্তাহখানেকের মধ্যেই সে আমার স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় সহায়তাকারীসহ চারজনের নামে গত ১০ অক্টোবর থানায় লিখিত অভিযোগ দেই।

অভিযোগপত্রে যাদের নাম দেয়া হয়েছে তারা হলেন সোহেল, আজিবুল, রশিদুল ইসলাম ও সুর্যাতন নেছা। থানায় অভিযোগ দেয়ার পর এএসআই নূর আমীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অথচ থানায় অভিযোগ দেয়ার পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও আসামীদের গ্রেফতারে নেই পুলিশের কোন তৎপরতা।

কথা হয় অভিযোগকারীর চার বছর বয়সী মেয়ে মনিরার সঙ্গে। মনিরা সাফ জানিয়ে দেয় তার মা ইনসানা বেগম রাজমিস্ত্রী সোহেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে।

পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা হয় স্থানীয় নারী নেত্রী খালেদা বেগমের সঙ্গে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সোহেলসহ তারা সবকটা ভাই ব্যাভিচারী ও পরধনলোভী এবং নারী লিপ্সু। সোহেলের বড় ভাই রেজাবুল স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নুরবানুকে বিয়ে করেছে। তার আরেক ভাই রশিদুলও নারী কেলেঙ্কারীর ঘটনায় স্থানীয় শালিস বৈঠকে দোষী সাব্যস্ত হয়ে জরিমানা দেয়। এমনকি তারা স্ত্রীর নামে বদনাম রটিয়ে ফায়দা হাসিল করে।

এলাকাবাসীও খালেদা বেগমের আনিত অভিযোগ সমর্থন করেছেন।

এ বিষয়ে কথা হয় পরকীয়া প্রেমিক সোহেলের বাবা সুলতান আলীর সঙ্গে। তিনিও তার ছেলেদের অসৎ ও অসামাজিক কর্মকান্ডের কথা জানেন বলে জানান। তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন ইউপি চেয়ারম্যান ছাইদুর রহমান সরকার বেচে থাকলে এলাকায় এমন জঘন্য অপরাধ কেউ করার সাহস পেত না। বর্তমানে এলাকায় কোন নীতিবান ও নৈতিক চরিত্রের অধিকারী ভালো মানুষ না থাকায় অনৈতিক কর্মকান্ড বেড়েই চলেছে।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে কথা হয় সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসনাত খানের সঙ্গে। তিনি আগামী নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমার কর্ণগোচরে এখনও আসেনি। বাদী যোগাযোগ করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

আগামীনিউজ/ হাসান